উহুদ পাহাড় কোথায় অবস্থিত - উহুদ পাহাড়ের ইতিহাস - উহুদের যুদ্ধের ইতিহাস
উহুদ পাহাড় কোথায় অবস্থিত - উহুদ পাহাড়ের ইতিহাস - উহুদের যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব। এই আর্টিকেল থেকে আপনি উহুদ পাহাড় কোথায় অবস্থিত - উহুদ পাহাড়ের ইতিহাস - উহুদের যুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।
পোস্টসূচীপত্রঃ-কেননা, এই পোস্টে আমি উহুদ পাহাড় কোথায় অবস্থিত - উহুদ পাহাড়ের ইতিহাস - উহুদের যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
উহুদ পাহাড় কোথায় অবস্থিত
উহুদ পাহাড় নবী মুহাম্মদ ( সাঃ ) এর স্মৃতি বিজড়িত একটি স্থান। উহুদের যুদ্ধ এই শব্দটির সাথে আমরা সকলে পরিচিত। উহুদের যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল মুসলিম বনাম মক্কার কুরাইশদের মধ্যে। অনেকে ইন্টারনেটে সার্চ করে উহুদ পাহাড় কোথায় অবস্থিত জানতে চেয়েছেন।
- উহুদ পাহাড় বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত
- এই পাহাড়টি অবস্থান করছে মদিনা শহরের উত্তর দিকে
- এই পাহাড়টি হেজাজি অঞ্চলে অবস্থিত
- এই পাহাড়টি মদিনা থেকে ৩ মাইল দূরে অবস্থিত
উহুদ পাহাড়ের ইতিহাস - উহুদ পাহাড় ইতিহাস
এই পুরো আর্টিকেলটি উহুদ পাহাড়কে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। উহুদ পাহাড়ের ইতিহাস উহুদ যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত। নিচের পর্বে আমরা উহুদ যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। তাছাড়া আরও বর্ণনা করেছি উহুদ পাহাড় কোথায় অবস্থিত, উহুদ পাহাড় কত কিলোমিটার, উহুদ পাহাড়ে কোন
নবীর কবর আছে, মদিনা থেকে উহুদ পাহাড়ের দূরত্ব কত, উহুদ পাহাড়ের উচ্চতা কত, উহুদের যুদ্ধে শহীদ সাহাবীদের নাম, উহুদ পাহাড় মসজিদ, উহুদ যুদ্ধের ১০ টি শিক্ষা এ পুরো বিষয়গুলো হচ্ছে উহুদ পাহাড়ের ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত। এই বিষয়গুলো আমরা এই আর্টিকেলে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।
উহুদের যুদ্ধের ইতিহাস - উহুদ যুদ্ধের ইতিহাস
প্রত্যেক মুসলমানদের উহুদের যুদ্ধের ইতিহাস - উহুদ যুদ্ধের ইতিহাস জানা প্রয়োজন। ইসলামের জন্য নবী মুহাম্মদ ( সাঃ ) ও তার সাহাবীগণ যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তার এক জ্বলন্ত উদাহারণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই উহুদ পাহাড়। উহুদ পর্বতে এই যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে বিধায় একে উহুদের যুদ্ধ নামে নামকরণ করা হয়। ৩ হিজরি ৭ শাওয়াল সনে এই যুদ্ধ সংগঠিত হয়। উহুদের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীদের সরাসরি
নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নবী মুহাম্মদ ( সাঃ ), অন্যদিকে মক্কার কুরাইশদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আবু সুফিয়ান। এটা ইসলামের ২য় সামরিক যুদ্ধ। বদর যুদ্ধের শোচনীয় পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে মক্কার কুরাইশরা উহুদের যুদ্ধের আয়োজন করে। তাদের উদ্দেশ্যে ছিল মুসলিম বাহিনীদের পরাজিত করা। উহুদ যুদ্ধের শুরুর দিকে মুসলিম বাহিনী প্রাথমিক পর্যায়ে বিজয়ী হলেও মাঝখানে মুসলিম বাহিনীর
কিছু সদস্যদের ভুল পদক্ষেপের ( তীরন্দাজদের স্থান ত্যাগ ) কারণে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়, যুদ্ধে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। অনেক মুসলিম সৈন্য শাহাদাত বরণ করে। এই যুদ্ধে স্বয়ং নবী মুহাম্মদ ( সাঃ ) দাঁত মোবারক শহীদ হয়ে যায়। পরবর্তীতে উমর ইবনুল খাত্তাব ( রাঃ ) ও মুসলিম বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে মক্কার কুরাইশরা আর সামনে এগিয়ে আসে নি। যুদ্ধ এখানে থেমে যায়। এটি অমিমাংসিত একটি যুদ্ধ। এখানে কোন পক্ষ জয়ী
আরো পড়ুনঃ- জান্নাতের হুরদের নাম - জান্নাতের পাখির নাম - জান্নাতি হুরদের নাম
হয় নি। এই যুদ্ধে মুসলমানদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে মক্কার কুরাইশ রা কাউকে বন্দিকে করতে পারে নি এবং কোন গনিমতের মাল লাভ করে নি। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর ৭০ জন শহিদ হয়, কুরাইশ বাহিনীর ৩৭ জন নিহত হয়। আবু সুফিয়ান এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ কুরাইশদের হয়ে যুদ্ধ করেছিল মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ২ জনই ইসলাম গ্রহণ করে।
এই যুদ্ধ মুসলমানদের জন্য এক বিরাট শিক্ষা। নবী মুহাম্মদ ( সাঃ ) নির্দেশ অমান্য করলে মুসলমানদের পার্থিব জীবনে কি পরিমাণ দুর্ভোগ নেমে আসবে, এই যুদ্ধ তার জ্বলন্ত উদাহারণ। মুহাম্মদ ( সাঃ ) জাবালে রুমাত নামক পাহাড়ে ৫০ জন দক্ষ তীরন্দাজদের নিয়োজিত করেছিলেন। তাদের বলেছিলেন, নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তারা যেন স্থান ত্যাগ না করে। কিন্তু তীরন্দাজরা ভূল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলে, যুদ্ধের
মোড় ঘুরে যায় কুরাইশদের দিকে। নবী মুহাম্মদ ( সাঃ ) তীরন্দাজদের বলেছিলেনঃ- ( ১ ) যদি দেখ আমরা মৃত্যুর মুখো-মুখি হচ্ছি তবুও তোমরা আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে না ( ২ ) যদি দেখ আমরা গণিমতের মাল পেয়েছি তখনও তোমরা আমাদের সাথে যোগ দেবে না।
উহুদ পাহাড় কত কিলোমিটার - উহুদ পাহাড় কত কিলোমিটার লম্বা
উহুদ পাহাড়ে কোন নবীর কবর আছে
উহুদ পাহাড়ে কোন নবীর কবর আছে ? অনেকে হয়ত জানে না। উহুদ পাহাড়ে নবী হারুন ( আঃ ) কবর রয়েছে। নবী মুসা ( আঃ ) ও নবী হারুন ( আঃ ) একসঙ্গে মক্কা সফর করেন। মক্কা থেকে ফেরত আসার সময় উহুদ পাহাড়ের নিকটবর্তী স্থানে আসলে তিনি অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। পরবর্তীতে উহুদ পাহাড়ে তাকে দাফন করা হয়।
মদিনা থেকে উহুদ পাহাড়ের দূরত্ব কত
উহুদ পাহাড়ের উচ্চতা কত
ইসলামের ইতিহাসে, উহুদ পাহাড়ের গুরুত্ব অনেক। একজন মুসলিম হিসেবে, উহুদ পাহাড়ের উচ্চতা কত তা জানা প্রয়োজন। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, উহুদ পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ১০৭৭ মিটার।
উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ সওয়াব
বিভিন্ন সময় খুতবা’তে আমরা উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ সওয়াব এই বাক্যটি শুনে থাকি। যদি কোন মুসলমান মারা যায়, কোন ব্যাক্তি শুধু জানাজা নামাজ পড়ে তাহলে সে এক কিরাত সওয়াব পাবে। আবার, যদি ঐ ব্যাক্তি জানাজার নামাজ এবং দাফন কার্য সম্পাদন করে বাড়ি ফিরে আসে তাহলে ঐ ব্যাক্তি দুই কিরাত সওয়াব পাবে। এক কিরাত সওয়াব সমান উহুদ পাহাড়ের সমান।
উহুদের যুদ্ধে শহীদ সাহাবীদের নাম
উহুদের যুদ্ধে ৭০ জন সাহাবী শাহাদত বরণ করে। উহুদের যুদ্ধে শহীদ সাহাবীদের নাম আপনারা জানতে চেয়েছেন। বিভিন্ন ইসলামিক স্কলারদের লেকচার থেকে জানা যায়, উহুদের যুদ্ধে যে সকল সাহাবী শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলোঃ- হয়রত হামজা ( রা. ), হযরত হানজালা ( রা. ), হয়রত মুসআব বিন উমাইর ( রা. ), হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহাশ ( রা. )
উহুদ পাহাড় মসজিদ
উহুদ পাহাড়ে একটি মসজিদ রয়েছে। যেটা উহুদ যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শহীদ সাহাবীদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে। যে মসজিদের নাম হলোঃ- সায়্যিদ আশ-শুহাদা মসজিদ। এটা উহুদ পাহাড়ের পশ্চিম দিকে অবস্থান করছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিমরা সাহাবীদের কবর জিয়ারত করতে এখানে আসে। এই মসজিদের আয়তন ৫৪ হাজার বর্গ:মিটার। প্রায় ১৫ হাজারের বেশি মুসল্লি একসাথে দাঁড়িয়ে এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারে।
উহুদ যুদ্ধের ১০ টি শিক্ষা
উহুদের যুদ্ধ যদিও অমীমাংসিত তারপরও এর মধ্যে মুসলমানদের জন্য বিশেষ শিক্ষা। এই যুদ্ধে মুসলমানদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই যুদ্ধে রয়েছে মুসলিম উম্মাহ জন্য এক বিরাট শিক্ষা। উহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন মাজীদে, সূরা আল ইমরানে ( ১২১ - ১৬০ ) আয়াত পর্যন্ত মুসলিমদের জন্য বিভিন্ন উপদেশ দেওয়া আছে। উহুদ যুদ্ধের ১০ টি শিক্ষা হলোঃ-
আরো পড়ুনঃ- ওযু ছাড়া মোবাইলে কুরআন পড়া যাবে কি বিস্তারিত জেনে নিন
- যুদ্ধের ভূল পদক্ষেপ যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়
- যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নেতার আনুগত্য করতে হবে
- নিজেদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে প্রতিপক্ষ সুযোগ খুঁজবে
- মুমিন, মুনাফিক ও কাফেরদের মধ্যে পার্থ্যক্য তৈরি করে
- আল্লাহ মুমিদের সাথে আছে। মুমিনের হতাশার কোন কারণ নেই।
- এই যুদ্ধ মুসলমানদের ঈমানী পরীক্ষা
- নবী ( সা. ) এর কথা অমান্য করার পরিণাম কি হতে পারে এই যুদ্ধ তার শিক্ষা
- নিজেদের মধ্যে মত বিরোধ থাকা চলবে না
- যে সকল বিষয় মুসলমানদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে এই যুদ্ধ তারই সংকেত
- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক সতর্কবার্তা
উহুদ পাহাড় কোথায় অবস্থিত সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর ( FAQ )
১) উহুদের যুদ্ধ কোন হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তরঃ- ৩ হিজরি ৭ শাওয়াল মাসে উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল
২) উহুদের যুদ্ধে কুরাইশ নেতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ- কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান
৩) উহুদ পাহাড়ের পাশে মসজিদের নাম কি?
উত্তরঃ- মসজিদুল ফাসাহ
৪) ইসলামের দ্বিতীয় যুদ্ধ কোনটি ছিল?
উত্তরঃ- উহুদের যুদ্ধ
৫) উহুদ পর্বত কি জান্নাতে হবে?
উত্তরঃ- উহুদ পর্বত নিয়ে নিয়ে নবী মুহাম্মদ ( সাঃ ) হাদিস রয়েছে। অনেক ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, উহুদ পাহাড় জান্নাতেও থাকবে।
৬) উহুদের যুদ্ধে নবী সাঃ কে রক্ষা করেছিলেন?
উত্তরঃ- নুসাইবা বিনতে কা'ব নামে এক সাহাবী নবী মুহাম্মদ ( সাঃ ) রক্ষা করেছিলেন
৭) ওহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা কত ছিল?
উত্তরঃ- ৭০০ জন, শহীদ হয়েছিল ৭০ জন সাহাবী
৮) কোন যুদ্ধে নবী মুহাম্মদের দাঁত শহীদ হয়েছিল?
উত্তরঃ- উহুদের যুদ্ধে
৯) ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ কোনটি?
উত্তরঃ- বদর, উহুদ, খন্দক, মক্কা, খায়বার, হুনাইন এর যুদ্ধ
১০) উহুদে কোন কোন সাহাবীকে দাফন করা হয়?
উত্তরঃ- হজরত আকিল ইবনে উমাইয়া (রা.), হয়রত হামজা ( রা. ), হযরত হানজালা ( রা. ), হয়রত মুসআব বিন উমাইর ( রা. ), হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহাশ ( রা. ) সহ ৭০ জন সাহাবীদের দাফন করা হয়।
লেখকের মন্তব্য - উহুদ পাহাড় কোথায় অবস্থিত
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, এই আর্টিকেলে আমরা উহুদ পাহাড় কোথায় অবস্থিত - উহুদ পাহাড়ের ইতিহাস - উহুদের যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উহুদের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত। এই ধরণের ইসলামিক কনটেন্ট গুলো আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত পাবলিশ করি।
আর্টিকেলটি পড়ে ভালো লেগে থাকলে আমাদের সাইটে নিয়মিত ভিজিট করার অনুরোধ রইল। সকলের সুস্থতা কামনা করে এখানে শেষ করছি, আসসালামু আলাইকুম। 23.02.2026

আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url