শিক্ষার্থীদের ওপর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল ও কুফল
শিক্ষার্থীদের ওপর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল ও কুফল আসুন জেনে নেওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা যেভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে তার উদ্বেগজনক, তবে এর কিছু সুফল দিক রয়েছে। এই আর্টিকেল থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল ও কুফল উভয় দিক সম্পর্কে জানব।
পোস্ট সূচীপত্র: আপনারা যারা শিক্ষার্থীদের ওপর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল ও কুফল দিক জানার জন্য ইন্টারনেটে সার্চ করেছেন তারা আর্টিকেলটি পড়ুন।
শিক্ষার্থীদের ওপর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল ও কুফল
মোবাইল ফোন বর্তমান প্রজন্মের নিকট অতি প্রয়োজনীয় একটি ডিভাইস। যে ডিভাইস ছাড়া বর্তমানে এক মুহূর্ত কল্পনা করা যায় না। আগেকার সময় ছিল চিঠির যুগ, এখন চিঠির যুগের বিকল্প হিসেবে মোবাইল ফোন মানুষের হাতে হাতে। আগেকার সময়ে মানুষ যোগাযোগের জন্য চিঠি ব্যবহার করত কিন্তু এখন চিঠির
পরিবর্তে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। এসব সবই সম্ভব হয়েছে উন্নত বিশ্ব এবং আধুনিক সভ্যতার কারণে। মোবাইল ফোনের ভালো এবং মন্দ উভয় দিক রয়েছে। সন্তানের অভিভাবক হিসেবে অথবা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অথবা একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ওপর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল ও
কুফল দিক আমাদের জানা প্রয়োজন। তাহলে আমরা সতর্ক হয়ে এই ডিভাইস ব্যবহার করতে পারব। আমরা যখন সচেতন ভাবে এই ডিভাইস ব্যবহার করব তখন আমরা শারীরিক এবং মানসিক এবং জ্ঞানের জায়গা থেকে লাভবান হব। অন্যদিকে যখন আমরা অনিয়ন্ত্রিত, বেপরোয়া ভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করব তখন
আমরা সার্বিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হব এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষার্থীদের উন্নত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তারা মোবাইল ফোন কিভাবে, কতটুকু, কখন ব্যবহার করবে তা তাদের জানা প্রয়োজন। যাতে তাদের লেখাপড়ার ক্ষতি না হয় এবং এই মোবাইল ফোনের কারণে তাদের ক্যারিয়ারে যেন কোনরকমের বিপদজনক মুহূর্ত না আসে। শিক্ষার্থীদের ওপর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল ও কুফল দিকগুলো আমাদের জানতে হবে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল দিক গুলো: এখন আমরা জানব।
- ইউটিউবে গাণিতিক টিউটোরিয়াল ভিডিও গুলো দেখে সে বিভিন্ন গাণিতিক সমস্যার সমাধান নিতে পারছে।
- মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে যা তার যাতায়াত ভাড়া এবং সময় উভয় বেঁচে যাচ্ছে।
- বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা আবেদন এবং বোর্ডের রেজাল্ট দেখা, স্কুল বা কলেজের ভর্তির আবেদন এগুলো এখন মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে করা সম্ভব হচ্ছে।
- বিশ্বের বড় বড় লেখকদের বইগুলো ই-বুকের পিডিএফ ফাইল গুলো ডাউনলোড করে পড়তে পারছে।
- শিক্ষামূলক বিভিন্ন অ্যাপ রয়েছে যে অ্যাপের মাধ্যমে তারা তাদের প্রয়োজনের তথ্য এবং সেবাগুলো নিতে পারছে।
- তাদের অনলাইন কমিউনিকেশন স্কিল স্ট্রং হচ্ছে। ফলে তারা শিক্ষক এবং বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে।
- যেকোনো ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে কিভাবে কন্টাক্ট করতে হয় তারা মোবাইলে ফোনের মাধ্যমে শিখছে। যা বাস্তব জীবনে কাজ দিচ্ছে।
- অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি রয়েছে যা তারা মোবাইলের মাধ্যমে সেগুলো সম্পর্কে জানতে এবং শিখতে পারছে।
- শিক্ষার্থীদের ক্রিয়েটিভিটি, সৃজনশীল বিদ্যা আরো সমুন্নত এবং উন্নত হচ্ছে।
- একজন শিক্ষার্থী কোন কিছু তৈরি করতে চাচ্ছে কিন্তু সে কোন আইডিয়া পাচ্ছে না, মোবাইল ফোনে সার্চ দিলে সেগুলো চলে আসছে এতে সে আইডিয়া পাচ্ছে এবং সে অনুযায়ী সে তার কার্য পরিচালনা করতে পারছে।
- অনেক শিক্ষার্থী মোবাইলের সাহায্যে ফ্রিল্যান্সিং অথবা ফেসবুকে বিজনেস পেজ খুলে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের কুফল দিক: অনিয়ন্ত্রিতভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন এর কুফল দিক আপনাকে ভোগ করতে হবে, সেগুলো হলো:
- জীবনে সময় হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অহেতুক মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে সময়ের অপচয় হচ্ছে।
- অফলাইনে মানুষের সাথে যোগাযোগ করার দক্ষতা হারিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মিশুক হওয়ার পরিবর্তে একগুঁয়ে হচ্ছে।
- পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে।
- ব্যক্তিগত জীবনে কর্ম ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে।
- মানব মস্তিষ্ক/ব্রেইন অকেজো হয়ে পড়ছে, অতিরিক্ত মোবাইল চালানোর কারণে।
- স্মরণশক্তি, জ্ঞানশক্তি নষ্ট হচ্ছে।
- দীর্ঘক্ষণ সময় ধরে মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে যাচ্ছে।
- গেম বা বিনোদন সাইটের দিকে আসক্তির কারণে ঘুমের সমস্যা হচ্ছে।
- খাবারে অনীহা, শারীরিক এবং মানসিক ক্লান্তি দেখা দিচ্ছে ।
- যারা দীর্ঘক্ষন ধরে ফোন ব্যবহার করে তারা আক্রমণাত্মক বা উগ্র স্বভাবের হয়ে থাকে।
- ব্রেইনের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে তারা জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়।
- মোবাইল ব্যবহার করে পরীক্ষার হলে নকল করার প্রবণতা বাড়ে।
- অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন একটি পোস্ট দেওয়ার কারণে সাইবার বুলিং এর স্বীকার হচ্ছে যা থাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
- মোবাইল ফোনে নোংরা বা অশ্লীল বিনোদন দেখার কারণে তারা শারীরিক এবং মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
- শিক্ষার্থীরা বিনা কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন: facebook, ইউটিউবে দিনের ৪/৫ ঘন্টা সময় ব্যয় করছে। এগুলো তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার পেছনে প্রতিবন্ধকতা হয়ে থাকবে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর ৫টি দিক
মাদক বা নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে আমরা যেমন দূরে থাকি অনুরূপভাবে অপ্রয়োজনীয় বা অহেতুক মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে আমাদের দূরে থাকা প্রয়োজন। মাদক যেমন শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুরূপভাবে মোবাইল ফোন একজন ব্যক্তির শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অনেকে মোবাইল ফোনকে মাদকের সাথে তুলনা করে। এখন আমরা জানবো মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর ৫টি দিক সম্পর্কে:
- মোবাইলে হচ্ছে বর্তমানে পরকীয়ার বস্তু। এই মোবাইল ফোন মিস ইউজ করার কারণে অনেকের সুখী সমৃদ্ধি দাম্পত্য জীবন ভেঙ্গে যাচ্ছে।
- আচরণের পরিবর্তন। মোবাইল ফোন মিস ইউজ করার ফলে মানুষ ক্রাইম জগতে খুব দ্রুত প্রবেশ করছে এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।
- মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য বিল্ডিং বা ফসলি জমির পাশে বড় বড় ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন টাওয়ার স্থাপন করা হচ্ছে যার ফলে ফসলের জমিতে ফসল কমে যাচ্ছে, গাছে ফুল ফল কম হচ্ছে, পাখিরা বসবাসের জন্য উপযুক্ত বাসস্থান হারাচ্ছে। পাশাপাশি এটা মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করছে।
- হার্ট স্ট্রোক, ক্যান্সার, টিউমার, ডায়াবেটিস অর্থাৎ শারীরিক যত ধরনের রোগ আছে সেগুলো মানবদেহে বাসা বাঁধছে।
- অল্প বয়সের যুবক-যুবতীরা অবাধ যৌনাচারে মেতে উঠেছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। অশ্লীল ভিডিও কন্টেন্ট গুলো যুবক-যুবতীদের তাদের মনকে নোংরা করে দেয়।
- অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহার মানুষকে পঙ্গুত্ব, অন্ধত্ব এর দিকে ধাবিত করছে।
- অনেকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে ড্রাইভিং করছে, রাস্তা পার হচ্ছে, এর ফলে অ্যাক্সিডেন্টের ঝুঁকি বাড়ছে।
- মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক, উদ্বেগ, সুইসাইড, ডিপ্রেসন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব কলহ, বদ মেজাজি ভাব আশঙ্কা জনক ভাবে বাড়ছে মোবাইলের কারণে।
স্মার্টফোন ব্যবহারের সুবিধা অসুবিধা
স্মার্টফোন ব্যবহারের সুবিধা অসুবিধা রয়েছে। এখন সুবিধা কোনগুলো এবং অসুবিধা কোনগুলো এগুলো আমাদের জানা দরকার।
স্মার্টফোন ব্যবহারের সুবিধা: স্মার্ট ফোন মানব জীবনে যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন সব জায়গাতে এক ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সেগুলো আমরা এখন ধারাবাহিকভাবে জানবো।
দ্রুত যোগাযোগ: আগেকার সময়ে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল চিঠি। এই চিঠি একজন ব্যক্তি থেকে অন্য জন ব্যক্তির নিকট পৌঁছাতে সপ্তাহ এমনকি মাস লেগে যেত। কিন্তু স্মার্ট ফোন এর কল্যাণে আমরা সরাসরি ভিডিও কল, অডিও কল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে টেক্সট করে মুহূর্তে খবর ছড়িয়ে দিতে পারে। কোথাও কোনো এক্সিডেন্ট ঘটেছে মুহূর্তে আমরা ফোনে কল দিয়ে পুলিশের নিকট থেকে সহযোগিতা নিতে পারছি, যা স্মার্ট ফোন পূর্ববর্তী যুগে সম্ভব ছিল না।
দ্রুত তথ্য পাওয়া: এখন তথ্য দ্রুত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে মুহূর্তের মধ্যে। ইন্টারনেটের কল্যাণে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার খবর আমরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছি। এর ফলে গোটা বিশ্বের আপডেট তথ্য আমরা খুব সহজে পেয়ে যাচ্ছি।
লাইভ ভিডিও: কোথাও কোন ঘটনা ঘটলে সেটা আমরা স্মার্টফোন দিয়ে লাইভ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে দিতে পারছি। ফলে মানুষ সেগুলো দেখছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার: স্মার্ট ফোন দিয়ে ইন্টারনেট কানেকশন করে আমরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন: গুগল, ইউটিউব, facebook, জিমেইল, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারছি। যা বাটন ফোন দিয়ে সম্ভব ছিল না।
ফটো সেশন: স্মার্ট ফোন দিয়ে আমরা নিজেদের ছবি তুলতে পারি। তাছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য যেমন: চিড়িয়াখানায় বাঘ/ভাল্লুকের ছবি, সমুদ্র সৈকতের অপরূপ দৃশ্যমান ছবি আমরা মোবাইলের ক্যামেরাতে বন্দি করতে পারছি। আমরা স্মার্ট ফোন দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত ফটোশুট করতে পারি। যা বাটন ফোন দিয়ে সম্ভব ছিল না।
অনলাইন ইনকাম: স্মার্টফোনগুলো এখন টাকা পয়সা ইনকামের বিশ্বস্ত মাধ্যম হয়ে উঠেছে। স্মার্ট ফোন দিয়ে ব্লগ আর্টিকেল লিখে, ইউটিউবে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে, ফেসবুকের মাধ্যমে বিজনেস পরিচালনা করে অর্থ ইনকাম করা যায়। অনেকে স্মার্টফোন ব্যবহার করে বৈদেশিক মুদ্রা ডলার ইনকাম করছে। ওয়েবসাইটে ব্লগ আর্টিকেল লিখে বা ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করে গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
আরো পড়ুনঃ- গল্প লেখা সাইটের লিংক টাকা ইনকাম বিকাশে পেমেন্ট নিন খুব সহজে
শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রযাত্রা: স্মার্টফোনের মাধ্যমে আপনি অজানা বিভিন্ন বিষয়ে গুগলে সার্চ করে জেনে নিতে পারছেন। বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষার রেজাল্ট স্মার্টফোনের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারছেন। স্কুল, কলেজ বা ইউনিভারসিটির নোটিশ বোর্ড স্মার্টফোনের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছেন। অনলাইনের পাঠদান ক্লাস গুলো স্মার্টফোনের মাধ্যমে সম্পাদন করতে পারছেন।
বিনোদন: স্মার্টফোনগুলো এখন বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। যদিও এর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। হালকা বিনোদন মানুষকে মানসিক চাপ, হতাশা থেকে রক্ষা করে।
সার্বিক নিরাপত্তা: অনেক স্মার্টফোনে লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু আছে। যার মাধ্যমে আপনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়। বিশেষ করে যারা মহিলা তাদের জন্য স্মার্টফোনের এই লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেমটি খুবই কার্যকর।
মিটিং এর আয়োজন: এই মুহূর্তে একটি জরুরী মিটিং এর প্রয়োজন যা অফলাইনে সরাসরি গিয়ে করা সম্ভব না। আপনি স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে জুম অ্যাপ এর মাধ্যমে সরাসরি মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারছেন।
অনলাইনে কেনাকাটা: আপনি এখন এমন একটি পণ্য চাচ্ছেন যা বাজারে নেই, ওই পণ্যটি বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। আপনি স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে উক্ত পণ্যটি ক্রয় করে নিতে পারছেন। যেমন: স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনেকে দারাজ থেকে পণ্য ক্রয় করে।
স্মার্টফোন ব্যবহারের অসুবিধা: স্মার্টফোন ব্যবহারে একদিকে যেমন সুবিধা রয়েছে অন্যদিকে কিছু অসুবিধা রয়েছে যা আমাদের জানা প্রয়োজন।
- অতিরিক্ত মাত্রায় স্মার্টফোন ব্যবহার করলে মাথা ব্যাথা, চোখ ব্যথা, শারীরিক এবং মানসিক অবসাদ দেখা দেয়।
- স্মার্টফোনের রেডিয়েশন এটা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
- স্মার্টফোনের আসক্তি মানুষকে একাকীত্ব, হতাশার দিকে ধাবিত করে।
- স্মার্টফোনে ভিডিও দেখা, গেম খেলা, চ্যাট করা ইত্যাদি এ সকল কাজগুলো একজন মানুষের জীবন থেকে মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট করে দেয়। এতে মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য লক্ষহীন হয়ে যায়।
- অনেকেই স্মার্ট ফোনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন: ভোটার আইডি কার্ড, আর্থিক লেনদেনের প্রতিবেদন, নিজের এবং পরিবারের ছবি থাকে। অনেক সময় এগুলো হ্যাক হয়ে নিজের প্রাইভেসি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- স্মার্টফোন ব্যবহার করে অপরাধ করার প্রবণতা বর্তমানে বাড়ছে যেমন: কারো ছবি শেয়ার করে তার নিচে কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা, বিভিন্ন কায়দায় ফাঁদ ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ইত্যাদি। যা সমাজের উদ্দেশ্যে নেতিবাচক মেসেজ যায়।
শিশুদের মোবাইল আসক্তির কুফল
শুধু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরা নয়, শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ জনক ভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। যা তাদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিভিন্ন অরগানাইজেশন প্রতিনিয়ত শিশুদের মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক করে আসছে। শিশুদের মোবাইল আসক্তির কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ যা একটা জেনারেশন কে ধ্বংস করে দিতে পারে। মোবাইল ফোন পূর্ববর্তী সময়ে শিশুরা খেলাধুলা করতো, গল্পের বই পড়ে সময় কাটাতো, বন্ধুদের সাথে দৌড়াদৌড়ি,
আরো পড়ুনঃ- এড দেখে টাকা ইনকাম দিনে ৩০০ টাকা
সাঁতার কাটা ইত্যাদি এ সকল সামাজিক কাজে ব্যস্ত থাকতো যা তাদেরকে প্রকৃত সামাজিক জীব হিসেবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করত। কিন্তু আজকের সময় শিশুরা এতটাই মোবাইলে আসক্ত যে তারা একা থাকতে বেশি পছন্দ করে। সামাজিক জীবন থেকে তারা প্রায় বিচ্ছিন্ন। বিশেষ করে যারা শহর অঞ্চলে বসবাসরত এলিট শ্রেণীর সন্তানের মোবাইলে বেশি আসক্ত। শিশুদের মোবাইল আসক্তির কুফল কতটা ভয়াবহ তা অভিভাবকদের জানা প্রয়োজন। সেগুলো হলো:
- মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ শিশুদের ব্রেইন এবং কানের টিউমারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
- দীর্ঘক্ষণ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের দৃষ্টিশক্তির লোপ পাচ্ছে, চোখ ব্যথা, চোখ দিয়ে পানি ঝরা, অনেকের চোখের সমস্যার হয়ে যাচ্ছে ফলে চশমা চোখে লাগাচ্ছে।
- মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে থেকে জীবাণু নির্গত হয়ে তা শিশুর শরীরে প্রবেশ করছে ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। শ্বাসকষ্ট এবং মৃগী রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
- খাবারের প্রতি অনীহা, হাই প্রেসার, শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা অনুভব হয়, অনিন্দ্রা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি হয়ে থাকে মোবাইল আসক্তির কারণে।
- গবেষণায় পাওয়া গেছে, প্যান্টের পকেটে মোবাইল রাখার কারণে পুরুষদের শুক্রাণু কমে যাওয়া এবং পোশাকের ভিতরে মোবাইল রাখার কারণে নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে।
- অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে শিশুদের মুড সুইং হয় যেমন: হঠাৎ রেগে যাওয়া বা হঠাৎ কান্না করা, কোন কিছু ভেঙ্গে ফেলা, বদমেজাজি হওয়া, মারামারি হানাহানি করার প্রবণতা তাদের মধ্যে দেখা যায়, সামাজিক জীবন থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কিভাবে আচরণ করতে হয় এ বিষয়গুলো তারা শিখতে পারে না।
- মোবাইল ফোন এটা তাদেরকে অলস বানিয়ে দিচ্ছে। কোন কাজে-কর্মে তারা তাদের দক্ষতা বিকশিত করতে খুব পারে না। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার সম্ভাবনা বাড়ে, একসময় তারা গিয়ে অ্যাবনরমাল এর মত হয়ে যায়।
- শিশুর মনের মধ্যে দয়া, মায়া, উদারতা, সামাজিকতা এগুলো কাজ করে না। শুধু হিংস্রর মতো আচরণ করে।
- মোবাইল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব যেমন: সাইবার বুলিং তাদের সুন্দর ও কোমল মনকে কলুষিত করে। একপর্যায়ে তারা মাদকের জগত এ প্রবেশ করে। এভাবে একটা শিশুর জীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
শিশুদের মোবাইল আসক্তির কুফল থেকে বাঁচার উপায় কি ?
- শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এর শিক্ষা দেওয়া লাগবে।
- তাদেরকে মোবাইল ফোনের পরিবর্তে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে।
- আপনি অভিভাবক হিসেবে সন্তানের সাথে খেলাধুলা, হাসি মজা করুন।
- শিশুদের হাতে গল্পের বইগুলো তুলে দিন, নিজে গল্পের বইগুলো পড়ে শিশুদের শোনান।
- শিশুদের ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার কাটা এই সমস্ত বিনোদনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখুন।
- নিয়মিত তাদেরকে নিয়ে চিড়িয়াখানা, পার্কে, বিনোদনমূলক স্পটে ঘুরতে যান।
- শিশুদের নিয়ে সকালে এবং বিকালে শরীর চর্চা করুন।
- গাছ লাগানো, হাঁস মুরগি লালন-পালন, গবাদি পশু যেমন: ছাগল, ভেড়া চড়ানো ইত্যাদি সকল কাজে উদ্বুদ্ধ করা।
- এলাকার ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করতে দেওয়া, মিশতে দেওয়া ইত্যাদি।
- আপনি অভিভাবক হয়ে ছোট বাচ্চাদের সামনে বসে গেম খেলা, ভিডিও দেখা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার অথবা অহেতুক কারণে মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না।
- যদি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেই হয় তাহলে একটা সময় নির্ধারণ করে দিন, ওই সময়ের বাহিরে তারা আর মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না।
- মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিকগুলো শিশুদের সামনে তুলে ধরুন।
- সর্ব অবস্থায় আপনার শিশুর শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখুন। তাদেরকে ছোট ছোট ঘরোয়া কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন।
ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা
ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা দিকগুলো কয়েক শব্দে বলে শেষ করা যাবে না। একটি মানুষের জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো স্টুডেন্ট লাইফ। এই স্টুডেন্ট লাইফের উপর নির্ভর করবে তার পরবর্তী জীবনের গতিপথ। শিক্ষাজীবনে একজন শিক্ষার্থী যতটা নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন এবং শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে তার পরবর্তী জীবনের সময়টুকু ততটুকু সফলতা বয়ে আনবে। একটি নিয়ম তান্ত্রিক জীবন যাপনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার এবং আমার জানা প্রয়োজন ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা গুলো সম্পর্কে।
পড়ার সময় খুঁজে না পাওয়া: আপনি যখন ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখবেন তখন ৫ মিনিট চলে যায়, এভাবে যখন আপনি ১২ টা ভিডিও দেখবেন আপনার এক ঘন সময় চলে যাবে। ঘন্টার পর ঘন্টা গেম খেলা, চ্যাট করা, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা এর ফলে সময় কমে যায়। এতে উক্ত সময়ের মধ্যে আমরা পড়া কমপ্লিট করতে পারি না।
এলোমেলো জীবন যাপন: এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা রাত ২/৩ পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। অন্যদিকে সকালে ঘুম থেকে উঠে ৮/৯/১০ বাজে। একজন শিক্ষার্থীর এলোমেলো রুটিনের কারণে তার শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে সে জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
পড়া মনে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়া: যখন আপনি একটানা লম্বা সময় ধরে মোবাইল ফোন চালাবেন তখন আপনার ব্রেনের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। মাথার মধ্যে অস্থিরতা কাজ করবে। তখন আপনি কোন পড়া পড়লে তার লম্বা সময় ধরে মনে রাখতে পারবেন না। একটু পর পর পড়া ভুলে যাবেন।
অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া: এখনকার স্মার্ট ফোনে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে যার ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করা সহজ হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে তাদের ব্যক্তি জীবন, শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন সব ক্ষেত্রে তারা মানসিক অস্থিরতার মধ্যে থাকছে।
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া: মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যখন কানে ইয়ারফোন দিয়ে কথা বলা, গান শোনা ইত্যাদি এই কাজগুলো যখন আমরা করি তখন কানের ভিতরে অতিরিক্ত সাউন্ড যাওয়ার কারণে বয়স হওয়ার সাথে সাথে আমরা কানে কম শুনতে পায়। এমনকি কানের পর্দা ফেটে বধির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্রেইন দুর্বল হয়ে পড়া: একটানা দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ব্যবহার কারণে মোবাইল ফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর রেডিয়েশন মস্তিষ্কে বিরাজমান অবস্থায় থাকে। ফলে খুব দ্রুত ব্রেইন অকেজো হয়ে পড়ে।
কাজে কর্মে উদাসীনতা: শিক্ষাজীবনে অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ফোন ব্যবহার কারণে ওই শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত জীবনে কাজে-কর্মে উদাসীন হয়ে পড়ে। জীবন তার ধূসর মলিন হয়ে যায়। যেন সে এক জীবন্ত লাশ।
সৃজনশীল বিদ্যা নষ্ট: কোন কিছু উদ্ভাবন করতে গেলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে স্টাডি করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর যদি সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে সময় ব্যয় করে তাহলে এসব পড়াশোনার সময় পাবে না। আর পড়াশোনার সময় না পেলে সে গবেষণা করে নতুন কোন তথ্য বের করতে পারবে না। সে তার মেধা দিয়ে উদ্ভাবনী প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারবেন।
শারীরিক এবং মানসিক অবসাদ: যারা অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তারা ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারে না এতে তার শরীর দুর্বল থাকে। আর মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে ফলে মানসিক অবসাদ দেখা দেয়।
মোবাইল ফোনের পক্ষে যুক্তি
বর্তমান বিশ্বে মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহূর্ত কল্পনা করা কঠিন। মানুষের ব্যক্তি জীবনের সাথে মোবাইল ফোন খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। মোবাইল ফোনের পক্ষে যুক্তি হলো:
- ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো জেনে নিতে পারছেন।
- গুগল ম্যাপ এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার লোকেশন আপনি স্বচক্ষে দেখতে পারছেন। মোবাইল ফোন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে দূরবর্তী স্থানে মানুষের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারছেন।
- মোবাইল ফোন দিয়ে বিক্রয়.কম সাইটে প্রবেশ করে আপনি আপনার পুরাতন জিনিসগুলো বিক্রি করতে পারছেন।
- বাংলাদেশে বসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তথ্য আপনি জানতে পারছেন।
- স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে প্রিয়জনের সাথে অডিও কল, ভিডিও কল, টেক্সট এর মাধ্যমে আলাপ করতে পারছেন।
- দুর্যোগকালীন মুহূর্তে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আপনি জরুরি সেবাগুলো নিতে পারছেন।
- এই আর্টিকেলে যতগুলো মোবাইল ফোনের ভালো দিক নিয়ে আলোচনা সবগুলো আপনি মোবাইল ফোনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।
মোবাইল ফোনের বিপক্ষে যুক্তি
মোবাইল ফোন উন্নত প্রযুক্তির একটি অংশ। এটি একদিকে আমাদের উন্নত জীবন যাপনের চরম শিখরে নিয়ে গেছে অন্যদিকে এর ক্ষতিকর দিকও কম না। মোবাইল ফোনের বিপক্ষে যুক্তি হলো:
- মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য মোবাইল ফোন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ছড়িয়ে দেওয়া সহজ হচ্ছে।
- মানুষ সামাজিক জীব হওয়ার পরিবর্তে যান্ত্রিক বা মেশিনের মত হয়ে উঠেছে।
- গেমিং এ আসক্তি তরুণ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যা মোবাইলের কারণে ঘটছে।
- যেকোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে, এর পরোক্ষভাবে মোবাইল ফোন দায়ী।
- কারো প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো, যেকোনো ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা উসকে দেয়ার মত ঘটনাগুলো মোবাইলের মাধ্যমে ঘটছে।
- অবিশ্বস্ত অ্যাপ গুলো মোবাইলে ইন্সটল করার ফলে ব্যক্তিগত যাবতীয় তথ্য চুরি হয়ে যাচ্ছে।
- অনেকে মোবাইল ফোন দিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলছে, এতে আর্থিক লোকসানের সম্ভাবনা বাড়ছে।
- এই আর্টিকেলে আমি মোবাইল ফোনের যতগুলো খারাপ দিক নিয়ে আলোচনা করেছি সেগুলো মোবাইল ফোনের বিপক্ষে যুক্তি হিসেবে আপনি তুলে ধরতে পারেন।
মোবাইল ফোনের সুবিধা ও অসুবিধা রচনা
মোবাইল ফোনের সুবিধা ও অসুবিধা রচনা লিখে আপনারা গুগলে সার্চ করেছেন। দেখুন, এই আর্টিকেলে মোবাইল ফোনের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে অনেক তথ্য আমি উপস্থাপন করেছি। মোবাইল ফোন ব্যবহারে ইতিবাচক ও নেতিবাচক বাস্তব ভিত্তিক তথ্যগুলো আমি তুলে ধরেছি। ওই তথ্যগুলো ব্যবহার করে আপনি মোবাইল ফোনের সুবিধা ও অসুবিধা রচনা লিখতে পারেন।
লেখকের মন্তব্য - শিক্ষার্থীদের ওপর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল ও কুফল
মোবাইল ফোনের যে সকল ভালো দিকগুলো রয়েছে সেগুলো আমরা নিব এবং যে সকল মন্দ দিকগুলো রয়েছে সেগুলো আমরা বর্জন করব। সর্বাবস্থায় আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করব। অর্থাৎ, আমরা মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ করব, আমরা যেন মোবাইলের দাস বা দাসী হয়ে না যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখবো। যে কাজে প্রয়োজন হবে সে কাজের জন্য মোবাইল ব্যবহার করব, কাজ শেষ হলে অমনি মোবাইল ফোন দূরে রাখবো।
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, আমি এই আর্টিকেলে শিক্ষার্থীদের ওপর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল ও কুফল দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি সাধ্যমত চেষ্টা করেছি পাঠকদের নিকট তথ্যবহুল কন্টেন্ট গুলো তুলে ধরার জন্য। এইরকম ইনফরমেটিভ তথ্যগুলো আমাদের জানা খুবই প্রয়োজন। আমি আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনার জ্ঞানের জায়গা কে আরো সমৃদ্ধ এবং উন্নত করবে। কাজেই, মোবাইল ফোন এমন ভাবে ব্যবহার করুন যাতে আপনি ক্ষতির সম্মুখীন না হোন। মোবাইল ফোনের সমস্ত ধরনের নেগেটিভ জিনিসগুলো থেকে নিজেকে ধরে রাখুন, আসসালামু আলাইকুম। 31.01.2026

আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url