Ram ও rom এর মধ্যে পার্থক্য জেনে নিন
Ram ও rom এর মধ্যে পার্থক্য কি কি সেগুলো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস গুলো কেনার পূর্বে আমাদের জানার দরকার। অনেকে আমরা Ram ও rom কে একই মনে করে থাকি।
পোস্ট সূচীপত্র: যা একদম সঠিক নয়। Ram ও rom এর মধ্যে মধ্যে রয়েছে একটি বিশাল পার্থক্য। চলুন সে পার্থক্যগুলো জেনে নেওয়া যাক।
Ram ও rom এর মধ্যে পার্থক্য
Ram ও rom এর মধ্যে পার্থক্য জানতে চেয়ে প্রায় সার্চ ইঞ্জিনে অনুসন্ধান করে থাকি। যখন আপনি দোকানে একটি স্মার্টফোন ক্রয় করতে যাবেন দোকানদারের মুখ থেকে প্রায় শুনে থাকবেন এই মোবাইল ফোনটির Ram: ২ জিবি, rom: ১৬ জিবি ( উদাহরণস্বরূপ )। বাস্তবে, এখান থেকে বোঝা গেল Ram ও rom আলাদা হার্ডডিস্ক। এদের কাজও ভিন্ন ভিন্ন। Ram ও rom এর মধ্যে পার্থক্য এ জাতীয় লিখিত প্রশ্নগুলো প্রায় ঘুরে ফিরে আসে চাকরির পরীক্ষায় বা বোর্ড পরীক্ষায়। এই আর্টিকেল থেকে আপনি পার্থক্যগুলো একবার জেনে নিলে আপনার আর সন্দেহ থাকবে না।
RAM এর কাজঃ-
- RAM যার পুরো অর্থ হলোঃ- Random Access Memory.
- কোন কারণে বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে গেলে RAM থেকে ডেটা হারিয়ে যায়
- RAM এটা হচ্ছে অ-স্থায়ী মেমরি
- যে সকল ডেটা বা প্রোগ্রাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করতে হয় সেগুলো RAM এ সংরক্ষণ করা হয়
- যে কোন ধরণের ডেটা পড়া অথবা লেখা এই সকল কাজ গুলো RAM এর মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়
- RAM এর স্পীড বেশি
- ডেটা স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বেশি
- এর দাম বেশি
- RAM কাজ করে ( CPU ) এর ক্যাশ-মেমরি মতো, যাকে আমরা প্রাইমারি মেমরি বলে থাকি
- RAM আকারে বড় হয়
- RAM এ কোন ধরণের প্রোগ্রাম দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না
- অতিরিক্ত RAM চিপ কম্পিউটারে সংযোজন করা যায়
- একটা কম্পিউটার কতটা Smoothly রান করবে তা নির্ভর করে RAM এর উপর
- বিভিন্ন সাইজের RAM বাজারে পাওয়া যায় যেমনঃ- 2GB, 4GB, 8GB, 16GB.
ROM এর কাজঃ-
- ROM যার পুরো অর্থ হলোঃ- Read Only Memory.
- বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ROM থেকে ডেটা মুছে না
- ROM এটা হলো স্থায়ী মেমরি
- যে সকল ডেটা বা প্রোগ্রাম পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে না ঐ গুলো ROM এ সংরক্ষণ করা হয়
- ROM এ শুধু মাত্র ডেটা পড়া যায়, লেখা যায় না
- ROM এর স্পীড স্লো
- ডেটা স্টোরেজ ক্যাপাসিটি কম
- এর দাম কম
- ROM কাজ করে ডেটার স্টোরেজ হিসেবে
- ROM আকারে ছোট
- ROM এ প্রোগ্রাম দেয়া হয়, যা ফার্মওয়্যার নামে পরিচিত
- অতিরিক্ত ROM কম্পিউটারে সংযোজন করা যায় না
- একটা কম্পিউটার কতটা Smoothly রান করে তা ROM এর নির্ভর করে না
- বিভিন্ন সাইজের ROM রয়েছে যেমনঃ- 32GB, 64GB, 128GB, 256GB.
কম্পিউটার মেমোরি কি
এতক্ষণ আমরা Ram ও rom এর মধ্যে পার্থক্য জানলাম, এখন আমরা জানব কম্পিউটার মেমোরি কি ?কম্পিউটারের ভিতরে থাকা তথ্য, উপাত্ত, ডেটা, প্রোগ্রাম ইত্যাদি বিষয় গুলো কে যখন কোন ডিভাইসের মাধ্যমে স্থায়ী বা অস্থায়ী ভাবে সংরক্ষণ করা হয় তাকে কম্পিউটার মেমোরি বলে। মেমরির কাজ হচ্ছে ডাটা গুলো সংরক্ষণ করে রাখা এবং যখন প্রয়োজন হবে তা ব্যবহার করা, এখানে বাইনারি বিট ০ এবং ১ ধরা হয়। কম্পিউটার মেমোরি হিসেবে ধরা হয় যেমনঃ- র্যাম, রম, সিডি, ডিভিডি, হার্ডডিস্ক, এসএসডি ইত্যাদি।
কম্পিউটার মেমোরি কয় প্রকার ও কি কি
কম্পিউটার মেমোরি কি জানার পর এখন আমাদের জানতে হবে কম্পিউটার মেমোরি কয় প্রকার ও কি কি ? স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণ এর প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার মেমোরি কে ২ ভাবে ভাগ করা হয়। যথাঃ-
( ক ) প্রাইমারি মেমোরি বা প্রধান মেমোরি
- RAM
- ROM
( খ ) সেকেন্ডারি মেমোরি বা সহায়ক মেমোরি
- Hard Disk
- SSD
- CD
- DVD
- Floppy Disk
- ZIP Disk
- Pen Drive
- Memory Card
- Smart Card
- Magnetic Tape
- Magnetic Drum
- Cache Memory
প্রাইমারি মেমোরি কাকে বলে
কম্পিউটার চলমান অবস্থায় কোন প্রোগ্রাম বা ডেটা অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য যে মেমোরির সাহায্য নেয়া হয় তাকে প্রাইমারি মেমোরি বলা হয়। একে প্রধান মেমোরি নামেও নামকরণ করা যায়। এ মেমোরি দ্রুত গতিতে তথ্য ইনপুট, আউটপুট করে থাকে। বিদ্যুৎ বিছিন্ন বা কম্পিউটার বন্ধ করলে সমস্ত তথ্য মুছে যায়। কম্পিউটারের প্রাইমারি মেমোরি CPU এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মেমরি সেল থেকে এই প্রাইমারি মেমোরি গঠিত।
সহায়ক মেমোরি কাকে বলে
কম্পিউটারে ডেটা প্রসেসিং করার পর প্রধান মেমোরি থেকে ডেটা যখন অন্য মেমোরিতে সংরক্ষণ করা হয় তাকে সহায়ক মেমোরি বলে। একে স্থায়ী মেমোরি বলা হয়। সহায়ক মেমোরির দিয়ে ডেটা বা প্রোগ্রাম এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে বা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ট্রান্সফার করা যায়। ডেটা ট্রান্সফারের কাজ গুলো আমরা Pen Drive দিয়ে করে থাকি। সুতারাং, এখানে Pen Drive হলো সহায়ক মেমোরি। কম্পিউটার মেমোরি কয় প্রকার ও কি কি এই পর্বে আমি প্রধান মেমোরি এবং সহায়ক মেমোরি কোন গুলো তা তুলে ধরেছি।
ভার্চুয়াল মেমোরি কি
যে র্যাম গুলো আমরা ব্যবহার করি সেগুলোর একটা লিমিট থাকে, যখন র্যামের জায়গা ফুরিয়ে যায় তখন তা হার্ডডিস্কে জায়গা করে নেয় যাকে আমরা ভার্চুয়াল মেমোরি বলে থাকি। যখন আমরা সফটওয়্যার ইন্সটল বা কোন কিছু ডাউনলোড করি তখন একপর্যায়ে গিয়ে র্যামের জায়গা ফুরিয়ে যায়। প্রযোজনের অতিরিক্ত কোন কিছু ইন্সটল বা ডাউনলোড করার কারণে কম্পিউটার হ্যাং করে। এ থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন হয় ভার্চুয়াল মেমোরির।
ভার্চুয়াল মেমোরি ব্যবহারের সুবিধাঃ-
- যে কোন ভারি সফটওয়্যার বা গেম ডাউনলোড ব্যবহার করা যায়
- কম্পিউটার স্মুথলি রান করে
- কম্পিউটারের স্পীড বাড়ে, তবে আপনি SSD ব্যবহার করতে পারেন
- ঘন ঘন কম্পিউটার হ্যাং হয় না
ভার্চুয়াল মেমোরি ব্যবহারের অসুবিধাঃ-
- হার্ডডিস্কেরও একটা লিমিট থাকে, এতে হার্ডডিস্কের জায়গা ফুরিয়ে আসবে
- কতটুকু হার্ডডিস্কের জায়গা ব্যবহার হচ্ছে তা বোঝা যায় না
- র্যাম ব্যবহার করলে যে স্পীড পাওয়া যায়, হার্ডডিস্কে ঐ স্পীড পাওয়া যায় না
মেমোরির কাজ কি
আমরা জেনে এসেছি মেমোরির কাজ হলো ডেটা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ করা। কাজের ধরণের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার মেমোরির কাজ কে ৩ ভাবে বিভক্ত করা হয় যথাঃ-
তথ্য সংরক্ষণঃ- মেমোরির মাধ্যমে কম্পিউটারে সংখ্যা, তথ্য, উপাত্ত, প্রোগ্রাম, ছবি, ভিডিও সংরক্ষণ করা হয়।
তথ্য প্রক্রিয়াকরণঃ- CPU এর সাথে সংযুক্ত হয়ে মেমোরি দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে। দ্রুত ডেটা এক্সেস এর জন্য মেমোরির প্রয়োজন হয়।
অ-স্থায়ী তথ্য সংরক্ষণঃ- কম্পিউটারের কাজের সময় আমাদের বিভিন্ন ফাইলে অস্থায়ী তথ্য সংরক্ষণ এর প্রয়োজন পড়ে, এই কাজটি করা হয় মেমোরির মাধ্যমে।
প্রধান মেমোরি ও সহায়ক মেমোরির মধ্যে পার্থক্য
অনেকে প্রধান মেমোরি ও সহায়ক মেমোরির মধ্যে পার্থক্য জানে না। এখন আমি আপনাদের সামনে পার্থক্য গুলো তুলে ধরব। তাহলে আপনি প্রধান মেমোরি ও সহায়ক মেমোরির কাজ গুলো জানতে পারবেন।
প্রধান মেমোরি পার্থক্যঃ-
- CPU এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে
- অ-স্থায়ীভাবে ফাইল সংরক্ষণ করা হয়
- ধারণক্ষমতা কম
- CPU এর সাথে প্রধান মেমোরির একসেস কম
- বিদ্যুৎ বিছিন্ন হলে ( ROM ) অংশে ডেটা সুরক্ষিত থাকে, ( RAM ) অংশে ডেটা হারিয়ে যায়
- প্রধান মেমোরির পার্টস গুলোর দাম বেশি
- অনেকে একে স্থায়ী মেমোরি বলে
- স্পীড বেশি
সহায়ক মেমোরির পার্থক্যঃ-
- CPU এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে না
- স্থায়ীভাবে ফাইল সংরক্ষণ করা হয়
- ধারণক্ষমতা বেশি
- CPU এর সাথে প্রধান মেমোরির একসেস বেশি
- বিদ্যুৎ বিছিন্ন হলেও ডেটা সুরক্ষিত থাকে। সহায়ক মেমোরি মধ্যে রয়েছে যেমনঃ- SSD, DVD, Pen Drive
- সহায়ক মেমোরির পার্টস গুলোর দাম কম
- অস্থায়ী মেমোরির মত মূল্যায়ন করা হয়
- স্পীড কম
লেখকের মন্তব্য - Ram ও rom এর মধ্যে পার্থক্য
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সামনে Ram ও rom এর মধ্যে পার্থক্য নিয়ে খুঁটিনাটি তথ্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। যারা Ram ও rom কে একই মনে করতেন আশা করি তাদের কনফিউশন দূর হয়েছি। একজন সচেতন কম্পিউটার ব্যবহারকারী হিসেবে কম্পিউটারের যে পার্টস গুলো রয়েছে তার ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের জানা প্রয়োজন।
এতক্ষণ ধৈর্য্য ধরে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংধ্য ধন্যবাদ। প্রযুক্তি রিলেটেড আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করার অনুরোধ রইল। সকলের মঙ্গল কামনা করে এখানে শেষ করছি। 09.04.2026



আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url