কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার - কিডনি ভালো রাখার উপায়
কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার - কিডনি ভালো রাখার উপায় না জানার কারণে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে। কোন কারণে কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেলে সেই মানুষ বাঁচে না। মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কিডনি।
পোস্টসূচীপত্রঃ- কিডনির ব্যাধি খুব সূক্ষভাবে দেহে আক্রমণ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে যা অনুমাণ করা যায় না। এজন্য আমাদের কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার - কিডনি ভালো রাখার উপায় জানা প্রয়োজন।
কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার জানা থাকলে যেকোন সময়ে আমরা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারব। যেকোন রোগ হঠাৎ করে বড় হয় না, অবহেলার কারণে ধীরে ধীরে তা বড় হয়ে জটিল রোগে পরিণত হয়। প্রত্যেকটি রোগের ছোট খাটো লক্ষণ রয়েছে। যে লক্ষণ গুলো আমাদের জানা থাকলে দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে। কিডনির রোগ গুলো প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা খুব কঠিন।
যখন তা জটিল আকার ধারণ করে তখন অনুমান করা যায়। এখন আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব।
কিডনি রোগের লক্ষণ:
- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া অথবা প্রস্রাব কমে যাওয়া। প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হওয়া। অনেক সময় প্রস্রাবের চাপ লাগলেও প্রস্রাব হয় না।
- প্রস্রাব চলাকালীন শরীরের জ্বালাপোড়া, শরীরে ব্যথা অনুভব হয়। এক পর্যায়ে জ্বর জ্বর অনুভব হয়।
- কারো কারো ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সাথে রক্ত দেখা দেয়। এ সময় বিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- কিডনি রোগের কারণে শরীর সবসময় ফোলা ফোলা ভাব থাকে।
- রক্তশূন্যতা হয়। মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, কাজে অমনোযোগী হওয়া ইত্যাদি এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
- শরীর সবসময় ঠান্ডা হয়ে থাকে এবং গরম আবহাওয়াতে শীত লাগে।
- কিডনি দুর্বল হয়ে গেলে রক্তে বর্জ্য পদার্থের মাত্রা বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে শরীরের চুলকানি হতে থাকে।
- বমি বমি ভাব লেগে থাকে।
- শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা হয়।
- পিঠের পিছনের অংশে ব্যথা অনুভব হয়।
কিডনি রোগের প্রতিকার: নিয়ম তান্ত্রিক জীবন যাপনের মাধ্যমে আমরা কিডনি রোগের প্রতিকার করতে পারি। এজন্য জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। এজন্য কিডনি ভালো রাখতে প্রয়োজন:
- নিয়মিত শরীর চর্চা করা
- রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা
- বয়স অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- ডায়াবেটিসের ব্যাপারে সতর্ক থাকা
- অতিরিক্ত মসলা, চর্বি, তেলজাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলা
- নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করা থেকে বিরত থাকা
- ব্যথার ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া
- বেশি বেশি পানি খাওয়ার অভ্যাস করা
- প্রস্রাব চেপে না রাখা
- বছরে ১/২ বার রক্তের ক্রিয়েটিনিন টেস্ট করা
কিডনি ভালো রাখার উপায়
শরীর থেকে বর্জ্য নির্গত করে শরীরকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখে কিডনি। এটা মূলত মানবদেহে ছাঁকনির মত কাজ করে। কিডনি রোগ সাধারণত ২ ধরনের হয়ে থাকে যেমন: দীর্ঘমেয়াদী ( উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ) স্বল্প মেয়াদী ( ডায়রিয়া, জ্বর, রক্তশূন্যতা, পানি শূন্যতা ) ইত্যাদি। কিডনি ভালো রাখার উপায় নিম্নরুপঃ-
- দৈনিক ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন। পানি শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ নির্গত করতে সাহায্য করে।
- অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
- ফাস্টফুড, চর্বি জাতীয় খাদ্য পরিহার করুন।
- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করুন এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আছে কিনা তা টেস্ট করুন
- অ্যালকোহল, ধুমপান থেকে দূরে থাকুন
- দৈনিক ৭ - ৮ ঘন্টা ঘুমান এবং অতিরিক্ত টেনশন থেকে নিজেকে দূরে রাখুন
- স্বাস্থ্যকর শাকসবজি এবং মৌসুমী ফল খাদ্য তালিকায় রাখুন।
- বছরে ১/২ বার কিডনি পরীক্ষা করুন
- এই আর্টিকেলের উপরের পর্বে কিডনি রোগের প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করেছি এগুলো মেনে চলুন।
সুস্থ কিডনির লক্ষণ
কিডনি মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনির সমস্যা দেখা দিলে স্বাভাবিক জীবন যাপন বাধাগ্রস্থ হয়। তাই কিডনির সুস্থ রাখা একান্ত প্রয়োজন। এখন অনেকে জানতে চান সুস্থ কিডনির লক্ষণ কোন গুলো। সুস্থ কিডনির নিদিৃষ্ট কিছু লক্ষণ রয়েছে। যে লক্ষণ গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে আমরা বুঝতে পারি আমাদের কিডনি কতটুকু সুস্থ সে বিষয়ে। সুস্থ কিডনির লক্ষণ হলোঃ-
- প্রস্রাবের রং প্রাকৃতিক হয় অথবা মাঝে মাঝে হালকা হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। তবে প্রস্রাবের রঙ যদি খুব বেশি হালকা অথবা গাড়ো রংয়ের হয় তাহলে কিডনির সমস্যা হতে পারে।
- প্রতিদিন কি পরিমাণ প্রস্রাব হচ্ছে তা লক্ষ্য রাখা। সুস্থ কিডনির লক্ষণ হলোঃ- প্রতিদিন একই পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া।
- প্রস্রাব চলাকালীন সময়ে ব্যথা অনুভব না হওয়া অথবা অস্বস্তি অনুভব না করা।
- শরীরের ওজনের মধ্যে ভারসাম্য থাকে। হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া অথবা বেড়ে যাওয়া এই সমস্যা হয় না।
- দেহে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সারাক্ষণ গন্ধ অনুভব না হওয়া।
- শরীর সব সময় সতেজ, স্ট্রং থাকে
- শরীর ফোলা ফোলা ভাব থাকে না। কারণ, সুস্থ কিডনি দেহ থেকে অপ্রয়োজনীয় তরল পদার্থ নিষ্কাশন করে দেয়।
কিডনি পাথরের লক্ষণ
কিডনিতে যত কারণে পাথর হয় তার একটি অন্যতম কারণ হলোঃ- পানি কম পান করা। যারা বাহিরে রোদে কাজ করেন কিন্তু পানি কম পান করেন তাদের মূলত কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে। এটা মানবদেহের জন্য বিপদজ্জনক। প্রস্রাবে সাইট্রেট, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম এর উপস্থিতি কমে গেলে কিডনিতে পাথর হতে পারে। আবার প্রস্রাবে যদি ইউরিক এসিড এর পরিমাণ বেড়ে যায় তাহলে কিডনি
ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাছাড়া, প্রস্রাবজনিত জন্মগত কোন সমস্যা থাকলে কিডনিতে পাথর হতে পারে। এখন আমরা জানব কিডনি পাথরের লক্ষণ গুলো কি কি সেই বিষয়ে।
আরো পড়ুনঃ- তেলাকুচা গাছের শিকড় খেলে কি হয় - গর্ভাবস্থায় তেলাকুচা পাতার উপকারিতা
- মেরুদন্ডের পিছনের অংশে যদি ব্যথা অনুভব হয় তাহলে কিডনিতে পাথর হতে পারে।
- তলপেট বা ওপরের পেটের ডানে বা বামে যদি ব্যথা হয় তাহলে কিডনিতে পাথর হতে পারে।
- প্রস্রাবে লাল রং অথবা রক্ত যাওয়া।
- পাথর যদি মূত্রথলিতে নেমে আসে তাহলে উপরের পেটে ব্যথা সঙ্গে বমি, জ্বর ইত্যাদি হতে পারে।
- কিডনি মূত্রথলিতে আটকে যাওয়ার কারণে কিডনি ফুলে যেতে পারে।
কিডনির সমস্যা হলে কোথায় কোথায় ব্যথা হয়
কিডনির সমস্যা হলে কোথায় কোথায় ব্যথা হয় তা আমাদের জানা দরকার। কিডনিতে সমস্যা হলে মূলতঃ-
- উপরের পেট
- উরুর ভিতর
- পাজর
- হিপ জয়েন্ট
- কোমর
সঙ্গে জ্বর ও বমি বমি ভাব। এই ব্যথার ধরণ হবে চিন চিন, একই রকম হবে। তরল জাতীয় পদার্থ খেলে এই ব্যথা আরো বেশি হবে।
কিডনি ভালো আছে কিনা বোঝার উপায়
যারা ডায়াবেটিস অথবা উচ্চ ব্লাড প্রেসার এর মধ্যে রয়েছে, তাদের কিডনি জটিলতার ঝুঁকি সব থেকে বেশি। কিডনি ভালো আছে কিনা বোঝার জন্য আপনাকে ২টি পরীক্ষা করতে হবে যথাঃ- ( ১ ) মূত্র পরীক্ষা ( ২ ) রক্ত পরীক্ষা
মূত্র পরীক্ষাঃ- ক্রিয়েটিনিন ও অ্যালবুমিন অনুপাত এর সমন্বয়ে মূত্র পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়। অ্যালবুমিন বলতে এটা এক ধরণের প্রোটিনকে বোঝায়। প্রস্রাবের মধ্যে এই প্রোটিন রয়েছে কিনা তা মূলত যাচাই করা হয়। যদি প্রস্রাবের মধ্যে এই প্রোটিন থাকে তাহলে বুঝতে হবে কিডনি ঠিকমতো রক্ত ছাঁকছে না, এটি হলো কিডনির অসুস্থতার লক্ষণ।
রক্ত পরীক্ষাঃ- যদি রক্ত থেকে বর্জ্য ঠিকমতো নির্গত না হয় তাহলে বুঝতে হবে কিডনি ঠিক মতো কাজ করছে না।
এই দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে, আপনার কিডনি ভালো আছে কিনা। তাছাড়া কিডনি রোগের যে প্রাথমিক লক্ষণ গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এখান থেকে আপনারা আন্দাজ করতে পারেন যে আপনার কিডনি কতটুকু সুস্থ রয়েছে। যাদের বয়স ৪০+ তারা বছরে ১/২ বার কিডনি পরীক্ষা করবেন।
কিডনি ব্যথা দূর করার উপায়
এখন আমরা জানব কিডনি ব্যথা দূর করার উপায় সম্পর্কে। কিডনির ব্যথা নিদিৃষ্ট কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যে উপায় গুলো অনুসরণ করে আপনি কিডনির ব্যথা কমিয়ে আনতে পারেন। সেই উপায় গুলো হলোঃ-
- দৈনিক ২/৩ লিটার পানি পান করতে হবে। অতিরিক্ত পানি পান করলে প্রস্রাবের মাধ্যমে কিডনি থেকে পাথর বের হয়ে যাবে। কিডনির ইনফেকশন হওয়ার জটিলতা কমে আসবে। ড্রিংকস, কফি, চা এগুলো কম খেতে হবে।
- কিডনি ব্যথা দূর করার জন্য বিশ্রাম নিতে হবে। ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ডান কাঁধে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।
- ব্যথা কমানোর একটি কার্যকরী উপায় হলোঃ- গরম সেঁক দেয়া। এই পদ্ধতি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ব্যথা কমিয়ে আনা। তবে অতিরিক্ত গরম তাপ শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
- ভিটামিন সি জাতীয় খাবার শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী আমরা তা জানি। কিন্তু কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে এটি বিপদজ্জনক। ভিটামিন সি কিডনিতে অক্সালেটে পরিনত হয়। এক পর্যায়ে এটি কিডনিতে পাথর তৈরি করে।
- যেকোন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবনের পূর্বে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- প্রতিদিন গরম পানির সাথে লেবুর রস সেবন করলে এটা কিডনির ব্যথা উপশম করে এবং কিডনিতে পাথর তৈরিতে বাধা দেয়।
- তুলসী পাতা এবং মধু এক সাথে মিশিয়ে খেলে এটা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
কিডনি ভালো রাখার খাদ্য
কিডনি ভালো রাখার খাদ্য কোন গুলো তা আমাদের জানতে হবে। খাদ্য মানুষের শরীর কে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখে। যে খাবার গুলো খেলে শরীর থাকবে সতেজ এবং রোগমুক্ত সেই খাবার গুলো আমাদের নির্বাচন করতে হবে। উক্ত খাদ্য গুলো হলোঃ-
- সবুজ শাক-সবিজ
- স্ট্রবেরি
- মাছ
- দুধ
- ডিম
- বাদামী চাল
- লাল মরিচ
- শসা
- পার্সলি
- মাশরুম
- লাল আঙ্গুর
- কমলা
- পেয়ারা
- আপেল
- ব্লুবেরি
- চেরি
- বেদানা
- দারুচিনি
- অলিভ অয়েল
- তুলসী পাতা
- রসুন
- পিয়াজ
কিডনি রোগ কি ভাল হয়
এই বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে কিডনি রোগের বর্তমান কন্ডিশনের উপর। কিডনি রোগ ২ ধরণের হয় যথাঃ- ( ১ ) স্বল্পমেয়াদী ( প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, ব্যথা, জ্বর, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, শরীর দূর্বল, বমি বমি ভাব ) ( ২ ) দীর্ঘমেয়াদী ( ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি একেবারে ড্যামেজ ) হয়ে যাওয়া।
যদি স্বল্পমেয়াদী সমস্যা হয় তাহলে নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনের মাধ্যমে কিডনির জটিলতা কমিয়ে আনা যায়। যদি কিডনি একেবারে ড্যামেজ হয়ে যায় তাহলে কিডনি রোগ ভালো হয় না, সেই সময় কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়।
লেখকের মন্তব্য - কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার - কিডনি ভালো রাখার উপায়
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ এই আর্টিকেলে আমি কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার - কিডনি ভালো রাখার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বর্তমানে কিডনি রোগ মরণঘাতি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। কিডনি রোগ হু হু করে বাড়ছে সারাবিশ্বে। কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনের কোন বিকল্প নেই। কিডনি রোগের ব্যাপারে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।
আমি আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। এই ধরণের স্বাস্থ্যবিষয়ক আর্টিকেল আরো পেতে আমাদের সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। সকলের মঙ্গল কামনা করে এখানে শেষ করছি। 03.03.2026

আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url