পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর

পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর যা বাংলার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পলাশীর যুদ্ধ কি কারণে হয়েছিল, কাদের দ্বারা এটি সংঘটিত হয়েছিল, এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপট কি ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের সবাইকে জানতে হবে। 

পলাশীর-যুদ্ধের-কারণ-ও-ফলাফল-আলোচনা-কর

পোস্ট সূচীপত্র:পলাশীর যুদ্ধ এটি কোন সাধারণ ঘটনা নয়। এই যুদ্ধের পিছনে লুকিয়ে আছে ইংরেজ কর্তৃক বাংলার মানুষের স্বাধীনতা হরণ ও গোলামীর এক লম্বা ইতিহাস। পলাশীর যুদ্ধ সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করব।

পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর 

পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায় এ জাতীয় প্রশ্নগুলো সচরাচর এসে থাকে। পলাশীর যুদ্ধ সংগঠিত হয় নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে সময়কাল ১৭৫৩ সালে ২৩ জুন। এখন প্রশ্ন আসতে পারে এই যুদ্ধ কত দিন ধরে চলছে ? ইতিহাস থেকে জানা যায় এই যুদ্ধ চলছিল মাত্র ৮ ঘন্টা। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে 

দায়ী করা হয় তার নিকটবর্তী বিশ্বস্ত মানুষদের দ্বারা। এর মধ্যে অন্যতম হলো: নবাবের সেনাপতি মীরজাফর আলী খান। পাশাপাশি রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব রাও ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে ছিল ( তাদের মধ্যে রয়েছে: জগৎ শেঠ, জগৎ শেঠ, রায়দুর্লভ, কৃষ্ণচন্দ্র রায় ) এরকম কিছু বিশ্বাসঘাতক রয়েছে যারা নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে নিজ হাতে বাংলার ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে উঠিয়ে দেয়। এর মধ্য দিয়ে ভারতে 

আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের শাসন ব্যবস্থা চালু হয়। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে গোটা ভারতে তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে "পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর" এ বিষয়ের উপর বর্ণনা করা হলো। 

পলাশীর যুদ্ধের কারণ: ( নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ইংরেজদের সম্পর্ক অবনতি/খারাপ হওয়ার কারণ )

1. বাংলার নতুন নবাব সিরাজউদ্দৌলা তে শুভেচ্ছা না জানানো: স্বাভাবিকভাবে যখন বাংলার মসনদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন সিরাজউদ্দৌলা তখন অন্যান্য ব্যবসায়িক গোষ্ঠী যেমন: ফরাসিরা, ওলন্দাজরা আনুষ্ঠানিকতা মেনে নবাবের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও ইংরেজরা ছিল ব্যতিক্রম। তারা নতুন নবাব কে পাত্তাই দেয় নি। 

2. ইংরেজদের অহংকার মূলক আচরণ: নতুন নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলার মসনদে ক্ষমতা গ্রহণের পর ইংরেজরা তার প্রতি অসদাচরণ করা শুরু করে যেমন: অহংকার প্রদর্শন, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যবহার, নবাবের হুকুম অমান্য করা, উস্কানি মূলক বক্তব্য দেওয়া অর্থাৎ নবাবের অসম্মান হয় এমন কাজ করা। 

3. রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র: শুধু যে ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত এমনটা নয়। ওই সময়ে রাজ প্রাসাদের কর্মকর্তারাও এর সাথে জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো: রায়দুর্লভ, জগৎ শেঠ, মহারাজা স্বরূপচাঁদ, উমিচাঁদ, মাহতাব চাঁদ, ঘসেটি বেগম, ইয়ার লতিফ, রানী ভবানী, রাজা রাজবল্লভ, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়, মহারাজ নন্দকুমার সহ আরো অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা চাচ্ছিল, সিরাজউদ্দৌলা কে 

সরিয়ে অন্য কাউকে বাংলার নবাব বানাতে। তাদের এই ষড়যন্ত্রে ইন্ধন দিয়েছিল ইংরেজ শক্তি। যে খবর নবাবের কান পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সর্বশেষ পলাশীর যুদ্ধ ক্ষেত্রে এই ষড়যন্ত্রের শিকার হয় বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও তার সঙ্গী সাথীরা। 

4. রাজবল্লবের পুত্র কৃষ্ণদাস কে আশ্রয় দান: ব্যাপক পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন রাজবল্লভ। নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজবল্লভ কে সম্পদের হিসাব নিয়ে মুর্শিদাবাদে হাজির হতে বললে, তিনি ( রাজবল্লভ ) তার পুত্র কৃষ্ণ দাসের হাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ তুলে দিয়ে ইংরেজদের কাছে আশ্রয় পাঠান। নবাব  কৃষ্ণ দাস কে ফেরত পাঠানোর জন্য ইংরেজদের নির্দেশ দিলে, ইংরেজরা তা অমান্য করে। যা ছিল বাংলার শাসক নবাবের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন। 

5. সিরাজউদ্দৌলার কঠোর সিদ্ধান্ত:  ইংরেজদের ভারত থেকে বিতারিত করা ( ক ) কারণ, তারা ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছিল যেমন: সামরিক দুর্গ নির্মাণ ( খ ) কোন ধরনের আইন কানুন না মেনে ইংরেজরা তৎকালীন ভারতকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করা যেন তারা এই মাটির জমিদার ( গ ) বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে পণ্যের কারবারি করা। 

6. নবাব সিরাজউদ্দৌলার পূর্ববর্তী শাসকগোষ্ঠী দুর্বলতা: সিরাজউদ্দৌলা বাংলার ক্ষমতার মসনদে ছিল ( ১৭৫৬ - ১৭৫৭ ) পর্যন্ত। এর পূর্বে বাংলার নবাব ছিলেন মুর্শিদকুলি খান ও আলীবর্দী খান। তাদের সময়কালে ইংরেজদের কাছ থেকে বাণিজ্যিক শুল্ক আদায় করলেও, ইংরেজদের অবৈধ কার্যক্রম ( সামরিক দুর্গ নির্মাণ ) এর বিরুদ্ধে তারা ছিল নির্বাক। মানে কোন হস্তক্ষেপ করে নি।

7. অবৈধ দুর্গ নির্মাণ: ওই সময়ে ইংরেজরা ও ফরাসিরা তৎকালীন বাংলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে দুর্গ নির্মাণ করা শুরু করে। ইংরেজরা দুর্গ নির্মাণ করে কলকাতায়, যার নাম দেয় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ। অন্যদিকে ফরাসিরা দুর্গ নির্মাণ করে চন্দননগরে। তাদের এই অবৈধ দুর্গ নির্মাণের কাজে বাধা দেয় 

তৎকালীন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা। এ সময়ে ফরাসিরা দুর্গ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখলেও ইংরেজরা দুর্গ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। ইতিহাসবিদ দের মতে, এখান থেকে নবাবের সাথে ইংরেজদের খারাপ সম্পর্ক ও দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। 

8. নবাবের প্রতিনিধি কে অপমান: ইংরেজরা যখন বাংলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছিল, তৎকালীন সংবিধানের নিয়ম-কানুন কে অবজ্ঞা করছিল। ওই সময়ে ইংরেজদের সাথে আলোচনার জন্য নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রতিনিধি হিসেবে পাঠায় নারায়ন দাস কে। ওই সময় ইংরেজরা নারায়ন দাস কে অপমান, অপদস্থ করে তাড়িয়ে দেয়।

9. বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব: শুরুর দিকে ইংরেজরা ভারতে প্রবেশ করে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। ১৭১৭ সালে মুঘল সম্রাট ফারুক সিয়ার ইংরেজদের কয়েকটি পণ্যে বিনা শুল্কে ব্যবসা করার সুযোগ পায়। পরবর্তী সময়ে এই সুযোগকে অবৈধভাবে কাজে লাগায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। যার কারণে বাংলার অর্থনীতি ও রাজস্ব খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। নবাব সিরাজউদ্দৌলা দৃঢ় কন্ঠে সেটার প্রতিবাদ করে। 

10. অন্ধকূপ হত্যার নাটক: নবাব কাশিম বাজার আক্রমণ করার পর ইংরেজ কর্তৃক নাটক সাজানো হয় যে, নবাব ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দী করে ছোট্ট ঘরে আবদ্ধ করে রাখে। তার মধ্যে ১২৩ জন শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়, যাকে অন্ধকূপ হত্যা বলা হয়ে থাকে। এই দাবিটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া, মিথ্যা, বানোয়াট। এখানে যে ঘরে বন্দী করার কথা বলা হয়েছিল সে ঘরের দৈর্ঘ্য ছিল: ২৪ ফুট এবং প্রস্থ ছিল: ১৮ ফুট. আধুনিক গবেষণা তথ্য মোতাবেক, এ রকম একটি ছোট্ট ঘরে ১৪৬ জন কে বন্দী করা কখনোই সম্ভব নয়। 

আরো পড়ুনঃ- বাঙালি সংকর জাতি ব্যাখ্যা কর

11. নন্দকুমার এর অবাধ্যতা: হুগলি জেলার ফৌজদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন নন্দকুমার। নবাবের অর্ডার ছিল ইংরেজরা যদি চন্দননগর আক্রমণ করে তাহলে তিনি ( নন্দকুমার ) যেন ফরাসি সৈনিকদের সাহায্য করে। তার কিছুদিন পর কর্নেল লর্ড ক্লাইভ চন্দননগর এ হামলা চালিয়ে নিজেদের 

করে নেয়। এ সময় রাজবল্লভ, নন্দকুমার, মানিক চাঁদ তারা ফরাসি সৈনিকদের সাহায্য করে নি। এ সময় নন্দকুমার যুক্তি তুলে ধরে যে, " ফরাসি সৈনিকরা অনেক দুর্বল, তাদের সাহায্য করা অযথা " এরকম রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের কারণে নবাব ওই সময় চন্দননগরে অভিযান চালাতে ব্যর্থ হয়।

12. কাশিমবাজার আক্রমণ: যখন ইংরেজরা বার বার সীমা লংঘন করছিল তখন তাদের উচিত শিক্ষা দিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের দুর্গে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন। এরই প্রেক্ষাপটে প্রথমে কাশিমবাজার, এরপর কলকাতায় আক্রমণ চালানো হয় এবং তা দখল করে নেওয়া হয়। কলকাতার পরবর্তী নাম রাখা হয় আলিনগর এবং শাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয় সেনাপতি মানিক চাঁদ কে। 

13. গোপন চুক্তি: ওই সময় কালে নবাবের বিরুদ্ধে তারই রাজপ্রাসাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ষড়যন্ত্র করছে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য ( আর এই ষড়যন্ত্রের মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছে জগৎ শেঠ ), এই তথ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লর্ড ক্লাইভের কান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই অভ্যুত্থানে 

সামনের ফ্রন্টে থাকে মীরজাফর, পিছনের ফ্রন্টে থাকে রাজবল্লভ, জগত শেঠ, উমি চাঁদ, রায় দুর্লভ, ইয়ার লতিফ, ঘসেটি বেগম, নন্দকুমার সহ আরো অন্যান্য ব্যক্তি বর্গরা। সর্বশেষ, ইংরেজদের ২০ লাখ পাউন্ড দেওয়া হবে এমন চুক্তি ও হয়। 

14. আলিনগরের সন্ধি চুক্তি: ওই সময় নবাব কর্তৃক কলকাতা ও কাশিম বাজার দখলের খবর শুনে, অ্যাডমিরাল ওয়াটসন ও কর্নেল লর্ড ক্লাইভ নৌ বহর পাঠায়। এ সময় কোন ধরনের বিনা যুদ্ধে কলকাতা ও কাশিম বাজার ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। কলকাতার শাসক মানিক চাঁদ কে উৎখাত করা হয়। কিন্তু এবার পুনরায় কলকাতা অভিযান ব্যর্থ হয় নবাবের। এর অন্যতম কারণ ছিল রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র। ওই 

সময় নবাব বাধ্য হয়ে আলিনগরের সন্ধি চুক্তি করে। এই সন্ধি চুক্তির মূল কয়েকটি বিষয় ছিল যেমন: ইংরেজদের নিজস্ব মুদ্রা চালু, সামরিক দুর্গ নির্মাণ, কোন ধরনের ট্যাক্স ছাড়া বাণিজ্য করার সুযোগ। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে ইংরেজদের ক্ষমতা আরো বেড়ে যায়। 

15. সাম্প্রদায়িকরণ পলিসি: অষ্টাদশ শতকে ( ১৭০১ - ১৮০০ ) পর্যন্ত, এ সময় কালে বাংলার বিভিন্ন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রত্যক্ষভাবে বা পিছন থেকে কাজ করেছে সাম্প্রদায়িকরণ পলিসি। এই সময় অনেকে এককভাবে মীর জাফরকে দায়ী করলেও এর পিছনে ছিল বড় বড় গুপ্তচরদের হাত ছিল যেমন: জগৎ শেঠ মত ব্যক্তি বর্গরা। এই ইংরেজদের হাত কে শক্তিশালী করেছিল - জগৎ শেঠ, রাজা 

কৃষ্ণচন্দ্র রায়, রাজা রাজবল্লভ এর মত কিছু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। যারা বাংলায় মুসলিম নেতৃত্ব কে মানতে চাইতো না। বাংলার খ্যাতিমান দুজন লেখক শ্রী সুনীল চৌধুরী "পলাশী কার চক্রান্ত ?" এই গ্রন্থে এবং তপন মোহন চট্টোপাধ্যায় "পলাশীর যুদ্ধ" এই গ্রন্থে ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এই পুরো চক্রান্ত টা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ছিল একজন মুসলিম ব্যক্তির। 

যিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সরিয়ে ইংরেজ লর্ড ক্লাইভ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করবে। পরবর্তীতে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কে পরাজিত করে ক্ষমতা গ্রহণ করে মীরজাফর।

ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধের দিন সকাল বেলা ( ১৭৫৭ সাল, ২৩ জুন )

যখন ইংরেজদের সাথে রাষ্ট্রদ্রোহী দের গোপন চুক্তি সম্পাদন হয়ে গেল। কর্নেল লর্ড ক্লাইভ অভিযোগ অভিযোগ আনলেন, নবাব আলি নগরের সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। নবাব ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে ( মীরজাফর ও যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল নবাবের সাথে ) এবং লর্ড ক্লাইভ ও সৈন্য নিয়ে হাজির হয় মুর্শিদাবাদে। এ সময় নবাবের বিশ্বস্ত সেনা সদস্য মীর মদন, মোহনলাল আক্রমণ চালায় ইংরেজদের 

উপর। তাদের আক্রমণে পিছু হতে বাধ্য হয় ইংরেজরা। গোপন চুক্তি মোতাবেক, মীরজাফর ও তার অনুসারী সেনা সদস্যরা যুদ্ধে আক্রমণ চালাতে অস্বীকৃতি জানায় বা নিরাপদ স্থানে থাকে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে শহীদ হয় মীর মদন, অন্য প্রান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে মোহন লাল। এ সময় নবাব কে যুদ্ধ বন্ধ করার কু-পরামর্শ দেয় মীর জাফর। নবাব ও মীরজাফরের চক্রান্ত ধরতে ব্যর্থ হয় ও অন্ধের মত ( 

মীরজাফর কে ) বিশ্বাস করে। মোহনলাল কে যুদ্ধ থেকে উঠে আসার হুকুম দেয় নবাব। যুদ্ধবিরতির সময় বৃষ্টি হয় কিছুক্ষণ, বৃষ্টির কারণে নবাবের সংরক্ষিত গোলা বারুদ গুলো অকেজো হয়ে পড়ে। লর্ড ক্লাইভ এর গোলা বারুদ গুলো সংরক্ষিত থাকে। নবাবের পক্ষের শক্তির গোলা বারুদ গুলো অকেজো হয়ে পড়লে, বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের ইশারায়, নবাবের বাহিনীর উপর অতর্কিত হামলা চালাই লর্ড 

ক্লাইভ। নবাব সহ নবাবের বাহিনীর পুরো সদস্যরা ছত্র বঙ্গ হয়ে পড়ে, যুদ্ধ স্থান ত্যাগ করে। নবাব কে পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়, মিরন ( মীরজাফরের পুত্র ) মোহাম্মদী বেগকে দিয়ে জেলখানায় হত্যা করা নবাব সিরাজউদ্দৌলা কে। 

পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ( নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর কি কি পরিবর্তন এসেছিল )

পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে লাভবান হয়েছে ইংরেজরা। ইংরেজরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ভারতের প্রবেশ করেছিল ব্যবসার উদ্দেশ্যে, এখন তারা গোটা ভারতবর্ষে নিজেদের জমিদারি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে সকল পরিবর্তন এসেছে সেগুলো হলো:

1. ইংরেজদের আধিপত্য বিস্তার: পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইংরেজরা ভারতবর্ষে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক আধিপত্য লাভ করে। আগে তো ব্যবসা করার জন্য ভারতবর্ষে ইংরেজদের শুল্ক দেওয়া লাগতো। এখন তো পুরো স্বাধীন। বিনা ট্যাক্সে ব্যবসা করে ও ভারতবর্ষ থেকে সম্পদ লুটপাট করে তারা তাদের দেশে নিয়ে যেত। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হয়। 

2. যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ: ইংরেজরা ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারতের এক অঞ্চলের সাথে আরেক অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটে। মূলত এই কাজগুলো ইংরেজরা তারা তাদের নিজস্ব স্বার্থে ( ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ) করেছে। 

3. বাংলার ক্ষমতার মসনদে পরিবর্তন: নবাব সিরাজউদ্দৌলা কে রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করে হত্যা করার পর নবাবের বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি মীরজাফর বাংলার ক্ষমতার মসনদে বসে। এখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল চাবি ছিল ইংরেজদের কাছে, আর বিশেষ ঘাতক মীরজাফর ছিল শুধু পুতুল নবাব। 

4. বাংলার সমৃদ্ধশালী কৃষি খাত ও তাঁত শিল্প নিয়ন্ত্রণ: পুরো বাংলা অঞ্চল সমৃদ্ধ ছিল কৃষি ও তাঁত শিল্পের জন্য। পলাশীর যুদ্ধ ও বক্সারের যুদ্ধে যখন ইংরেজরা বিজয়ী হয় তখন তারা পুরোপুরি শিল্প ইন্ডাস্ট্রির উপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। ওই সময় বাংলার শ্রমিকরা ছিল নিরুপায়। তারা তাদের শ্রমের ন্যায্য 

পাওনা পেত না। কৃষকরা কষ্ট করে পণ্য উৎপাদন করত, ইংরেজরা তাদের বাধ্য করতো কম দামে বিক্রি করতে। তাঁতীদের কে বাধ্য করা হত মুসলিন বুনতে। তাঁতীদের ন্যায্য মূল্য দিতে ইংরেজরা অস্বীকার করত। তাঁতীরা কাজ না করলে তাদের উপর অমানবিক জুলুম নির্যাতন করতো। 

5. ইউরোপীয় সাংস্কৃতির আমদানি: এ সময় বাংলা সহ পুরো ভারতবর্ষে ইউরোপীয় কালচার এর আমদানি শুরু হয়। এ সময়কার মানুষ পূর্ববর্তী সমাজ ব্যবস্থাকে ফেলে দিয়ে, নতুন সমাজ ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হয়। এই অঞ্চলে শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, আইন-কানুন, সামাজিক জীবন ব্যবস্থা, কূটনৈতিক কৌশল, সামরিক খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। মানুষ ইউরোপীয় জীবনধারাকে আপন করে নেয়। 

আরো পড়ুনঃ- অনার্স ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ বর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের বইয়ের তালিকা

6. বাংলার সম্পদ চুরি: বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলার কোষাগার খালি হয়ে যায়। এ সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও কর্নেল লর্ড ক্লাইভ কে প্রচুর অর্থ দিতে হতো বাধ্যতামূলকভাবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধশালী প্রাকৃতিক সম্পদ গুলো তারা বল প্রয়োগ করে ব্রিটেনে নিয়ে যেত। ইংরেজরা ছিল রক্তচোষা। পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইংরেজরা বাংলার মানুষের রক্ত চুষা আরম্ভ করে। 

7.রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব লাভ: এই যুদ্ধের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষে ইংরেজরা রাজনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করে। তাদের রাজনৈতিক সক্ষমতা শুধু বাংলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি, বাংলা থেকে উত্তর ভারত, তারপর ধীরে ধীরে গোটা ভারতবর্ষ গ্রাস করে। 

8. স্বাধীনতার অপহরণ: স্বাধীন বাংলার সর্বশেষ নবাব ছিল সিরাজউদ্দৌলা। তাকে হত্যা করার পর বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ডুবে যায়। স্বাধীন বাংলার মানুষ পরিণত হয় ইংরেজদের দাস-দাসী তে। 

9.ফরাসিদের বিতাড়িত করা: ওই সময় ইংরেজদের সাথে ফরাসিদের দ্বন্দ্ব চলছিল। ইংরেজদের আধিপত্যের সামনে ফরাসিরা ঠাই খুঁজে না পেয়ে, তারা ভারত বর্ষ ছেড়ে চলে যায়। 

নবাব সিরাজউদ্দৌলা কেন পরাজিত হয়েছিলেন ( নবাব সিরাজউদ্দৌলার যে সকল ভুল পদক্ষেপ ছিল )

এই আর্টিকেলে পুরো সময় জুড়ে আমরা " পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর " এই বিষয়ের উপর লম্বা আলোচনা করেছি। এখন আমরা একজন রাষ্ট্রের শাসক বা নবাবের কিছু দুর্বলতা নিয়ে বা অ-দূরদর্শিতা নিয়ে আলোচনা করব। যার কারনে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং নবাব পরাজিত হয়।

1. নবাবের বিশ্বস্ত সহচর মীর মদনের মৃত্যু: পলাশীর প্রান্তরে মীর মদন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সহিত যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। যার আঘাতে প্রত্যাঘাতে ইংরেজরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। যুদ্ধে মীর মদনের মৃত্যু নবাব কে একা করে দেয়। 

2. সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব: ওই সময় নবাব সিরাজউদ্দৌলা কাউকে কাউকে বিশ্বাস করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদার্পণ করেছিলেন। কিন্তু এরা বরাবরের মতো মুসলিম শাসন বিরোধী ছিল। যার মধ্যে অন্যতম হলো: জগৎ শেঠ ( মূল মাস্টার মাইন্ড ), রায় দুর্লভ, রাজবল্লভ, নন্দকুমার সহ আরো অন্যান্য ব্যক্তি বর্গ। যারা রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রে অতপ্রত ভাবে জড়িত ছিল। 

3. প্রধান সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতা: নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি ছিল বিশ্বাসঘাতকতা মীরজাফর। সেই তৎকালীন নবাব তথা পুরো বাংলার মানুষের সাথে বেইমানি করেছে। নবাব যদিও তাকে বিশ্বাস করেছে। কিন্তু বেঈমান কে তো আর বিশ্বাস করা যায় না। এই হলো তার সর্বশেষ পরিণতি। 

4. যুদ্ধ বন্ধের পরামর্শ: ওই সময় কালে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্টে মীরজাফরের কু-পরামর্শে নবাব যুদ্ধ বন্ধ করে, যা ছিল খামখেয়ালি পনা। ওই সময় নবাব যদি যুদ্ধ বন্ধ না করে মোহনলাল কে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতেন তাহলে হয়তো ফলাফল ভিন্ন রকম হতে পারত।

আরো পড়ুনঃ- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ করের মধ্যে পার্থক্য

5. নৌ বাহিনীর ঘাটতি: বর্তমানে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। একটি দেশ সামরিক শক্তিতে শক্তিশালী হওয়ার জন্য প্রয়োজন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনী ( স্থলপথে দায়িত্ব পালন করে ) থাকলেও নৌ বাহিনী ছিল না। শুরুর দিকে নবাব কলকাতা আক্রমণ করে কলকাতা শহর নিজের দখলে নিলেও, ইংরেজরা ওই সময় জাহাজে করে ভাগীরথী নদীতে অবস্থান করছিল। লর্ড ক্লাইভ যখন কলকাতা আক্রমণ করেন তখন তার সৈন্যদের প্রতিহত করার জন্য নবাবের নৌবাহিনী ছিল না। 

6. নবাবের ভুল সিদ্ধান্ত: ইতিমধ্যে কয়েকবার মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিলেও, নবাব তাকে অবসরে না পাঠিয়ে তাকে স্বপদে বহাল রাখে। এদিকে আলী-নগরের সন্ধি চুক্তি ও ইংরেজদের ব্যাপারে পিছুটান নীতির কারণে এমনটা ঘটেছে। নবাব যদি ওই সময় জগৎশেঠ, মীরজাফর, রাজবল্লভ, রায় দুর্লভ, ইয়ার লতিফ, ঘসেটি বেগমদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে পারতেন তাহলে এমনটা করত না। 

পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর ( FAQ )

1. পলাশীর যুদ্ধ কি ?

উত্তর: বাংলার সর্বশেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইংরেজদের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় পলাশী প্রান্তরে তাকে পলাশীর যুদ্ধ বলা হয়।

2. পলাশীর যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয় ?

উত্তর: ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন

3. পলাশী যুদ্ধে কোন পক্ষ বিজয়ী হয় ?

উত্তর: ইংরেজ শক্তি বিজয়ী হয়, বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বাংলার স্বাধীন নবাব পরাজিত হয়।

4. পলাশী স্থানটি কোথায় ?

উত্তর: হুগলি নদীর তীরে পলাশী নামক স্থানে। যে জায়গাটি মুর্শিদাবাদের দক্ষিণে ও কলকাতা থেকে ৯৩ মাইল উত্তরে।

5. নবাব সিরাজউদ্দৌলা কার স্থলাভিষিক্ত হয় ?

উত্তর: আলীবর্দি খানের।

6. আলীবর্দি খান ও সিরাজউদ্দৌলা মধ্যে কি সম্পর্ক ছিল ?

উত্তর: আলীবর্দি খান ছিল নানা এবং সিরাজউদ্দৌলা ছিল আপন নাতি।

7. ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন কি বার ছিল ?

উত্তর: বৃহস্পতিবার

8. নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোন কোন জায়গার শাসক ছিলেন ? 

উত্তর: বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা

9. হুগলি নদীটা কোথায় ?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায়। 

10. সিরাজউদ্দৌলার নবাব হিসেবে কত বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন ?

উত্তর: ১৭৫৬ - ১৭৫৭ পর্যন্ত।

11. পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্বে কে ছিল ?

উত্তর: লর্ড ক্লাইভ বা রবার্ট ক্লাইভ

12. রবার্ট ক্লাইভ এর উপাধি কি ছিল ?

উত্তর: লর্ড ক্লাইভ। এটি ব্রিটিশ সরকার তাকে দিয়েছিল।

13. পলাশীর যুদ্ধ কখন শুরু হয় ?

উত্তর: সকাল ০৮:০০ ঘটিকায়।

14. নবাবের হয়ে বীরত্বের সহিত যুদ্ধ করেছে এমন কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ কর ?

উত্তর: মীর মদন, মোহনলাল, নব সিং হাজারী, খাজা আব্দুল হাদী খান। 

15. যুদ্ধের ময়দানে নবাবের সাথে বেইমানি করেছে এমন কয়েকজন ব্যক্তির নাম বলো ?

উত্তর: মীরজাফর, রায় দুর্লভ, ইয়ার লতিফ।

16. ইংরেজ বাহিনীদের অতর্কিত আক্রমণ করে দিশেহারা করে দেয় কে ?

উত্তর: মীর মদন

17. গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধান কে ছিল ?

উত্তর: মীর মদন

18. মীর মদন এর অতর্কিত আক্রমণে ক্লাইভ তার সেনাবাহিনী নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেয় ?

উত্তর: আম বাগানে

19. পলাশীর যুদ্ধে কোন সময় বৃষ্টি হয়েছিল ?

উত্তর: দুপুরের দিকে।

20. বৃষ্টি নামার কারণে নবাবের বাহিনীর কি ক্ষতি হয় ?

উত্তর: গোলাবারুদ গুলো ভিজে যায়, যা পরবর্তীতে ফুটে না। 

21. মীর মদন কিভাবে নিহত হয় ?

উত্তর: ইংরেজ বাহিনীর গোলার আঘাতে। শুরুর দিকে তিনি আহত হলেও পরবর্তী তিনি শহীদ হন।

22. পলাশীর যুদ্ধে নবাবের কি কি সরঞ্জাম ছিল ?

উত্তর: ৫০ হাজার সৈন্য, ১০টি হাতি, ৪০ টি কামান।

23. পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর কি কি সরঞ্জাম ছিল ?

উত্তর: ৩ হাজার সৈন্য ও ভারী গোলাবারুদ ছিল।

24. পলাশীর যুদ্ধ কত ঘন্টা হয়েছিল ?

উত্তর: মাত্র ১১ ঘণ্টা।

25. নবাবের নিহত সৈনিকের সংখ্যা কত ছিল ?

উত্তর: ৫০০ জন

26. ইংরেজদের নিহত সৈনিকের সংখ্যা কত ছিল ?

উত্তর: ২২ জন

27. পলাশীর যুদ্ধের পর পরই কি ইংরেজরা গোটা ভারতবর্ষে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে ?

উত্তর: না। এই যুদ্ধের পর ইংরেজদের দাপট আরো বেড়ে যায়।

28. বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের কাছ থেকে লর্ড ক্লাইভ কত পাউন্ড পায় ?

উত্তর: ৩,৩৪,০০০ পাউন্ড

29. মীরজাফরের পরে বাংলার নবাব কে হয় ?

উত্তর: মীর কাসিম, যিনি লর্ড ক্লাইভ এর জামাতা। মীরজাফর লর্ড ক্লাইভ কে অর্থ দিতে অস্বীকার করলে, বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরকে ক্ষমতা চ্যুতি করা হয়। ওই সময় পুরো ক্ষমতার রাডার ছিল ইংরেজদের হাতে। তারা চাইলে ক্ষমতার রদবদল করতে পারত।

30. পুরো ভারতবর্ষে ইংরেজরা নিয়ন্ত্রণ নেয় কখন ?

উত্তর: ১৭৬৪ সালে, বক্সারের যুদ্ধের পর।

31. বক্সারের যুদ্ধ কাদের মধ্যে সংঘটিত হয় ?

উত্তর: দিল্লি সম্রাট শাহ আলম ও ইংরেজদের মধ্যে।

32. পলাশীর লুণ্ঠন কি ?

উত্তর: পলাশীর যুদ্ধের পরে ইংরেজরা ভারতবর্ষ থেকে যে অর্থ সম্পদ লুট করে ইংল্যান্ডে ট্রান্সফার করে যাকে পলাশীর লুণ্ঠন বলে। এই সম্পদের বিনিময়ে ইংরেজরা কোন টাকা বা সোনা, রূপা হস্তান্তর করে নি। 

শেষ মন্তব্য: লেখকের কথা

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, এই আর্টিকেলে "পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা কর" এই বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আর্টিকেলটি যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে পলাশীর যুদ্ধ কি, কেন হয়েছিল, তার পরিণাম কি হয়েছিল, বাংলার কি কি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সব কিছুর উত্তর আপনি পেয়ে যাবেন। 

এই ধরনের ঐতিহাসিক ঘটনার আর্টিকেলগুলো আমাদের ওয়েবসাইটে আমরা পাবলিশ করার চেষ্টা করি। এতক্ষণ পুরো সময় জুড়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করে এখানেই শেষ করছি। 13.08.2026


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url