ই কমার্স ও ই বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য
ই কমার্স ও ই বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য গুলো না জানার কারণে আমরা অনেকে ই কমার্স ও ই বিজনেস কে একই মনে করি। ই বিজনেস এর ক্ষুদ্র অংশ হলো ই কমার্স।
পোস্ট সূচীপত্র: আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি জানতে পারবেন ই কমার্স ও ই বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে বিস্তারিত। সুতরাং, এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
ই কমার্স ও ই বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য
ই কমার্স ও ই বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য আপনাকে জানতে হবে যদি আপনি সফলভাবে অনলাইনে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে চান। আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা হতো এনালগ পদ্ধতিতে কিন্তু ইন্টারনেট প্রযুক্তির বিপ্লব এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রচার প্রসারের কারণে ব্যবসার ধারণা বর্তমানে পাল্টে গেছে। বর্তমানে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে সব জায়গায় একসঙ্গে ব্যবসায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।
আর এই বিপ্লবের মূলে রয়েছে ই বিজনেস। ই বিজনেস এর মাধ্যমে মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট এরিয়ার বাহিরে খুব দ্রুত তাদের ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছে। ই কমার্স ও ই বিজনেস শুনতে একই মনে হলেও এদের মধ্যে রয়েছে মৌলিক পার্থক্য যা এগুলোকে একে অপরের থেকে আলাদা করেছে। এখন আমরা জানবো ই কমার্স ও ই বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য গুলো সম্পর্কে।
ই কমার্স এর পার্থক্য:
- ই-কমার্স এর আওতা পণ্য বা সেবা ক্রয় - বিক্রয় এরমধ্যে সীমাবদ্ধ।
- ই কমার্স এর পরিধি ছোট
- এখানে বাণিজ্যিক লেনদেনগুলো সম্পাদন করা হয়।
- বাণিজ্যিক লেনদেনগুলো এখানে সীমিত পর্যায়ে হয়ে থাকে।
- ব্যবসায়ে নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো ই-কমার্স এর আওতাভুক্ত নয়।
- অনলাইনে আর্থিক লেনদেন বা পণ্য ক্রয় - বিক্রয় এর আওতাভুক্ত।
- ই কমার্স এটা পরিচালিত হয় বিজনেস টু কাস্টমার ( B2C )
- ব্যবসায়ের বাহ্যিক বিষয়গুলো ই-কমার্স এর মধ্যে পড়ে।
ই বিজনেস এর পার্থক্য:
- ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে যাবতীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পাদন করা এবং নিয়ন্ত্রণ করা কে ই বিজনেস বলে।
- ই বিজনেস এর পরিধি অনেক বড়
- এখানে ব্যবসায়িক লেনদেনগুলো পরিচালনা করা হয়।
- ব্যবসায়িক লেনদেনগুলো বৃহৎ পরিসরে সম্পাদন করা হয়ে থাকে।
- ব্যবসায়ে যেকোনো ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত ই বিজনেস এর আওতাভুক্ত।
- কাঁচামাল সরবরাহ, গ্রাহকের সন্তুষ্টি, বাজারজাতকরণ ইত্যাদি কাজগুলো অনলাইনের মাধ্যমে সম্পাদন করা ই বিজনেস এর আওতাভুক্ত।
- ই বিজনেস এটা পরিচালিত হয় বিজনেস টু বিজনেস ( B2B )
- ব্যবসায়ের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়গুলো ই-বিজনেস এর মধ্যে পড়ে।
ই কমার্স কি
ই কমার্স দ্বারা ইলেকট্রনিক্স কমার্স কে বুঝায়। অর্থাৎ, ইন্টারনেটের মাধ্যমে একজন কাস্টমার অনলাইন থেকে পণ্য ক্রয় করতে পারে অনুরূপভাবে একজন বিক্রেতা ইন্টারনেট প্রযুক্তি মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ( youtube, ফেসবুক, ওয়েবসাইট ) ব্যবহার করে প্রোডাক্ট সেল করতে পারে। আগেকার সময়ে ব্যবসা গুলো ছিল এলাকা কেন্দ্রিক। কিন্তু ই কমার্স এর কল্যাণে ব্যবসা গুলো এখন
দেশে বা বিদেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ই-কমার্স এর মাধ্যমে আপনি যেকোনো ধরনের পণ্য সেল করতে পারেন যেমন: জামা কাপড়, কারেন্টের পণ্য, বাসায় তৈরি করা খাবার, মৌসুমী ফল সহ আরো অন্যান্য। গোটা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে: অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট, আলিবাবা ইত্যাদি। ই কমার্স কে ৩টি মডেলে বিভক্ত করা হয় যেমন:
B2C: বিজনেস টু কনজিউমার। এখানে একজন ব্যবসায়ী সরাসরি গ্রাহকের নিকট পণ্য বিক্রি করে। বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যেমন: বাংলাদেশের দারাজ, অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট ইত্যাদি এই প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি কাস্টমারের নিকট পণ্য বিক্রি করে।
আরো পড়ুনঃ- ফ্রিতে 500 টাকা ইনকাম নগদ পেমেন্ট ( আপডেট তথ্য ) জানুন
B2B: বিজনেস টু বিজনেস। এখানে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্য আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিকট পণ্য বিক্রি করে। যেমন: ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ক্রয়। অর্থাৎ, পাইকারি বিক্রেতা থেকে খুচরা বিক্রেতা।
C2C: কনজিউমার টু কনজিউমার। এখানে একজন ভোক্তা তার পণ্য আরেকজন ভোক্তার নিকট বিক্রি করে। যেমন: bikroy.com এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তার পুরাতন পণ্য আরেকজন কাস্টমারের নিকট বিক্রি করতে পারে।
ই-কমার্স এর বৈশিষ্ট্য সমূহ
এতক্ষণ আমরা জেনেছিই কমার্স ও ই বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে। এখন আমরা জানব ই-কমার্স এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে। ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একে অন্যদের থেকে পৃথক করেছে। ই-কমার্স এর বৈশিষ্ট্য গুলো হলো:
- ই-কমার্স এর মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট জায়গায় বসে দেশে বা বিদেশের যে কোন প্রান্তে ব্যবসায়িক কার্যক্রম কোনো প্রকার সমস্যা ছাড়া পরিচালনা করতে পারে। ফলে বৃহত্তর অডিয়েন্স কে টার্গেট করা সহজ হয়।
- গ্রাহকরা ইচ্ছামতো সময়ে তাদের পণ্যে অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় করতে পারে।
- ওই পণ্য বা সেবা সম্পর্কে একজন গ্রাহক তার এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করতে পারে। গ্রাহকরা তাদের নিজস্ব মতামত দেওয়ার সুযোগ পাই। এতে করে একজন বিক্রেতা বুঝতে পারে তার পণ্যের মান কোথায় কতটুকু উন্নত করতে হবে সে ব্যাপারে।
- এখানে হাতে হাতে নগদ টাকা পেইড করার কোন সুযোগ নেই। এখানে একজন কাস্টমার সরাসরি ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পেমেন্ট করে অথবা বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পেমেন্ট করে থাকে।
- এখানে ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট প্রসেস উন্নত হওয়ার কারণে একজন বিক্রেতা বুঝতে পারে তার কতটা পণ্য স্টক রয়েছে এবং কতটা পণ্য স্টক রাখা জরুরী এই বিষয়ে একটি ক্লিয়ার ধারণা পায়। ফলে কম বা অতিরিক্ত পণ্য মজুদ নিয়ে কোন জটিলতা তৈরি হয় না।
- এখানে ডেটা এনালিটিক্স সিস্টেমের মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী গ্রাহকের রুচি অরুচি সম্পর্কে অবগত হয়। গ্রাহকের চাহিদা সম্পর্কে তার একটি স্বচ্ছ অভিজ্ঞতা লাভ করার সুযোগ হয়। সে অনুযায়ী সে প্রডাক্টের গুণগতমান উন্নত করতে সক্ষম হয় এবং সঠিক মার্কেটিং কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে অধিক পরিমাণে সেল বৃদ্ধি করতে পারে।
ই বিজনেস কি
ই বিজনেস দ্বারা ইলেকট্রনিক্স বিজনেস কে বোঝানো হয়েছে। এখানে শুধু পণ্য কেনা বা বিক্রি নয়, অনলাইনের মাধ্যমে পুরো ব্যবসায়িক কার্যক্রম ই বিজনেস এর মধ্যে পড়ে। ই বিজনেস এর মধ্যে ব্যবসায়িক সকল স্তরে কার্যক্রম জড়িত। ই বিজনেস এর মধ্যে জড়িত রয়েছে: অনলাইনে দোকান তৈরি, গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করা, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম, আর্থিক লেনদেন
আরো পড়ুনঃ- ফ্রি লটারী খেলে টাকা ইনকাম ১৭টি অ্যাপস ও ৮টি ওয়েবসাইট
ঠিকঠাক রাখা, পন্য অর্ডার করা, পণ্য সরবরাহ করা, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পাদন করা ইত্যাদি। ই বিজনেস এর মূল উদ্দেশ্য হলো: কিভাবে অল্প টাকা খরচ করে লাভজনক নামে পণ্য বিক্রি করা যায়। অনলাইনে ই বিজনেস এর পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় ERP, CRM সফটওয়্যার ব্যবহার করে। ERP মানে হলো: enterprise resource planning. CRM মানে হলো: customer relationship management.
ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা
বর্তমানে বাংলাদেশে ই কমার্স অনেক জনপ্রিয় হচ্ছে। সেই সাথে এর কিছু সুবিধা এবং অসুবিধে রয়েছে যেগুলো আমরা জানবো। ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসা কেনাকাটা করা একদিকে যেমন জীবনকে সহজ করেছে অন্যদিকে এর কিছু নেতিবাচক প্রভাব গ্রাহকদের উপর গিয়ে পড়ছে। এখন আমরা ই কমার্স এর সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ই কমার্স এর সুবিধা:
অল্প বাজেট: এনালগ পদ্ধতিতে বিজনেস শুরু করলে এককালীন দোকানের সেলামি দেওয়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি তে বাজেট অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু অনলাইনে ব্যবসার দাড় করালে এ ধরনের খরচ গুলো হয় না। ফলে অল্প বাজেটে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হয়। বিক্রেতারা ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে তাদের পণ্যগুলো কাস্টমারদের নিকট প্রদর্শন করে। ফলে অল্প খরচে বেশি লাভ করা সম্ভব হয়।
সহজে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা: ই কমার্স পদ্ধতিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোন দোকানের প্রয়োজন হয় না এবং প্রতিদিন দোকানে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। আপনার কাছে একটি ওয়েবসাইট অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন youtube/facebook ব্যবহার করে আপনি আপনার পণ্যগুলো সেল করতে পারবেন। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষদেরকে আপনি টার্গেট করতে পারবেন।
অডিয়েন্স টার্গেট: এনালগ পদ্ধতিতে ব্যবসা করার কারণে নিজ এলাকার কাস্টমারদের বাহিরে অন্য এলাকার কাস্টমারদের টার্গেট করা সম্ভব হতো না। আপনি যখন ই কমার্স পদ্ধতিতে ব্যবসা করবেন তখন একসঙ্গে বিশাল সংখ্যক কাস্টমারদের টার্গেট করতে পারবেন।
সব সময় দোকান খোলা রাখা যায়: এনালগ পদ্ধতিতে ব্যবসা করলে দিনের নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ব্যবসা বন্ধ রাখার প্রয়োজন হয়। কিন্তু ই কমার্স পদ্ধতিতে ব্যবসা করলে দিনে ২৪ ঘন্টা সপ্তাহে ৭ দিন পণ্য বা সার্ভিস সেল করার সম্ভব হয়। এটা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম কে আরো গতিশীল করতে সক্ষম। কাস্টমাররা যেকোনো সময় তাদের পণ্য অর্ডার করতে পারে এবং বিক্রেতারা তাদের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্ট যেকোনো ধরনের আপডেট যেকোনো সময় পরিবর্তন করতে পারেন।
কাস্টমারের সময় সাশ্রয়: অনলাইনে ব্যবসা দাঁড় করানোর কারণে কাস্টমাররা নিজেদের ইচ্ছা মত যে কোন সময় পণ্য বা সার্ভিস অর্ডার করতে পারে। এতে এক দিকে যেমন সময় সাশ্রয় হচ্ছে অন্যদিকে দোকানে গিয়ে পণ্য কেনাকাটার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
গ্রাহকের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি: এ পদ্ধতিতে পুনরায় গ্রাহকদের পণ্য ক্রয়ে উৎসাহ দেওয়া যায়। যদি আপনি কাস্টমারদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হন। ই-কমার্স পদ্ধতিতে আপনি পুনরায় একজন গ্রাহককে আপনার দোকান থেকে পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। এজন্য আপনার মার্কেটিং কৌশল অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং যুগোপযোগী হতে হবে।
প্রোডাক্ট রিভিউ: ই কমার্স পদ্ধতিতে প্রোডাক্ট এর গুণগতমান যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে এবং কাস্টমারদের সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টি যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রোডাক্ট এর রিভিউ করে কাস্টমাররা বুঝতে পারে ওই পণ্যটি তার জন্য উপযোগী কিনা। ফলে বিক্রেতারা তাদের পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধিতে কাজ করতে পারে। ফলে বিক্রেতা এবং কাস্টমার এর মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।
ই কমার্স এর অসুবিধা:
আর্থিক লেনদেন ইস্যু: যখন আপনি পণ্য বা সার্ভিস অর্ডার করবেন তখন এখানে আপনার কিছু ব্যক্তিগত তথ্য এবং ডিজিটাল পেমেন্ট মেথড ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। এটা অনলাইন কেন্দ্রিক হওয়ার কারণে হ্যাকারদের আক্রমণ, ভুয়া লেনদেন এর আশঙ্কা রয়েছে। যা একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ীর আর্থিক ক্ষতির অন্যতম মূল কারণ এবং চ্যালেঞ্জও বটে। ফলে অনলাইনে পণ্য বা সার্ভিস কেনাকাটার উপর মানুষের অবিশ্বাস জন্ম নেয়।
অতিরিক্ত প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল: ই কমার্স ব্যবসা পুরোপুরি অনলাইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত হয়। যদি কোন কারনে সার্ভার ডাউন থাকে, ইন্টারনেট না থাকে, পেমেন্ট সিস্টেমে যদি সমস্যা দেখা যায় তাহলে পুরো ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেমে যায়। যদি ব্যবসা বড় হয় তাহলে হাজার হাজার বা লাখ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
আরো পড়ুনঃ- মোবাইল দিয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ইনকাম বিকাশ নগদ বা রকেটে পেমেন্ট
প্রতিযোগীদের সংখ্যা বেশি: ই কমার্স ব্যবসায় প্রতিযোগীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ফলে কাস্টমারদের আকৃষ্ট করার জন্য বা ধরে রাখার জন্য ব্যবসায়ীরা ডিসকাউন্ট মূল্যে পণ্য বা সার্ভিস সেল করে। এতে করে ব্যবসার লাভ কমে যায়। মার্কেটিং করার জন্য স্ট্রং মার্কেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হচ্ছে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এক পর্যায়ে দেখা যায় লাভ এর চাইতে খরচ বেশি হওয়ার কারণে ই কমার্স ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো: অনলাইনে পণ্য বা সার্ভিস কেনাকাটা নিয়ে মানুষের মনে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে পণ্যের গুণগতমান যাচাই করার সুযোগ হয় না সরাসরি, অনলাইনে পণ্যের দাম বেশি, পণ্য ডেলিভারি করতে সময়ের প্রয়োজন হয়, অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঠিকমতো পণ্য ডেলিভারি করে না ইত্যাদি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনলাইনে ব্যবসার প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
অতিরিক্ত ডেলিভারি চার্জ: অনলাইনে একটি ছোট পণ্য অর্ডার করলেও ডেলিভারি চার্জ পণ্যের মূল্যের চাইতে বেশি হওয়ার কারণে তা গ্রাহকের অসন্তুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে করে কাস্টমাররা ওই পন্য কিনতে চায় না। যা একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
লেখকের মন্তব্যঃ ই কমার্স ও ই বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ আমি এই আর্টিকেলে ই কমার্স ও ই বিজনেস এর মধ্যে পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা ই কমার্স ও ই বিজনেস এর মধ্যে কি কি পার্থক্য জেনে গেছেন। চাকরির পরীক্ষা সহ বড় বড় বোর্ড পরীক্ষায় ই কমার্স কি ? ই বিজনেস কি ? এই ধরণের প্রশ্ন এসে থাকে। আশা করি আপনি এতক্ষণে উত্তরটি পেয়ে গেছেন।
এই ধরণের সুন্দর সুন্দর ব্লগ আর্টিকেল আরো পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করার অনুরোধ রইল। সকলের মঙ্গল ও সুস্থতা কামনা করে আজ এখানে শেষ করছি। 10.05.2026

আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url