১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া গুলো জেনে নিন। কেননা, এই ব্যবসা গুলো আপনাকে অল্প পুঁজিতে কিভাবে দ্বিগুণ মুনাফা করা যায় সেই ব্যাপারে সাহায্য করবে।
পোস্ট সূচিপত্র:আপনি যদি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চান তাহলে এই ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া গুলো আপনার উপকারে আসবে।
১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জীবনে বেকারত্ব অভিশাপ স্বরূপ। আর ব্যবসা শুরু করার জন্য সকলের কাছে বড় অংকের মূলধন থাকে না। অল্প পুঁজি নিয়ে বা ১০ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে কিভাবে একটি ব্যবসা দাঁড় করানো যায় বা কোন কোন জিনিসের ব্যবসা শুরু করা যায় সে বিষয় নিয়ে আমি আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করব। এই আর্টিকেল থেকে আপনি ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার
আইডিয়া জানতে পারবেন। বেকারত্বের এই অভিশাপ দূর করার জন্য আমাদের ছাত্র জীবন থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসার দিকে মনোযোগী হওয়া দরকার। বর্তমানে চাকরির বাজারে যে রূপ প্রতিযোগিতা চলছে এখানে চাকরি পাওয়াটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাকরির বাজারে প্রধান সমস্যা হলো: একটি চাকরির সিটের বিপরীতে শত শত প্রার্থী আবেদন করে। তাছাড়া চাকরির বাজারে
স্বজন প্রীতি, ঘুষ এগুলো নিত্যদিনের সমস্যা। তাই আপনি যদি পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটখাটো কোন ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন তাহলে এটা আপনাকে আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি দিবে। এজন্য আপনাকে এমন ব্যবসা নির্বাচন করতে হবে যে ব্যবসা গুলোতে ইনভেস্ট কম কিন্তু লাভ বেশি। শহর-অঞ্চল, গ্রামেগঞ্জে এই ব্যবসা গুলোর জনপ্রিয়তা থাকবে।
1) লন্ড্রি ব্যবসা
মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার কারণে বা তাড়াহুড়ার কারণে ছোটখাটো কাজ করার সময় নেই। আর এই সুযোগটি আপনারা কাজে লাগাতে পারেন। জামা কাপড় ইস্ত্রি করে দেওয়া, ধৌত করে দেওয়া, জিন্সের প্যান্ট রং করে দেওয়া ইত্যাদি এ সকল কাজগুলো করতে পারেন। এজন্য আপনার ২/৩ জন সঙ্গে থাকলে ভালো হয়। এই ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার প্রয়োজন: টেবিল, আয়রন মেশিন,
অন্যান্য সরঞ্জাম। আপনি এই ব্যবসা নিজ বাড়িতে অথবা ছোট্ট একটি দোকান ভাড়া নিয়ে শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসার প্রচার - প্রচারণার জন্য: ফেসবুকে একটি বিজনেস পেজ খুলতে পারেন, আপনার কন্টাক্ট নাম্বার, whatsapp নাম্বার এগুলো সচল রাখুন। একটি সুন্দর সাইনবোর্ড তৈরি করুন। নিজ এলাকায় বাসায় বাসায় গিয়ে প্রচার করুন লিফলেট এর মাধ্যমে। আপনার লন্ড্রি সার্ভিস পেয়ে যেন
কাস্টমাররা সন্তুষ্ট হয় সে ব্যাপারটি লক্ষ্য রাখবেন। ব্যবসায় সফলতার ভিত্তি হল নেটওয়ার্ক। নিজ এলাকা বা দূরবর্তী মানুষের সাথে একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করুন। এভাবে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার ব্যবসা জনপ্রিয়তা লাভ করবে।
2) তেলে ভাজা খাবারের দোকান
ভাজা পড়া ইত্যাদি এই জাতীয় খাবারের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি। এই ব্যবসা গুলো চালু করার জন্য প্রয়োজন হয় ১০ - ২০ হাজার টাকার পুঁজি। এই ব্যবসা গুলো শুরু করার জন্য প্রয়োজন হয়: জ্বালানি সরঞ্জাম ( চুলা + লাকড়ি বা গ্যাস সিলিন্ডার ), ছোট্ট একটি দোকান, কাঁচামাল, অন্যান্য সরঞ্জাম ইত্যাদি। আমাদের এলাকায় ২ টাকার পুরির দোকান আছে। যেখানে দৈনিক ইনকাম হয় ২০/২৫ হাজার টাকা।
সেই পুরি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ভোজন রসিক মানুষেরা দূর দূরান্ত থেকে সেই দোকানে ছুটে আসে। আপনিও চাইলে পুরির পাশাপাশি ২ টাকা দামের সিঙ্গারা, পিয়াজু ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন। এ সকল দোকানে লাভ কম বিক্রি বেশি। আর এই মুখরোচক খাবার গুলো ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকায় সবাই এখানে খেতে আসে। স্কুল, কলেজ, বাস স্ট্যান্ড, এলাকার মোড় বা জনসমাগম হয় এমন জায়গায় এই
ব্যবসা গুলো খুব ভালো চলে। আপনি ৩/৪/৫ জন বন্ধু মিলে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসা গুলো একা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন।
3) নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের হোম ডেলিভারি
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ। আর আমরা সকলে জানি গ্রাম অঞ্চলে নিত্য প্রয়োজনীয় ওষুধের কতটা অভাব রয়েছে। শুরুতে আপনি এই ব্যবসাটি কাস্টমারদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে শহরে অঞ্চলে গিয়ে ওষুধ নিয়ে আসবেন এবং তা কাস্টমারদের বাসায় পৌঁছে দিবেন। একদিকে যেমন আপনি ওষুধ বিক্রি করে টাকা ইনকাম করছেন অন্যদিকে হোম ডেলিভারি দেওয়ার মাধ্যমে ডেলিভারি চার্জ নিতে পারছেন। যখন আপনার ব্যবসায় মূলধন বাড়বে তখন ওষুধ স্টক করে রেখে, তা সেল করতে পারবেন। এই ব্যবসাটি যেভাবে শুরু করতে পারেন:
- এই বিজনেসের জন্য একটি ট্রেড লাইসেন্স ও সুন্দর নাম নির্বাচন করুন।
- একটি সুন্দর সাইনবোর্ড ও যোগাযোগের ঠিকানা, ফোন নাম্বার, হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার দিন।
- ২/৩ জন লোক নিয়োগ দিন ওষুধ ডেলিভারির জন্য।
- যে সকল পাইকারি দোকান থেকে ওষুধ কিনবেন তাদের সাথে একটি সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করবেন যাতে ওষুধের মূল্য ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।
- অতি দ্রুত অল্প সময়ের ব্যবধানে কাস্টমারদের হোম ডেলিভারি সার্ভিস নিশ্চিত করুন।
- এই ব্যবসা শুরুর পূর্বে অবশ্যই ওষুধের মেয়াদ দেখে নিবেন এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কিনা তা যাচাই করবেন।
4) সৌন্দর্য বর্ধক ক্রিম বিক্রি
আমরা ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ন্যাচারাল উদ্ভিদের ক্রিম ব্যবহার করি যেমন: অ্যালোভেরা। তাছাড়া, নিজের হাতে তৈরি বিভিন্ন হোম-মেড ক্রিম আমরা বাসায় তৈরি করতে পারি। আপনি চাইলে এই ক্রিমগুলো অনলাইনে মাধ্যমে বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আয় করতে পারেন। এই ক্রিমগুলো সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত । এটা কে উৎপাদন মুখী ব্যবসায়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এই ব্যবসা গুলো তৈরি করার জন্য যা যা প্রয়োজন:
- আপনি কোন উৎপাদন মুখী ব্যবসায়ের ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
- ন্যাচারাল পন্য ব্যবহার যেমন: মধু, অ্যালোভেরা, নিমপাতা, বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিদের পাতার নির্যাস ইত্যাদি।
- একটি সুন্দর নাম দিয়ে বিজনেস পেজ নির্বাচন করা।
- এরপর সেগুলো সুন্দরভাবে মার্কেটিং করা।
5) মধু ব্যবসা
দেশের বিভিন্ন জায়গায় খাঁটি মধুর চাহিদা অনেক বেশি। যে সকল এলাকায় প্রচুর মধু চাষ হয় ঐ সকল এলাকা থেকে মধু সংগ্রহ করে আপনি তা অনলাইনে অথবা অফলাইনে ( শহর, বাজার, জনসমাগম হয় এমন জায়গায় ) বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে প্রতি কেজি মধুর দাম ১২০০ টাকার বেশি। আপনি যদি অনলাইনের মাধ্যমে মধু বিক্রি করতে চান তাহলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বেশি থেকে বেশি প্রচার প্রচারণা করুন।
আরো পড়ুনঃ- স্পিন গেম খেলে টাকা ইনকাম
আপনি নিজেও চাইলে মধু উৎপাদন করে তা বাজারজাতকরণ করতে পারেন। মধু কিভাবে উৎপাদন করতে হয় এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারি কৃষি অফিস এ যোগাযোগ করুন। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন অনলাইনে বা youtube এ সার্চ করে কিভাবে মধু উৎপাদন করতে হয় এ বিষয়ে তথ্য নিতে পারেন। আপনি যদি খাঁটি মধু সাপ্লাই দিতে পারেন তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে আপনার ব্যবসার জনপ্রিয়তা লাভ করবে।
6) হস্তশিল্পের ব্যবসা
শহর অঞ্চলে হস্তশিল্পের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন উৎসবে বা মেলাতে হস্তশিল্পের চাহিদা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। জনপ্রিয় হস্তশিল্প গুলোর মধ্যে রয়েছে: মাটির থালা, মাটির কলসি, মাটির হাড়ি, ফুলদানি, হাতপাখা, পুতুল সহ গ্রাম বাংলার নানান ঐতিহ্য। জনপ্রিয় হস্তশিল্পের মধ্যে রয়েছে নকশি কাঁথা। আপনি যদি এই পণ্যগুলো নিজে তৈরি করতে পারেন তাহলে তো খুবই ভালো।
আর যদি নিজে তৈরি করতে না পারেন তাহলে যারা তৈরি করতে পারে তাদের দিয়ে অর্থের বিনিময়ে তৈরি করে নিবেন। প্রয়োজনে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দেয় এমন জায়গা থেকে এই সকল কারু কাজগুলো শিখে নিতে পারেন। এ ব্যবসা গুলো শুরু করার জন্য প্রয়োজন: মূলধন, লোকবল, কাঁচামাল ইত্যাদি। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে অল্প পরিসরে শুরুর দিকে এ ব্যবসা গুলো চালু করতে পারেন।
7) পার্লার বা সেলুনের ব্যবসা
আপনার যদি দক্ষতা থাকে তবে এই ব্যবসা আপনি করতে পারবেন। এজন্য আপনার হেয়ার কাট এর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, কিভাবে ফেসিয়াল করতে হয়, কিভাবে পেডিকিওর করতে হয়, কিভাবে বডি ম্যাসাজ করতে হয় ইত্যাদি বিষয়গুলো আপনার জানতে হবে। এই ব্যবসা গুলো শুরু করার জন্য দরকার: প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, লোকবল, একটি সুন্দর দোকান ইত্যাদি। আপনার যদি দক্ষতা থাকে
তাহলে ১০ হাজার টাকার মধ্যেই আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। বর্তমানে শহরের আনাচে কানাচে বিউটি পার্লার বা সেলুনের দোকান অহরহ দেখা যায়। যদি কাস্টমার সার্ভিস ভালো হয় তাহলে অল্প দিনেই এই ব্যবসার পরিচিতি লাভ করা সম্ভব।
8) অনলাইনে খাবার বিক্রি
আপনার যদি রান্না করার অভিজ্ঞতা থাকে বা আপনি যদি সুস্বাদু খাবার রান্না করতে পারেন তাহলে অনলাইনে খাবার বিক্রি এটা হতে পারে আপনার জন্য বেস্ট অপরচুনিটি। যে কোন একটি পদের খাবার আপনি ঘরে তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। মানুষের জীবনে এতটাই ব্যস্ততা বেশি যে অনেকের পক্ষে খাবার তৈরি করার সময় পর্যন্ত হয় না বা অতি জরুরী প্রয়োজনে খাবার অর্ডার করার
প্রয়োজন হয়। ধরুন, আপনি নুডুলস খুব ভালো রান্না করতে জানেন। এখন এই নুডুলস অনলাইন এর মাধ্যমে আপনি বিক্রি করবেন। এজন্য ফেসবুকে একটি পেজ খুলবেন। এর মাধ্যমে আপনার ব্যবসার প্রচার-প্রচারণা খুবই সহজ হবে। অনলাইনে ব্যবসা করার জন্য যে সকল বিষয় মাথায় রাখবেন সেগুলো হলো: খাবারের মান যেন ভাল হয়, কাস্টমাররা যেন আপনার কাছ থেকে খাবার নিয়ে সন্তুষ্ট হয়, খাবারের
দাম সুলভ মূল্যে রাখবেন, কাস্টমারদের বাসায় খাওয়ার পৌঁছে দেওয়ার জন্য একজন ফুড ডেলিভারি ম্যান রাখতে পারেন। আপনি ১০ হাজার টাকা দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন খুব সহজে। ছেলে মেয়ে সবাই এই ব্যবসা শুরু করতে পারবে। নুডুলসের পাশাপাশি হোম-মেড ফুড যেমন: কেক বাসায় তৈরি করা অনলাইনে বিক্রি করতে পারবেন। বিবাহ বার্ষিকী, জন্মদিন, ছোটখাটো প্রোগ্রামে বর্তমানে এই
কেকের আয়োজন করা হয়। চেষ্টা করবেন অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাস্টমারদের বাসায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এতে করে কাস্টমারদের আপনার প্রতি বিশ্বাস তৈরি হবে। তাছাড়া, আপনার তৈরি করা খাবারগুলো অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে সেল করতে পারেন যেমন: Food panda, Foodtong, Food peon ইত্যাদি।
9) ব্লগিং
১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া এরমধ্যে ব্লগিং হতে পারে আপনার জন্য সেরা। কেননা, আমরা যে সকল বিষয়ে জানি না সেগুলো সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করে থাকি। যদি আপনার কোন কিছু গুছিয়ে লিখার অভিজ্ঞতা থাকে বা লেখালেখি করা এটা যদি আপনার প্যাশন হয়ে থাকে তাহলে আপনি ব্লগিং করতে পারেন। যারা ব্লগিং করে তাদেরকে বলা হয় ব্লগার। ব্লগিং থেকে আপনি কয়েকভাবে ইনকাম করতে পারেন যেমন:
- Google এডসেন্স
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
- কোর্স বা প্রোডাক্ট সেল
- অর্থের বিনিময়ে অন্যের আর্টিকেল নিজের ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা
আপনি যদি নিয়মিত আর্টিকেল লিখে থাকেন তাহলে আপনি আশা করি ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে একটি ভালো রেজাল্ট দেখতে পারবেন। এজন্য আপনাকে এমন ভাবে আর্টিকেলগুলো লিখতে হবে যেন পাঠকরা আপনার আর্টিকেল পড়ে উপকৃত হয়। আপনার ওয়েবসাইটে অধিক হারে ভিজিটর নিয়ে আসতে হবে। যত বেশি ভিজিটর তত বেশি ইনকাম। ব্লগিং এ পেশায় কিভাবে আসবেন সে বিষয়ে ইউটিউবে কোন একটি টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখে নিতে পারেন।
10) জুস বা শরবত এর ব্যবসা
আমরা যখন বাহিরে বের হই তখন বিভিন্ন ধরনের জুস বা শরবতের ব্যবসা দেখতে পাই ফুটপাতে। এরমধ্যে অতি পরিচিত একটি ব্যবসা হল: লেবুর শরবত এর ব্যবসা। বাহিরে যেভাবে প্রচন্ড গরম পড়ছে, মানুষ একটু পিপাসা মেটানোর জন্য শরবতের দোকানে ভিড় করে। এই ব্যবসা গুলো খুবই জনপ্রিয়। ১০ হাজার টাকার মধ্যে আপনি এই ব্যবসা গুলো চালু করতে পারেন। জুস বা শরবত এর ব্যবসা চালু করার
জন্য প্রয়োজন: ফিল্টার, টেবিল, গ্লাস, ছুরি, অন্যান্য সরঞ্জাম, কাঁচামাল ইত্যাদি। আপনি ব্যবসা শুরু করার সময় বুঝতে পারবেন আপনার দোকানে কোন কোন সরঞ্জাম এর প্রয়োজন। শরবতের মূল্য ক্রয় সীমার মধ্যে রাখুন যাতে করে মানুষ ক্রয় করতে পারে। প্রতি গ্লাস শরবত এর মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করতে পারেন। শরবতের টেস্টে বৈচিত্র আনার জন্য বিট লবণ, বরফ যুক্ত করতে পারেন। তাছাড়া
আরো পড়ুনঃ- ছোট ছোট কাজ করে টাকা ইনকাম
মৌসুমী বিভিন্ন ফলের জুস তৈরি করা যায় যেমন: তরমুজের জুস, বেলের শরবত, আমের জুস, আনারসের জুস, মিল্কশেক ( দুধ+ কলা ) ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন। আপনার দোকানে যদি বিক্রি বেশি হয় তাহলে আশা করি দৈনিক আপনি 5000 টাকার বেশি আয় করতে পারবেন। আপনার যদি একটি ভ্যান গাড়ি থাকে তাহলে এটাকে আপনি ভ্রাম্যমান ব্যবসা রূপান্তর করতে পারবেন। ইচ্ছামত যে কোন জায়গায় সরিয়ে নিতে পারবেন। অল্প পুজিতে এই ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক।
11) টি স্টল
শহর বা গ্রাম অঞ্চল বা জনসমাগম হয় এমন জায়গায় চায়ের দোকান দেখা যায়। চা এমন একটি পানীয় যা ছাড়া আমরা আমাদের দিন শুরুই করতে পারি না। যারা চা খায় তারা চা ছাড়া চলতে পারে না। বাংলাদেশে চায়ের দোকানগুলো অনেক জনপ্রিয়। চা প্রিয় মানুষেরা একটু চা খাওয়ার জন্য টি স্টল গুলোতে ভিড় জমায়। এই ব্যবসা আপনি 10000 টাকার মধ্যে খুব সহজে চালু করতে পারবেন। চায়ের
মধ্যে বিভিন্ন ভ্যারাইটি চা আপনি বিক্রি করতে পারেন বিভিন্ন দামে যেমন: দুধ চা, রং চা, গ্রিন টি ইত্যাদি। আপনার চা এর কোয়ালিটি বা টেস্ট যদি গ্রাহকদের মন জয় করে তাহলে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসবে একটু চায়ের স্বাদ নেওয়ার জন্য। একটি চায়ের দোকানে চায়ের পাশাপাশি কলা, পাউরুটি, বিস্কুট, লাড্ডু ইত্যাদি রাখতে পারেন। এতে করে আপনার দোকানে বৈচিত্র থাকবে। এক কাপ রং চা এর
দাম যদি ৫ টাকা হয়, আপনি যদি দিনে ১৫০ কাপ চা বিক্রি করেন তাহলে ১৫০*৫ = ৭৫০ টাকা। কলা, পাউরুটি, বিস্কুট, লাড্ডু এগুলো থেকে যদি আপনার দৈনিক ৫০০ টাকা আয় হয়, তাহলে আপনার ইনকাম দাঁড়াবে ৭৫০+৫০০=১২৫০ টাকা। চায়ের দোকান থেকে আপনার যদি দৈনিক ১২০০ টাকা ইনকাম হয় তাহলে ৩০ দিনে ইনকাম দাঁড়াবে, ১২০০*৩০= ৩৬,০০০ টাকা। আপনার যদি মাসে
২৫০০০ টাকার কাঁচামাল ক্রয় করতে হয় তাহলে আপনার লাভ দাঁড়াবে ৩৬০০০ - ২৫০০০ = ১১,০০০ টাকা। যে সকল জায়গায় জনসমাগম বেশি হয় যেমন: হাসপাতালের সামনে, শহর বা বাজার এলাকায়, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সামনে, বিনোদনমূলক স্থান যেমন: চিড়িয়াখানা, পার্ক ইত্যাদি জায়গায় এই ব্যবসা গুলো করে মাসে 40 থেকে 50 হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।
12) কাগজের ব্যাগ তৈরি
পলিথিন যেহেতু পচনশীল দ্রব্য নয় এজন্য পলিথিনের পরিবর্তে বর্তমানে কাগজের ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে সচেতন মহল। আর আপনি এই কাগজের ব্যাগগুলো উৎপাদন করে বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। এই ব্যবসা গুলো চালু করতে আনুমানিক ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। পলিথিনের পরিবর্তে বর্তমানে এই কাগজের ব্যাগ গুলোর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। মুদির দোকান থেকে শুরু করে শপিংমলে এই ব্যাগ গুলোর ব্যবহার ভবিষ্যতে বাড়বে। আপনার তৈরি করা কাগজের ব্যাগ
গুলো বাজার মূল্য থেকে খানিকটা কম দামে বিক্রি করবেন। আপনার তৈরি করা এই ব্যাগ গুলো যদি পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই হয় তাহলে কয়েক বছরের মধ্যে মার্কেট ধরতে পারবেন। এই ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজন: লোকবল, কাগজ, আঠা, কাটার, অন্যান্য সরঞ্জাম ইত্যাদি। ১০ হাজার টাকার মধ্যে এই ব্যবসাটি আপনার জন্য সেরা হতে পারে।
13) অনলাইনে কোচিং বিজনেস
বর্তমানে শিক্ষিত জনপদের জন্য কোচিং এর বিজনেস গুলো অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে অনলাইন এবং অফলাইন দুই পদ্ধতিতে কোচিং এর ব্যবসা জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে যারা অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী তারা অনলাইনে কোচিং এর দিকে ঝুঁকছে। আপনি যদি কোন একটি সাবজেক্টে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে আপনি অনলাইনে টিউশনি করে আয় করতে পারবেন। শিক্ষিত স্টুডেন্ট এর
মধ্যে কোচিং করানোর প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এই অনলাইন কোচিং বিজনেস শুরু করার জন্য প্রয়োজন: শিক্ষাগত যোগ্যতা, ক্লাস রেকর্ড করার ডিভাইস যেমন: ল্যাপটপ, সামান্য ভিডিও এডিটিং করার যোগ্যতা থাকলে চলবে। অনলাইন ক্লাসগুলো ফেসবুকের মাধ্যমে অথবা ইউটিউব এর মাধ্যমে নিতে পারবেন। এখানে ক্লাস নেওয়ার পদ্ধতি হলো যারা আপনাকে কোর্স ফি পেইড করবে তাদেরকে
আপনি শুধু এক্সেস দিবেন। তারাই শুধু আপনার ক্লাস করতে পারবে। তাছাড়া, অনলাইন কোচিংয়ের প্রচার প্রচারণার জন্য ফেসবুক বা ইউটিউবে ফ্রি ক্লাস ভিডিও গুলো আপলোড করতে পারেন। এত করে আপনার কোচিং এর ব্যবসা সম্পর্কে দ্রুত মানুষ জানতে পারবে।
14) মোবাইল রিচার্জ এবং মোবাইল ব্যাংকিং এর ব্যবসা
মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতেও এটা অব্যাহত থাকবে। মোবাইলে কথা বলার জন্য মোবাইল রিচার্জ এর প্রয়োজন হয়। মোবাইল রিচার্জের ব্যবসা অনেক জনপ্রিয় একটি ব্যবসা। গ্রাম থেকে নিয়ে শহর পর্যন্ত সব জায়গায় মোবাইল রিচার্জ এর ব্যবসা রয়েছে। আপনিও চাইলে এই ব্যবসা গুলো শুরু করতে পারেন। তাছাড়া, বর্তমানে ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট এর জন্য নগদ, বিকাশ, রকেট এর এজেন্সি হয়ে কাজ করতে পারেন। যত ক্যাশ ইন ক্যাশ আউট করতে পারবেন সেই অনুপাতে আপনার একাউন্টে কমিশন যুক্ত হবে। এই ব্যবসা গুলোর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
15) দর্জির ব্যবসা
এটি একটি কারিগরি কাজ। আপনি যদি দর্জির কাজ ভালোমতো জানেন তাহলে এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ছেলেদের প্যান্ট, শার্ট তৈরি করা। মেয়েদের ব্লাউজ, পেটিকোট, পায়জামা তৈরি করা। জামা কাপড় সেলাই করা। বাচ্চাদের কাপড় তৈরি করা ইত্যাদি একজন পেশাদার দর্জির কাজ। এখন একটা শার্ট তৈরির মূল্য ৫০০ টাকা। এভাবে আপনি যদি দিনে কয়েকটা শার্ট তৈরি করতে পারেন তাহলে
১৫০০/২০০০ টাকা আয় করতে পারবেন। এই ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজন: একটি সেলাই মেশিন, সুই, সুতা, ছোট্ট দোকান, অন্যান্য সরঞ্জাম ইত্যাদি। আপনাকে তো ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা থাকলে এই ব্যবসা গুলো অনায়াসে শুরু করতে পারেন। আপনার কাজ দেখে যেন গ্রাহকরা সন্তুষ্ট হয় সে ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন।
16) পুরাতন বই বিক্রির ব্যবসা
আপনি যদি নতুন বই এর দোকান দিতে চান তাহলে অনেক বাজেট দরকার। বাজারে নতুন এবং পুরাতন বইয়ের দোকান রয়েছে। আপনার যদি বাজেট কম থাকে তাহলে আপনি পুরাতন বইয়ের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আপনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরাতন বই অল্প মূল্যে কিনবেন এবং পুনরায় তা ৫০ বা ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করবেন।
এই পুরাতন বইগুলো বাজারে অনেক ভালো চলে। অনেক শিক্ষার্থীরা বই কিনার জন্য পুরাতন বইয়ের দোকানগুলোতে ভিড় করে। আপনার কাছে যদি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মতো বাজেট থাকে তাহলে আপনি পুরাতন বইয়ের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসা গুলো আশা করি আপনার জন্য লাভজনক হবে।
17) মৌসুমী ফলের ব্যবসা
বাংলাদেশে ফলের ব্যবসা কতটা জনপ্রিয় তা আমরা জানি। ফলের মৌসুমে আম, লিচু, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, আনারস, জামরুল, বেল, তরমুজ, বরই ইত্যাদি সহ আরো অন্যান্য ফল বাজারে দেখতে পাওয়া যায়। ফলের বাগান থেকে ফল কিনে ব্যবসা করলে তাহলে বেশি লাভ করতে পারবেন। তাছাড়া পাইকারি দোকান থেকে মাল কিনলে কম দামে পাওয়া যায়।
আরো পড়ুনঃ- ফরম পূরণ করে টাকা ইনকাম
আপনি সেগুলো খুচরা দামে বাজারে বিক্রি করতে পারেন। এতে করে আপনি অধিক মুনাফা করতে পারবেন। আপনার কাছে যদি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বাজেট থাকে তাহলে এই ফলের ব্যবসা গুলো শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসা গুলো অত্যন্ত লাভজনক। ফলের মৌসুমে আমরা রাস্তাঘাটে অনেক ফলের দোকান দেখতে পাই।
18) কাঁচা সবজির ব্যবসা
আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার মধ্যে সবজি অন্যতম। আমরা সবজি কেনার জন্য প্রায় সবজির দোকানে ভিড় করি। তাছাড়া, সপ্তাহে দুইদিন সবজির হাট বসে। আপনি যদি হিসাব-নিকাশের কাজ জানেন তাহলে এই সবজির ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সবজির খামার থেকে সবজি ক্রয় করে পুনরায় হাটে বা ভ্যানে করে শহরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে পারেন। আপনার কাছে যদি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা থাকে তাহলে আপনি এই ব্যবসা গুলো শুরু করতে পারেন। শহর অঞ্চলে ভালো দামে সবজি বিক্রি করতে পারবেন।
19) মাছের ব্যবসা
মাছ আমিষের চাহিদা পূরণ করে। আপনার যদি মাছ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকে তাহলে আপনি মাছের ব্যবসা করতে পারেন। মাছের আড়ত থেকে মাছ ক্রয় করে বিভিন্ন এলাকা বা শহর অঞ্চলে গিয়ে বিক্রি করতে পারেন। এই ব্যবসা গুলো অধিক লাভজনক। আপনার বাজেট যদি ১০ হাজার টাকার হয় তাহলে আপনি অনায়াসে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
অন্যান্য ব্যবসায়ের তালিকা ( 20 - 30 )
20) ফুল বা ফুলের চারার ব্যবসা
21) ফুচকা বা চটপটির ব্যবসা
22) ছোট বাচ্চাদের খেলনা বিক্রি
23) ভ্রাম্যমাণ কাপড়ের দোকান ( লুঙ্গি, গেঞ্জি, গামছা, ছোট প্যান্ট, জার্সি )
24) সুগন্ধি জাতীয় প্রোডাক্ট বিক্রি ( আতর, পারফিউম )
25) ঘরোয়া মসলা বিক্রি
26) গিফটের প্রোডাক্ট বিক্রি ব্যবসা
27) হোম-মেড তৈল বিক্রি
28) ইউটিউবে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি
29) ফটো-শ্যুটের ব্যবসা
30) মৌমাছি/অ্যালোভেরা/মাশরুম/ড্রাগন চাষ
লেখকের মন্তব্য - ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ আমি এই আর্টিকেলে ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া সুন্দরভাবে তুলে ধরেছি। আপনারা যারা ব্যবসা করতে চাচ্ছেন কিন্তু বাজেট কম তারা উপরোক্ত ব্যবসা গুলো করতে পারেন। এই ব্যবসা গুলো তে পুঁজি কম লাগে।
এ রকম অনলাইন ইনকাম বা ব্যবসা সম্পর্কিত সুন্দর সুন্দর ব্লগ আর্টিকেল আরো পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। আমরা আমাদের ওয়েব সাইটে প্রতিনিয়ত ইনকাম রিলেটেড আর্টিকেল গুলো পাবলিশ করে থাকি। আর্টিকেল টি পছন্দ হয়ে থাকলে শেয়ার করবেন। সকলের মঙ্গল কামনা করে এখানে শেষ করছি। 17.04.2026


আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url