ই লার্নিং কি - ই লার্নিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

ই লার্নিং কি - ই লার্নিং এর সুবিধা ও অসুবিধা জানতে আর্টিকেলটি পড়ুন। ই লার্নিং বর্তমানে ইন্টারনেট দুনিয়ায় শিক্ষা বিপ্লবের এক যুগান্তকারী অধ্যায়।

ই - লার্নিং - কি - ই - লার্নিং - এর - সুবিধা - ও - অসুবিধা

পোস্ট সূচিপত্র: ই-লার্নিং এর কারণে শিক্ষার্থীরা এখন তাদের জ্ঞানের জায়গায় কে আরও সমৃদ্ধ করতে পারছে। ই লার্নিং কি - ই লার্নিং এর সুবিধা ও অসুবিধা এই আর্টিকেল থেকে জানতে পারবেন।

ই লার্নিং কি

ইলেকট্রনিক ডিভাইস ( স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার, ট্যাব ) ব্যবহার করে ইন্টারনেট প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে যখন আমরা নিত্য নতুন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করি সেটি কে বলে ই লার্নিং। প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিরব বিপ্লব ঘটিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির কারণে গোটা দুনিয়ায় প্রচলিত সিস্টেমগুলো পরিবর্তন হচ্ছে। অনুরূপভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম নয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এর 

ধারাবাহিকতায় আপনারা ই লার্নিং কি ? ই লার্নিং বলতে কি বুঝ ? এরকম নানান তথ্য জানতে চেয়ে আপনারা অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করেন। এখন প্রযুক্তি ব্যবস্থা এতটাই উন্নত আপনি যদি কোন বিষয়ে জানতে চেয়ে ইন্টারনেটের সার্চ করেন তা তাৎক্ষণিক আপনার সামনে চলে আসছে। যে কোন বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করা এখন খুবই সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যেকোনো বিষয়ে শিখতে এবং জানতে অনেক সময় লাগতো। ই 

লার্নিং এর ছোঁয়ায় আমরা মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো বিষয়ে শিখতে ও জানতে পারছি। অনলাইনে লাইভ ক্লাস করা, রেকর্ডেড ক্লাস ভিডিও দেখা, বিভিন্ন ধরনের শিক্ষনীয় সেমিনার বা প্রোগ্রামে লাইভ অংশ নেওয়া, বড় বড় গবেষকদের লেখা বইগুলো অনলাইন থেকে পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছে ই লার্নিং সিস্টেম। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও ই লার্নিং এর ব্যবহার ভবিষ্যতে দেখা যাবে। ই লার্নিং এর বিপ্লব ঘটে ১৯৯৯ সালে, এলিয়ট মাইসি সর্বপ্রথম ই লার্নিং এর ধারণা দেন। আশা করি পুরো আলোচনা থেকে ই লার্নিং কী সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।

ই লার্নিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

বর্তমানে ই লার্নিং পদ্ধতি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করছে এবং এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। বাংলাদেশে 10 minute School এটাও একটি ই লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। ই লার্নিং এর সুবিধা ও অসুবিধা উভয় দিক রয়েছে, যে বিষয়গুলো সম্পর্কে মানুষ জানতে চাই।

ই লার্নিং এর সুবিধা:

  • নির্দিষ্ট স্থানে বসে ক্লাস করা যায়।
  • সময়ের অপচয় কম হয়। 
  • শারীরিকভাবে শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। 
  • কর্মজীবী মানুষের জ্ঞান অর্জনের সংকুচিত পথ ই লার্নিং পদ্ধতি বিস্তৃত করেছে।
  • জনপ্রিয় লেখক বা বিশ্বের বড় বড় প্রফেসরদের লেখা বই গুলো ই লার্নিং এর কারণে অধ্যয়ন করা সহজ হচ্ছে।
  • যেকোনো কোর্সের রেকর্ডেড ভিডিও গুলো পুনরায় দেখা সম্ভব হয়।
  • মনে করুন, আপনি এখন বাসে ভ্রমণ করছেন। আপনি চাইলে স্মার্টফোন ব্যবহার করে ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস গুলো সম্পাদন করতে পারবেন।
ই - লার্নিং - কি - ই - লার্নিং - এর - সুবিধা - ও - অসুবিধা
  • আপনি অনলাইনে এক্সাম দিতে পারবেন। 
  • পাঠ্য পুস্তকের যেকোনো সমস্যা আপনি সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারবেন।

ই লার্নিং এর অসুবিধা:

বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশগুলোতে ই লার্নিং এর নানান প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যে প্রতিবন্ধকতা বা চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে আমাদের শিক্ষার অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে। 

  • ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন: স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ক্রয় করার সামর্থ্য অনেকের নেই। অভাবের কারণে ই লার্নিং পদ্ধতি অনেকের কাছে ব্যয়বহুল। 
  • ই লার্নিং পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকে অবগত না। এটাকে অনেকে বিলাসিতা বা অনলাইনে সময় কাটানোর সাথে তুলনা করে। 
  • ই লার্নিং পদ্ধতিতে কিভাবে ক্লাস নিতে হয় অনেক শিক্ষক তা জানে না। এজন্য ওই সকল শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের সুবিধা করে দিতে হবে যাতে তারা ই লার্নিং পদ্ধতিতে ক্লাস নিতে পারে।
  • সরকারের পক্ষ থেকে সুলভ মূল্যে ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলো ক্রয় করার সুযোগ করে দিতে হবে। 
  • যারা হত-দরিদ্র বা যাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং ইন্টারনেট প্যাকেজ ক্রয় করার সামর্থ্য নেই, তাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করতে হবে।

ই লার্নিং এর পূর্ণরূপ কি

ই লার্নিং এর পূর্ণরূপ কি ? ই লার্নিং এর পূর্ণরূপ হলো: ইলেকট্রনিক লার্নিং। যার বাংলা অনুবাদ হচ্ছে বৈদ্যুতিক শিক্ষা। সাধারণ ভাষায়, ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন কিছু জানা বা শেখা একে ই লার্নিং বলে। দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ই লার্নিং আশীর্বাদস্বরূপ। অডিও, ভিডিও, ইমেজ, টেক্সট ইত্যাদি সবকিছু আপনি ই লার্নিং এর মধ্যে পেয়ে যাচ্ছেন। 

ই লার্নিং এর উপাদান কোনটি

ই লার্নিং এর জন্য ৩টি উপাদান আবশ্যক। অন্যথায় ই লার্নিং প্রযুক্তি সফলভাবে সম্পাদন সম্ভব নয়। সেগুলো হলো: 

  • মানুষ 
  • ইলেকট্রনিক ডিভাইস ( কম্পিউটার, স্মার্টফোন )
  • ইন্টারনেট প্রযুক্তি

বাংলাদেশে ই লার্নিং এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর

বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো যেখানে প্রযুক্তি সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ এখনো সে প্রচলিত ও প্রথাগত শিক্ষা কাঠামোতে রয়ে গেছে। ই লার্নিং এর জন্য প্রধান অন্তরায় হলো: পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব, ই লার্নিং এর জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস গুলোর অভাব, প্রযুক্তি সুবিধা ব্যবহার করতে পারে এমন শিক্ষকের অভাব। বাংলাদেশে অনেক শিক্ষা 

প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে প্র‌্যাকটিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট করার মত পর্যাপ্ত ল্যাব নেই। এই জাতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য ই লার্নিং প্রযুক্তি অত্যন্ত উপকারী। এখানে দক্ষ শিক্ষকদের লাইভ ভিডিও রেকর্ড করে, অত্যন্ত জটিল বিষয়গুলো সূক্ষভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়। যার দ্বারা অনেক শিক্ষার্থী একই সময়ে উপকৃত হতে পারে। তবে ই লার্নিং এই পদ্ধতিকে প্রচলিত পাঠদানের বিকল্প মনে করলে চলবে না।

ই - লার্নিং - কি - ই - লার্নিং - এর - সুবিধা - ও - অসুবিধা

বাংলাদেশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে শিক্ষকরা ক্লাসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত জটিল বিষয় গুলো ই লার্নিং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এতে একদিকে যেমন সময় অপচয় রোধ হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা পাঠদান আরো ভালভাবে বুঝতে পারছে, প্রযুক্তির গুরুত্ব তারা অনুধাবণ করতে পারছে, শিক্ষা + প্রযুক্তি একসাথে যুক্ত হয়ে নতুন এক শিক্ষার আলোড়ন তৈরি হচ্ছে। উপরের পর্বে আমরা ই-লানিং এর সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেছি, যেগুলো শিক্ষার্থীরা উপভোগ করতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ই লার্নিং কি ও তার গুরুত্ব আশা করি তা বুঝতে পেরেছেন।

ই লার্নিং ও বাংলাদেশ

আধুনিক বাংলাদেশে ই লার্নিং এর ভূমিকা অপরিহার্য। যখন করোনা মহামারীর সময়ে গোটা বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন মানুষ ই লার্নিং বা শিক্ষা - ব্যবস্থায় প্রযুক্তির গুরুত্ব অনুধাবণ করতে পেরেছিল। ই লার্নিং প্লাটফর্ম গুলো দেশের সব প্রতিষ্ঠানে গতিশীল থাকলে এবং ই-লার্নিং এর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ গুলো দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিকট থাকলে তাহলে দেশের শিক্ষা 

প্রতিষ্ঠান গুলো ১.৫ বছর যাবৎ বন্ধ থাকত না। বাংলাদেশের মধ্যে যেগুলো উন্নত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সেখানে করোনার সময় অনলাইনে অল্প পরিসরে পাঠদান হয়েছে, শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এসাইনমেন্ট জমা দিয়েছে। তারা অন্তত ঐ সময়ে তাদের কোর্স গুলো এগিয়ে নিতে খানিকটা সক্ষম হয়েছে। কিন্তু যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ ছিল, ঐ সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরবর্তীতে

ই - লার্নিং - কি - ই - লার্নিং - এর - সুবিধা - ও - অসুবিধা

মানসিক চাপ, হতাশা, যন্ত্রণা, উদ্বেগ ইত্যাদি এই ধরণের সমস্যা গুলো দেখা দিচ্ছিল। অনেকে একেবারে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। এ ধরণের পরিস্থিতি গুলো কাটিয়ে উঠার জন্য আমাদের শিক্ষা কাঠামোতে ই লার্নিং সেবা যুক্ত করা এখন সময়ের দাবী। মাধ্যমিক পর্যায় থেকে নিয়ে একেবারে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত ই-লার্নিং সেবা গুলো চালু করা প্রয়োজন। 

প্রযুক্তিগত শিক্ষা বিপ্লবের ফলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের ভাষাগত জ্ঞান তারা অর্জন করতে পারছে, উদ্যোক্ত হওয়ার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স গুলো সুলভ মূল্যে ক্রয় করতে পারছে, অনলাইনে বিভিন্ন ধরণের স্কিল তারা শিখতে পারছে যেমনঃ- গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও, ব্লগিং ইত্যাদি, অনেকে অনলাইনে টিউশনি করে অর্থ উপার্জন করতে পারছে এই বিপ্লব গুলো সম্পাদন করা সম্ভব হয়েছে ই লার্নিং প্রযুক্তি সুবিধার কারণে। বর্তমানে ই লার্নিং ও বাংলাদেশে একে অপরের পরিপূরক।

ই লার্নিং কি - ই লার্নিং এর সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর ( FAQ )

১) শিখনের পাঁচটি ধারণা কি কি ?

উত্তরঃ- সংযোগবাদ, গঠনবাদ, মানবতাবাদ, আচরণবাদ, জ্ঞানবাদ ইত্যাদি

২) ই-লার্নিং এর অর্থ কী ?

উত্তরঃ- ইলেকট্রনিক লার্নিং যা বাংলা হলোঃ- বৈদ্যুতিক শিক্ষা বা জ্ঞান 

৩) ভার্চুয়াল ক্লাসরুম কী ?

উত্তরঃ- স্বশরীরে ক্লাসরুমে উপস্থিত না হয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্লাস সম্পাদন করা যেমনঃ- ভিডিও কনফারেন্সিং, জুম।

৪) অনলাইন লার্নিং কী ?

উত্তরঃ- ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে কোন কিছু শেখা কে অনলাইন লার্নিং বলে।

৫) ই-কোর্স কী ?

উত্তরঃ- অনলাইন কোর্স গুলো কে আমরা বুঝে থাকি। ধরুণ, আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ শিখবেন। গ্রাফিক্স ডিজাইনের ভিডিও গুলো অনেক প্রতিষ্ঠান কোর্স আকারে সেল করে থাকে। এগুলোকে বলা হয় ই-কোর্স।

লেখকের মন্তব্য - ই লার্নিং কি - ই লার্নিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ এই আর্টিকেলে আমি ই লার্নিং কি - ই লার্নিং এর সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি ই লার্নিং কি গুরুত্ব অনুধাবণ করতে পেরেছেন। একবিংশ শতাব্দীর এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন হলো ই লার্নিং প্রযুক্তি। 

ভবিষ্যৎতে প্রযুুক্তি রিলেটেড যে কোন আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। প্রযুক্তি বিষয়ে যে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে রাখুন। আমরা সেই বিষয়ে আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করব। সকলের সুস্থতা কামনা করে এখানে শেষ করছি। 22.03.2026

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url