রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর

রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর যা আজকের এই আর্টিকেলের মূল আলোচ্য বিষয়বস্তু। অর্থনীতি এবং রাজনীতি আলাদা টপিকস হলেও কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এই দুটি একে অপরের পরিপূরক।

রাজনৈতিক-অর্থনীতি-পাঠের-গুরুত্ব-আলোচনা-কর

পোস্টসূচীপত্রঃরাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের প্রয়োজনীয়তা জানার মধ্য দিয়ে একটি আধুনিক সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব। এবং দেশের অর্থনীতিকে কিভাবে মজবুত করা যায় সেই বিষয়েও আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি।

রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর 

রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর যা বর্তমানে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যারা রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ছাত্র তাদের পরীক্ষায় প্রায় এই ধরণের প্রশ্ন গুলো এসে থাকে। একজন আধুনিক সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি সমন্বিত বিজ্ঞানের বিষয়টি 

আমাদের জানা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের মূল বিষয়বস্তু। চলুন তাহলে এখন এক নজরে রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।

1. জন কল্যাণ নিশ্চিত করাঃ- মানুষ সমাজ বদ্ধ জীব এবং রাষ্ট্র হলো সব থেকে বড় সামাজিক ইন্সটিটিউট। রাষ্ট্রের কাজ হলো মানুষের জান,মালের নিরাপত্তা দেওয়া এবং যেখানে কল্যাণ রয়েছে সেই দিকে মানুষকে ধাবিত করা। 

মানুষের মূল মৌলিক অধিকার যেমনঃ- শিক্ষা, বস্ত্র, চিকিৎসা,খাদ্য, বাসস্থান নিশ্চিত করা। একটা দেশের অর্থনীতি যত বেশি শক্তিশালী মানুষের জীবন যাত্রার মান তত উন্নত হবে। মূলত অর্থনৈতিক কল্যাণের উপরই সাধারণ কল্যাণ গুলো নির্ভর করে। 

2. সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করণঃ- প্রতিটি রাষ্ট্রের কোন না কোন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একদিকে অভাব অন্যদিকে অসীম পরিমাণ চাহিদা যার কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। 

রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের আমরা জানতে পারি কিভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অভাব দূর করা যায়। কোন সম্পদের কতটুকু, কিভাবে ব্যবহার করতে যায় সেই বিষয় গুলো রপ্ত করতে পারি।

3. নাগরিকের জীবন সহজ করাঃ- প্রত্যেক নাগরিক চায় তার জীবন যাপন যেন সহজ, সুখী, সমৃদ্ধি সম্পন্ন হয়। কিন্তু দেখা যায় দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্ব গতি, বেকারত্ব, ক্রাইম, সামাজিক নিরাপত্তা হীনতা এগুলোর কারণে সাধারণ অর্থনৈতিক জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। 

রাজনৈতিক অর্থনীতির মাধ্যমে আমরা সমাজ থেকে ক্ষতিকর প্রভাব নির্মূল করে একটি সুস্থ-সুন্দর-স্বাভাবিক সমাজ গঠন করতে পারি। একটি সুখী সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্র বি-নির্মাণ করতে পারি।

4. দেশে নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নঃ- দেশের সব থেকে বড় রাজনৈতিক ইনস্টিটিউট হলো রাষ্ট্র। রাষ্ট্র নাগরিকের চাহিদা মাঝে রেখে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মসূচি হাতে নিয়ে থাকে। রাজনৈতিক অর্থনীতির মাধ্যমে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব। 

অনেক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা বিষয়টি কি এমন ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে যে, রাজনীতি হলো ইঞ্জিন এবং অর্থনীতি হলো জ্বালানি। সুতরাং বুঝে যাচ্ছি রাজনীতি এবং অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। দুটি কোন একটি ছাড়া সম্পূর্ণ অচল।

5. আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সুসংহত করাঃ- একটি আধুনিক রাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈদেশিক রাষ্ট্রের সাথে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরী। এর মাধ্যমে ওই দেশের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

6. জনসংখ্যার সমস্যার সমাধানঃ- বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ গুলো ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ঘনবসতির কারণে চাষযোগ্য জমিগুলো ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান তো দূরে থাক, এরূপ পরিস্থিতির কারণে মানুষের জনজীবন হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। 

এমন অবস্থায় রাজনৈতিক অর্থনীতি জ্ঞান রাষ্ট্রের প্রকৃত বাস্তব অবস্থা মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারে। এজন্য রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক বিশ্বের উপর জ্ঞান আহরণ করা জরুরী। 

7. মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাঃ- রাজনৈতিক অর্থনীতি এর মাধ্যমে একজন মানুষ বাস্তবে নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের মাধ্যমে মানুষের মন থেকে গোঁড়ামি দূর হয়, মানুষ প্রকৃত বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারে। মানুষ অনেক সময় আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলে কিন্তু রাজনৈতিক অর্থনীতি প্রকৃত বাস্তবতা 

মানুষের সামনে তুলে ধরে। রাজনৈতিক অর্থনীতি অধ্যয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অর্থনীতির উদ্দেশ্য, সামর্থ্য, দেশে বিদ্যমান সম্পদের পরিমাণ, বাস্তব পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে পারে। যার ফলে তার মন থেকে অহেতুক চিন্তা, ঘৃণা, উত্তেজনা, হিংসা বিদ্বেষ এগুলো দূর করে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহযোগিতা করে। 

8. দেশের সংস্কার এবং উদার রাজনৈতিক মনোভাবঃ- বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এই ভূখণ্ডের মানুষের উপর দীর্ঘকালীন উপনিবেশিক শাসন ও সর্বশেষ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন হয়। এখন সরকারের প্রয়োজন জনগণকে সাথে নিয়ে দেশ 

সংস্কার কাজ করা এবং রাজনীতিবিদদের উদার মন-মানসিকতার পরিচয় দেওয়া। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টিটিউট গুলোকে সু-সংগঠিত করা। দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করা। যা আমরা রাজনীতি অর্থনৈতিক পাঠের মাধ্যমে জানতে পারি। 

9. অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করাঃ- বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় উন্নয়নশীল দেশ কিন্তু আজও সেই উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি। বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট, বিদেশি প্রভাব, অপসংস্কৃতির কারণে এ দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। এদেশে যতটুকু প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে সেগুলোরও 

যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে দেখা যাচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদের মধ্যে সুষম বন্টন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে জাতীয় অর্থনীতি সুসংহত হচ্ছে না। তাই জাতীয় অর্থনীতিকে সুসংহত এবং মজবুত করতে রাজনৈতিক অর্থনীতি কে গুরুত্ব সহকারে মূল্যায়ন করতে হবে। 

10. অর্থ-সম্পদ এর সুষম বন্টন নিশ্চিত করাঃ- দেশে জনগণের নিকট ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যে সম্পদ গুলো রয়েছে সেগুলো একটি নিয়ম তান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ এবং তা পুনরায় জনগণের মধ্যে বন্টন ও দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু। আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হল সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করা। জনগণের নিকট ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার সম্পদ 

গুলো সরকার বিভিন্ন কাজে খরচ করে যেমন: আর্থিক অনুদান, বৃত্তি প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া ইত্যাদি। পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে সম্পদ খরচ করে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করে থাকে। আর এই পুরো বিষয়গুলো আমরা তখনই সুস্পষ্টভাবে জানতে পারব যখন আমরা রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পাঠের গুরুত্ব অনুধাবন করব।

রাজনৈতিক অর্থনীতি বলতে কি বুঝ - রাজনৈতিক অর্থনীতি কাকে বলে 

আমরা এতক্ষণ " রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর"সে বিষয়ে জানলাম। এখন জানবো রাজনৈতিক অর্থনীতি বলতে কি বুঝ / রাজনৈতিক অর্থনীতি কাকে বলে ? সেই বিষয়ে। অর্থনীতি এবং রাজনীতি দুটি ভিন্ন বিষয় হলেও আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামো তে এগুলোর গুরুত্ব ও ভূমিকা অপরিসীম। রাজনৈতিক অর্থনীতির মূল কাজ হল: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সাথে অর্থনীতির একটি মেলবন্ধন তৈরি করা। 

যেখানে কিভাবে সম্পদ বন্টন করা হবে, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সেক্টর গুলো কেমন হবে ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।  বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং অর্থনীতি বি'দরা রাজনৈতিক অর্থনীতি বিভিন্ন সংজ্ঞা তুলে ধরেছে। তাদের মধ্যে কয়েকটি জনপ্রিয় সংজ্ঞা হলো:

👉 সাধারণ ভাষায় রাজনৈতিক অর্থনীতি হলো: রাজনীতি ও অর্থনীতির সংমিশ্রণ যেখানে রাষ্ট্র কিভাবে সম্পদ বন্টন, ব্যবহার, ও নিয়ন্ত্রণ করে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়। 

আরো পড়ুনঃ- অনার্স ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ বর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের বইয়ের তালিকা

👉 অন্য ভাষায় বলা যায়: রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ খাতে সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার করে জনসাধারণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই হলো রাজনৈতিক অর্থনীতি।  

রাজনৈতিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ গুলো হলো: রাষ্ট্র, ইকোনমিক সিস্টেম, সাধারণ জনগণ, সম্পদ বন্টন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক অর্থনীতি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে আইন, রাজনীতি, অর্থনীতিকে একত্রে করা হয় এবং কিভাবে সম্পদ উৎপাদন করবে, বন্টন করবে, ভোগের প্রক্রিয়াগুলো আলোচনা করা হয়। নীতি নির্ধারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত অর্থনৈতিক নীতিমালা গুলো কিভাবে সাধারণ জনগণের উপর প্রভাব ফেলবে সে সকল বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হয়। 

অর্থনীতি রাজনৈতিক এই নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাখ্যা কর 

অতীতের সময় থেকে নিয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং রাজনীতিবিদরা “  রাজনৈতিক অর্থনীতি ” সম্পর্ক বিভিন্ন মতামত প্রদান করেছেন। তাদের মতামত থেকে এতটুকু স্পষ্ট হওয়া গেছে যে, অর্থনীতির সাথে রাজনীতির একটি গভীর সম্পর্ক আছে। এখানে রাষ্ট্রের উপমা দেওয়া হয়েছেঃ- ইঞ্জিন এবং অর্থনীতির উপমা দেওয়া হয়েছেঃ- জ্বালানী। উভয় এক অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থনীতি রাজনৈতিক এই নিয়ন্ত্রণ করে, কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হলোঃ-

👉 কোন দেশে যদি রাজনৈতিক অ-স্থিতিশীলতা বিরাজ করে সেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সে সকল রাষ্ট্রে বিদেশি বিনিয়োগ আসে না। দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে যায়। কোন একটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশের দিকে তাকালে আপনি অনুধাবণ করতে পারবেন যেমনঃ- ফিলিস্তিন। সেখানে রাজনীতিও নেই, অর্থনীতিও নেই।

👉 প্রত্যেকটি রাজনৈতিক কর্মসূচী এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সাথে অর্থনীতি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। কোন একটি রাজনৈতিক সংগঠন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে হলে তাকে জনগনের জন্য টাকা খরচ করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ- অনার্স ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বইয়ের তালিকা

👉 দুনিয়ার জীবনের চালিকা-শক্তি টাকা। মানব জীবনের প্রতিটি বিষয়বস্তু অর্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অর্থনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে রাজনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে।

👉 দেশের উন্নয়নের জন্য নির্বাচিত সরকার সংসদে বাজেট উত্থাপন করে। দেশের কোন খাতে কি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে আমরা জানতে পারি। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

👉 কোন সরকার যদি নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখে ঐ সরকারের তখন জনপ্রিয়তা বাড়ে। পরের নির্বাচনে ঐ সরকার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ( উদাহারণঃ- 1. বিগত সরকাররের সময়ে গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম যদি ১৫০০ টাকা থাকে, বর্তমান সরকারের সময়ে সের সিলিন্ডারের দাম যদি ১৪০০ টাকা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে বর্তমান সরকারের গ্রহণ যোগ্যতা বাড়ে। পরবর্তী ইলেকশনে ক্ষমতায় আসার সুযোগ তৈরি হয়। 2. কোন সরকার যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ায় তাহলে ঐ সরকারের গ্রহণ যোগ্যতা বাড়ে। )

ইসলামী অর্থনীতির জনক কে 

অর্থনীতির জনক হিসেবে আমরা এডাম স্মিথ এর নাম শুনে থাকলেও তারও ৪০০ বছর পূর্বে একজন বিখ্যাত মুসলিম অর্থনীতিবিদ ছিলেন। যাকে ইসলামী অর্থনীতির জনক বলা হয়। 

👉 তার নাম হলোঃ- ইবনে খালদুন। পুরো নামঃ-  ওয়ালিউদ্দীন আবু জায়েদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান ইবনে খালদুন আল-হাদরামি.

👉জন্মঃ- ১৩৩২ সালে ২৭ মে ( তিউনিসিয়া ) এবং মৃত্যুঃ- ১৪০৬ সালে ১৭  মার্চ ( মিশর )

👉 বিখ্যাত গ্রন্থঃ- আল-মুকাদ্দিমা

👉 যে সকল বিষয় গুলো তিনি উল্লেখ করেনঃ- জনসংখ্যা, শ্রম বিভাজন, মুদ্রা, মূলধন সংগঠন, মূল্য পদ্ধতি, চাহিদা ও যোগান সহ অন্যান্য বিষয়াবলি।

রাজনৈতিক অর্থনীতি নামটি প্রথম কে ব্যবহার করেন - রাজনৈতিক অর্থনীতি শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন - রাজনৈতিক অর্থনীতি কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন কে 

রাজনৈতিক অর্থনীতি নামটি /শব্দটি /কথাটি  প্রথম প্রয়োগ করেন একজন ফরাসি অর্থনীতিবিদ। যার নাম হলোঃ- অ্যান্টনি ( Antoine )  ডি ( de ) মনক্রেটিয়েন ( Montchrestien ). তিনি রাজনৈতিক অর্থনীতি ধারণা দেন ১৬১৫ সালে। তার লেখা জনপ্রিয় একটি গ্রন্থ হলোঃ- " Traite de l'oeconomie politique ".

রাজনৈতিক অর্থনীতির জনক কে 

অর্থনীতির জনক হিসেবে “ অ্যাডাম স্মিথ ” এর স্বীকৃতি থাকলেও কিন্তু রাজনৈতিক অর্থনীতির সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দেন অ্যান্টনি ডি মনক্রেটিয়েন, ১৬১৫ সালে। তারও অনেক পরে ১৭৭৬ সালে অ্যাডাম স্মিথ তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations’ প্রকাশ করেন। যেখানে তিনি রাজনীতি এবং অর্থনীতি পৃথক স্বত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। অর্থনীতিকে সম্পদের বিজ্ঞান বলে মূল্যায়ন করেন। 

অর্থনীতি রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে উক্তিটি কার 

👉অর্থনীতি রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে উক্তিটি হলো - এইচ যে লাস্কি এর ( বিতর্কিত )। আপনার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অর্থনীতি ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষকদের কাছ থেকে জেনে নিন।

এডাম স্মিথ কোন দেশের অর্থনীতিবিদ 

👉 এডাম স্মিথ একজন স্কটিশ অর্থনীতিবিদ। যিনি জন্ম গ্রহণ করেছেন - ১৭২৩ সালে ১৬ জুন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন - ১৭৯০ সালে ১৭ জুলাই। তার বিশেষ যোগ্যতা হলোঃ- তিনি একাধারে ছিলে দার্শনিক এবং অর্থনীতিবিদ। অর্থনীতির জনক হিসেবে তার গোটা বিশ্বে তার খ্যাতি রয়েছে। তার লেখা ২টি গ্রন্থ হলোঃ-

আরো পড়ুনঃ- ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অর্থ কি - ওরিয়েন্টেশন ক্লাস এর বক্তব্য জেনে নিন

  • The Theory of Moral Sentiments ( 1759 )
  • The Wealth of Nations ( 1776 )

A treatise on political economy গ্রন্থটির লেখক কে 

👉 A treatise on political economy গ্রন্থটির লেখক হলেনঃ- Jean-Baptiste Say. যিনি একজন ফরাসি নাগরিক। ১৮০৩ সালে ফরাসি ভাষায় A treatise on political economy গ্রন্থটি রচনা করেন। ঐ সময়ে অর্থনীতিবিদ হিসেবে তার তুমুল জনপ্রিয়তা ছিল।

Wealth of nation গ্রন্থের লেখক কে 

👉 Wealth of nation গ্রন্থের লেখক এর নাম হলোঃ- এডাম স্মিথ। তিনি ১৭৭৬ সালে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন। তার এই গ্রন্থের কারণে অর্থনীতির জনক হিসেবে তিনি মর্যাদা লাভ করেছেন।

দুটি উন্নয়নশীল দেশের নাম 

যে সকল রাষ্ট্রগুলোর ইকোনমি মধ্যম সারির অথবা মধ্যম থেকে কিছুটা নিম্ন-সারির, এই রাষ্ট্রগুলো ভবিষ্যৎতে উন্নয়নশীল দেশের তালিকা নিজেদের নাম যুক্ত করতে পারে, এমন দুটি উন্নয়নশীল দেশের নাম হলোঃ- 

  • বাংলাদেশ
  • নেপাল

এই তালিকায় আরও উন্নয়নশীল দেশের নাম যুক্ত করা যায় যেমনঃ- ভারত, পাকিস্থান, আফগানিস্থান, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ইত্যাদি।

শেষ মন্তব্যঃ রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ আমি এই আর্টিকেলে “ রাজনৈতিক অর্থনীতি পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর ” এই বিষয়ের উপর গুরুত্ব সহকারে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছি। আমরা আমাদের ওয়েবসাইট এমন সব শিক্ষা বিষয়ক আর্টিকেল গুলো পাবলিশ করি যেখানে পাঠকরা বাস্তবে উপকৃত হবে। 

এই টাইপের প্রশ্ন গুলো পরীক্ষায় বার বার ঘুরে ফিরে আসে। এই ধরণের প্রশ্নের উত্তর বিষয়ক আর্টিকেল গুলো আরও পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। যেকোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে করে রাখুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। এতক্ষণ পুরো সময় জুড়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। 04.08.2026

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url