ঢাকা শহরে ব্যবসার সেরা ২১টি ইউনিক আইডিয়া জেনে নিন
ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে। আপনারা অনেকে ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানতে চেয়ে গুগলে সার্চ করেছেন।
পোস্ট সূচিপত্র: আশা করি এই আর্টিকেল থেকে আপনি ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া
বাংলাদেশের বৃহত্তর বাণিজ্য নগরী ঢাকা শহর। লোকমুখে এমন কথা প্রচলন আছে " ঢাকা শহরে টাকা আকাশে উড়ে "। সব শ্রেণীর মানুষের বসবাস আছে ঢাকা শহরে। বাংলাদেশের বৃহত্তর জনবহুল শহর ঢাকা। ঢাকাকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব
এতটাই বেশি যে কোনো ধরনের দোকান বা ব্যবসা এখানে চলবে। বাংলাদেশের অন্যান্য যে কোন জেলার চাইতে ঢাকা শহরে জীবনযাত্রার মান অনেক বেশি। এখানে যেরকম আয় রয়েছে, সেরকম ব্যয়ও রয়েছে। আপনি যদি ঢাকা শহরের নতুন হয়ে থাকেন এবং যদি আপনি ব্যবসা করার চিন্তা করেন তাহলে এই
আর্টিকেলটি আপনার কাজে দিবে। এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের এমন কিছু এক্সক্লুসিভ আইডিয়া জানাবো যেগুলো আপনার বাস্তবে কাজে দিবে। এই ব্যবসা গুলো করে আপনি ভালো টাকা আয় করতে পারবেন। ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি শেষ অব্দি পড়ার অনুরোধ রইলো।
১) নার্সারি - ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া
ঢাকা শহরে বর্তমানে ছাদ বাগান অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আপনি কি ঢাকা শহরে ব্যবসা চিন্তা করেন তাহলে একটি ক্ষুদ্র অথবা মাঝারি ধরনের নার্সারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সেই নার্সারিতে থাকবে বিভিন্ন ফল গাছের কলম চারা, বিভিন্ন ধরনের ফুলের চারা ইত্যাদি। ঢাকা শহরের মানুষেরা বর্তমানে ছাদ বাগানের আগ্রহী
হয়ে উঠছে। নার্সারীর ব্যবসা এর একটি ইউনিক বিজনেস। যে কেউ নার্সারি থেকে গাছ কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ঢাকা শহরে অধিকাংশ মানুষ এলিট শ্রেণীর। সার্ভিস যদি ভালো হয়, তাহলে তারা টাকা খরচ করতে দ্বিধাবোধ করবে না। বিভিন্ন কলম চারার মধ্যে রয়েছে: আম গাছের কলম, লিচু গাছের কলম, ডালিম
আরো পড়ুন: এড দেখে টাকা ইনকাম কি হালাল - ইসলাম কি বলে
গাছের কলম, আঙ্গুর গাছ ইত্যাদি সহ আরো অন্যান্য। বর্তমানে কলম চারার দাম অনেক। একটি ভাল জাতের কলম চারার আপনি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা দামে বিক্রি করতে পারবেন। তাছাড়া বিভিন্ন ঔষুধি গাছ আপনি আপনার নার্সারিতে রাখতে পারেন। নার্সারীর ব্যবসা যদি খুব ভালো মানের হয় তাহলে আশা করি প্রতি মাসে আপনি ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।
লোকেশন: নার্সারীর ব্যবসা এমন এলাকা বা এমন এলাকার কাছাকাছি শুরু করুন যে এলাকার মানুষ ছাদ বাগান করতে পছন্দ করে এবং ওই এলাকার মানুষ বৃক্ষ প্রেমী। তাহলে আপনি দ্রুত ব্যবসা করে সফল হতে পারবেন।
২) সার/কীটনাশক ও বীজের ব্যবসা
বর্তমানে ঢাকা শহরে যেভাবে ছাদ বাগান গড়ে উঠেছে, গাছের পরিচর্যা, রোগমুক্ত, উচ্চ ফলন পাওয়ার জন্য সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হচ্ছে। এজন্য আপনি বিভিন্ন ধরনের জৈব সার অথবা রাসায়নিক সার মজুদ করে রাখতে পারেন। আশা করি সেগুলো ভালো দামে
বিক্রি করা সম্ভব হবে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের বীজ যেমন: করলার বীজ, ঢেঁড়সের বীজ, শিমের বীজ, টমেটো বীজ, গাজরের বীজ, লালশাকের বীজ, পেঁপের বীজ, পুইশাকের বীজ ইত্যাদি এ ধরনের বীজের ব্যবসা গুলো আপনি করতে পারেন। আশা করি এ ব্যবসা গুলো থেকে আপনি ভালো মানের প্রফিট করতে পারবেন।
লোকেশন: এমন এলাকায় সার/কীটনাশক ও বীজের ব্যবসা শুরু করুন যে সকল এলাকায় মানুষ ছাদ বাগান করতে পছন্দ করে। আপনি ঢাকা শহরে বড় বড় দালানের উপরে ছাদ বাগান দেখতে পারবেন।
৩) কাঁচামালের ব্যবসা
ঢাকা শহরের নারী ও পুরুষ উভয় কর্মজীবী। তাদের অনেক সময় বাজারে গিয়ে সবজি ক্রয় করা সম্ভব হয় না। এজন্য আপনি বড় বড় কাঁচামালের বাজার থেকে পাইকারি দামে কাঁচামাল বা সবজি ক্রয় করে গাড়ি করে প্রতিটি এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে খুচরা দামে
বিক্রি করতে পারেন। আপনার সবজিগুলো যদি ভাল হয় এবং কাস্টমার যদি সন্তুষ্ট হয় তাহলে তারা আপনার সাথে ফোনে পার্সোনালি যোগাযোগ করবে। তখন আপনার সবজি বিক্রি করতে খুব একটা সময় লাগবে না। ঢাকা শহরে কাঁচামালের ব্যবসা করে আপনি প্রতি মাসে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।
লোকেশন: ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকাগুলো টার্গেট করুন। যেখানে নারী ও পুরুষ উভয় কর্মজীবী। ব্যবসায় বৈচিত্র আনার জন্য আপনি কাটা সবজি বিক্রি করতে পারবেন।
৩) শরবত/জুসের দোকান - ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া
সামনে আঁচল গ্রীষ্মকাল। ঢাকা শহরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকবে। এই গরমের সময় একটু শরবত বা জুস খেতে পারলে যেন দেহে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়। আপনি চাইলে এই সময়ে শরবত বা জুসের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: লেবুর শরবত, অ্যালোভেরা শরবত, বেলের
আরো পড়ুন: মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করার সেরা ৩০+ কার্যকরী উপায়
শরবত, যেকোনো ধরনের ফলের শরবত এর ব্যবসা আপনি শুরু করতে পারেন। ১ গ্লাস শরবত আপনি ২০ টাকায় বিক্রি করতে পারেন। এভাবে আপনি যদি দিনে ৫০ গ্লাস শরবত বিক্রি করেন তাহলে ৫০×২০ = ১,০০০ টাকা। সুতরাং, এগুলো অল্প পুঁজির ব্যবসা। কিন্তু বড় ধরনের লাভ পাওয়া যায়।
লোকেশন: স্কুল, কলেজ, ইউনিভারসিটি, হসপিটাল, জনবহুল এলাকা আপনি শরবত/জুসের দোকান দিতে পারেন।
৪) লন্ড্রি ও কাপড় ইস্ত্রি ব্যবসা
ঢাকা শহরের অধিকাংশ মানুষ কর্মজীবী। তাদের ঘরের কাজ করার সময় নেই বললেই চলে। এজন্য তারা অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। আমরা যে কাপড় পরিধান করি সেটা লন্ড্রি তে ধৌত করা, মাঝে মাঝে রঙ করা, কাপড় ইস্ত্রি করার প্রয়োজন পড়ে। অল্প পুঁজি থাকলে এই ব্যবসা গুলো আপনি শুরু করতে পারেন। আশা করি ঢাকা শহরে এই ব্যবসা গুলো খুব ভালো চলবে।
লোকেশন: যেসব এলাকায় নারীরা কর্মজীবী, অভিজাত এলাকা গুলো টার্গেট করুন। আশা করি উক্ত এলাকায় আপনার ব্যবসা গুলো খুব ভালো চলবে।
৫) ভাতের হোটেলের ব্যবসা - ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া
ঢাকা শহর একটি জনবহুল, ব্যস্ত নগরী। এখানে মানুষ সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে কর্মের জন্য বেরিয়ে পড়ে। এরকম কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য ভাতের হোটেল দরকার হয়। সেখানে আপনি সকালবেলা খিচুড়ি, দুপুরে সাদা ভাত সঙ্গে ভর্তা, মাছ, সবজি, মাংস যুক্ত করতে পারেন। যারা রিকশাচালক, গাড়ির ড্রাইভার তাদের জন্য এই
ভাটের হোটেল গুলোর প্রয়োজন হয়। আপনি যদি সাশ্রয়ী দামে ভালো খাবার দিতে পারেন তাহলে কাস্টমাররা আপনার দোকানে বেশি ভিড় করবে। আর ব্যবসার নিয়ম হল: কাস্টমার বাড়ানো। লাভ কম বিক্রি বেশি এরকম নীতিতে আসতে পারলে আপনি অল্প সময়ে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন।
লোকেশন: ব্যস্ত সড়ক, স্কুল, কলেজ, হসপিটাল, ব্যাংক, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সামনে এই ব্যবসা গুলো খুব ভালো চলে।
৬) টেইলার্স এর ব্যবসা
ঢাকা সহ বাংলাদেশের সব জেলায় টেইলার্স এর ব্যবসা অনেক জনপ্রিয়। ছেলেদের জন্য প্যান্ট অথবা শার্ট, মেয়েদের জন্য সালোয়ার কামিজ, পায়জামা, থ্রি পিচ ইত্যাদি টেইলার্স তৈরি করা হয়। আপনি যদি একজন দক্ষ টেইলার্স হয়ে থাকেন তাহলে টেইলার্স এর ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসা করে আপনি প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা রোজগার করতে পারবেন। এজন্য আপনার একজন দক্ষ টেইলার্স হওয়া লাগবে।
লোকেশন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ও যে সকল এলাকায় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বসবাস ঐ সকল এলাকায় আপনি টেইলার্সের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
৭) কোচিং সেন্টার এর ব্যবসা
যদি আপনি একজন শিক্ষিত স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, আর যদি অংক, ইংরেজি, বিজ্ঞান, এই সাবজেক্ট গুলোর উপর দক্ষতা থাকে পাশাপাশি আপনি যদি একজন সায়েন্স/আর্টস/কমার্স এর যেকোনো একটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে বাসা বাড়িতে গিয়ে আপনি নিজে টিউশনি করতে পারবেন। যদি
আপনি টিউশনি না করে কোচিং সেন্টার এর ব্যবসা শুরু করার চিন্তা করেন তাহলে আপনাকে প্রত্যেকটি সাবজেক্টের জন্য আলাদা আলাদা শিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এভাবে আপনি কোচিং সেন্টার এর ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আপনার কোচিং সেন্টারে যদি কোন
শিক্ষকের প্রয়োজন হয় তাহলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। তাছাড়া, আপনারা চাইলে নিজেরা, ভালো পড়াতে পারবে এমন শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে কোচিং এর ব্যবসা আরম্ভ করতে পারবেন। যত বেশি শিক্ষার্থী আপনার কোচিংয়ে ভর্তি হবে তত বেশি আয় হবে।
লোকেশন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকাগুলো, আবাসিক এলাকা গুলো টার্গেট করতে পারেন।
৮) ভাংড়ির এর ব্যবসা - ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া
সাধারণত, ফেলে দেওয়া যে কোন পণ্যকে আমরা ভাংড়ি বা ভাঙ্গার বলে থাকি। আপনি চাইলে ঢাকা শহরে বাসাবাড়ি থেকে ভাঙ্গার গুলো কম দামে কিনে কারখানায় ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন। ক্রয় - বিক্রয় এটা দারুণ একটি ব্যবসা। কারখানাগুলো এ
আরো পড়ুন: ফ্রি ডলার ইনকাম সাইট সেরা ৩৪টি এক নজরে দেখে নিন
ভাঙ্গার পণ্যগুলো রিসাইকেল করে পুনরায় নতুন পণ্য তৈরি করে। যেমন: আমরা যে বই খাতা বিক্রি করে দেই সেগুলো দিয়ে ফ্যাক্টরি থেকে কাগজের প্যাকেট তৈরি হয়। আপনি এই ভাংড়ির ব্যবসা গুলো ঢাকা শহরে করতে পারেন।
লোকেশন: আবাসিক এলাকা, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করা।
৯) মাছের ব্যবসা
' মাছে ভাতে বাঙালি ' এই কথাটির সাথে আমরা সকলে পরিচিত। আপনি চাইলে ঢাকা শহরে মাছের ব্যবসা করতে পারেন। বড় বড় মাছের আড়ৎ থেকে পাইকারি দামে মাছ কিনে তা অভিজাত এলাকা গুলোতে খুচরা দামে বিক্রি করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে প্রথমে আইডিয়া করতে হবে যে কোন কোন এলাকার মানুষ
মাছ বেশি ক্রয় করতে পছন্দ করে। এটা আসলে অভিজ্ঞতার বিষয়। আপনি চেষ্টা করবেন ওই সকল এলাকায় মাছ বিক্রির জন্য ভালো দামে। আপনার বিক্রয় করা মাছ খেয়ে যদি কাস্টমাররা সন্তুষ্ট হয় তাহলে তাদের সাথে আপনার একটি ভালো যোগাযোগ তৈরি হবে এবং তারা নিজ হাতে আপনার ফোন নম্বরে যোগাযোগ করবে।
লোকেশন: আবাসিক এলাকা গুলো টার্গেট করুন, যে এলাকার মানুষেরা মাছ পছন্দ করে ওই এলাকায় মাছ বিক্রি করুন, যে সকল এলাকায় এলিট শ্রেণীর মানুষেরা বসবাস করে ঐ সকল এলাকাগুলো টার্গেট করুন।
১০) বিউটি পার্লারের ব্যবসা
স্বাভাবিকভাবে নারীরা সাজগোজ করতে পছন্দ করে। আপনি যদি একজন ভালো মেকআপ আর্টিস্ট হয়ে থাকেন তাহলে বিউটি পার্লারের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বিউটি পার্লারের ব্যবসা এটা নারীদের জন্য। এ ব্যবসার প্রধান কাস্টমার নারী সদস্যরা। আপনি চাইলে
ঢাকা শহরে নামি দামি এলাকাগুলোতে এই বিউটি পার্লারের ব্যবসা আরম্ভ করতে পারেন। এই বিউটি পার্লারের ব্যবসা খুলে আপনি প্রতি মাসে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন। সাধারণত, ধনী শ্রেণীর নারীরা বিউটি পার্লারে গিয়ে সাজগোজ করতে পছন্দ করে।
লোকেশন: বিয়ের ক্লাব সংলগ্ন এলাকা, বড় বড় মার্কেট, জনবহুল ব্যস্ত সড়ক এর আশেপাশে।
১১) সেলুনের ব্যবসা - ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া
মাথার চুল কাটা, দাড়ি কাটা ইত্যাদি এ সকল কাজের জন্য আমরা সরাসরি সেলুনের উপর নির্ভরশীল। আপনি যদি সেলুনের ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে আপনাকে দক্ষ নাপিত হওয়া লাগবে। যারা চুল কাটে তাদেরকে আমরা নাপিত বলি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা অংশ সেলুনের উপর নির্ভরশীল।
আপনি কারিগর না হয়ে আপনি যদি শুধু সেলুনের ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে কারিগর নিয়োগ দেয়া লাগবে। তাছাড়া, আপনি সহ একাধিক ব্যক্তি মিলে সেলুনের ব্যবসা আরম্ভ করতে পারেন। সেবা যদি ভাল হয় সেলুনের ব্যবসা অবশ্যই চলবে।
লোকেশন: যে সকল এলাকায় সেলুন নেই, মানুষ সেলুনের জন্য অন্য এলাকায় যাই, ওই সকল এলাকাগুলো টার্গেট করুন।
১২) ঔষধের দোকান
নিত্য প্রয়োজনীয় একটি পণ্য ঔষধ। আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ ঔষুধের উপর সরাসরি নির্ভরশীল। বাড়ির আশেপাশে ওষুধের দোকান না থাকলে বুঝা যায় একটা ওষুধ ফার্মেসীর গুরুত্ব কতটা। আপনার এখন ওষুধ প্রয়োজন কিন্তু আপনাকে ওষুধ আনতে যেতে হবে
আরো পড়ুন: কোটি টাকা আয় করার ২১টি কার্যকরী বিশ্বস্ত উপায় জেনে নিন
দূরের কোন এলাকায় এই রকম অবস্থায় বুঝা যায় একটা ওষুধ ফার্মেসি আমাদের এলাকায় থাকা কতটা জরুরী। তো আপনি যদি ঢাকা শহরের কোন একটি এলাকায় ব্যবসা করার চিন্তা করেন তাহলে ওষুধ ফার্মেসির ব্যবসা আপনার জন্য ভালো হবে।
লোকেশন: যে এলাকায় ঔষুধের দোকান নেই ওই সকল এলাকা টার্গেট করুন।
১৩) মুদি দোকানের ব্যবসা
কলম থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় যা যা পণ্যের প্রয়োজন হয় তার জন্য আমরা সরাসরি মুদি দোকানের উপর নির্ভরশীল। হিসাব নিকাশের জ্ঞানটা থাকলে যে কেউ এই মুদি দোকানের ব্যবসা গুলো আরম্ভ করতে পারে। মুদি দোকানের ব্যবসা রয়েছে ভালো পরিমাণে
লাভ। এজন্য আপনাকে কাস্টমার সন্তুষ্টির জায়গাটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কাস্টমার যদি আপনার সার্ভিস, লেনদেন, ব্যবহারে সন্তুষ্ট হয় তাহলে সে আপনার দোকানে আসবে। যত কাস্টমার বেশি তত বেশি ইনকাম।
লোকেশন: ব্যস্ত এলাকা, যে সকল এলাকায় মুদি দোকান থাকা প্রয়োজন ওই সকল এলাকা টার্গেট করুন।
১৪) মৌসুমী ফলের ব্যবসা - ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া
আপনি চাইলে ঢাকা শহরে মৌসুমী ফলের ব্যবসা করতে পারেন সেখানে আপনি: আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, তরমুজ, বাঙ্গি, ডালিম, আপেল, কমলা, মালটা, আঙ্গুর, আনারস, ডাব ইত্যাদি ফলের ব্যবসা আরম্ভ করতে পারেন। ফলের মৌসুমী মানুষের ফলের প্রতি রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। এই ফলগুলোর দাম অনেক। ঢাকা শহরে ফলের ব্যবসা করে একটি প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারেন।
লোকেশন: জনবহুল ব্যস্ত সড়ক অথবা যেখানে মানুষের সমাগম বেশি হয়।
১৫) চা/কফি এর ব্যবসা
সারাদিন কাজ শেষে যখন আমরা চায়ের দোকানে বসে চা খাই তখন যেন মনে হয় সারাদিনের ক্লান্ত দূর হয়ে গেছে। চায়ের দোকান হচ্ছে একটি আড্ডা স্থল। আপনি যদি চা/কফি খুব ভালো বানানো জানেন তাহলে মানুষ আপনার কাছে আসবে। চা/কফি এটা একটি নেশার মতো, অমুক দোকানের চা খাওয়ার জন্য মানুষ দূর দূরান্ত থেকে আসে। আপনি যদি চা/কফি এর ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনাকে চা/কফি খুব ভালো জানতে হবে। যাতে মানুষ আপনার চা/কফি খাওয়ার জন্য দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে।
লোকেশন: নগরীর ব্যস্ত এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হসপিটাল ইত্যাদির সামনে।
১৬) চটপটি বা ফুচকার বা হালিম বা মুড়ি মাখার, তেলে ভাজা খাবার ( সিঙ্গারা, পুরী, সমুসা, পিয়াজু ) ব্যবসা
চটপটি/ফুচকা/হালিম/মুড়ি মাখা/ তেলে ভাজা খাবার এগুলো মুখরোচক সব খাবার। এই ব্যবসা গুলো খুব ভালো চলে। এই খাবারগুলো মানুষকে খুব বেশি আকৃষ্ট করে। এজন্য আপনার খাবারের গুণগত মান ভালো হওয়া জরুরী। মানুষ যদি আপনার খাবার খেয়ে তৃপ্তিবোধ করে তখন
মানুষ আপনার দোকানে আসবে। ব্যবসার নিয়ম হলো: পুরাতন কাস্টমারদের কে বারবার ইনভাইট করা। এ ব্যবসা গুলো করে আপনি দৈনিক ১/২/৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। আপনার কাছে যদি অল্প পুঁজি থাকে তাহলে সে অল্প পুঁজি দিয়ে এ ব্যবসা গুলো শুরু করতে পারেন।
লোকেশন: বড় বড় বাজার/শহর/মার্কেটের সামনে এই ব্যবসা গুলো খুব ভালো চলবে।
১৭) ইলেকট্রনিক্স ( টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, এসি ) রিপেয়ারিং এর ব্যবসা
টিভি/ফ্রিজ/ ফ্যান/ এসি এই ইলেকট্রনিক্স এর পণ্যগুলো কম বেশি সকলে ব্যবহার করে। আমার এই জিনিসগুলো ব্যবহার করতে করতে একসময় রিপেয়ারিং এর প্রয়োজন পড়ে। আপনি যদি একজন ভালো টেকনিশিয়ান হতে পারেন তাহলে এই কাজ করে আপনি ৫০ হাজার টাকার উপর ইনকাম করতে পারবেন প্রতি মাসে। ঢাকা শহরে প্রতিটি বড় বড় বিল্ডিং এ টিভি/ফ্রিজ/ ফ্যান/ এসি এই ইলেকট্রনিক্সের পণ্যগুলো রয়েছে। মাঝে মাঝে এই পণ্যগুলো রিপেয়ারিং এর প্রয়োজন পড়ে। এজন্য প্রথমে আপনাকে একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান হতে হবে।
লোকেশন: যে সকল এলাকায় ইলেকট্রনিক্স পণ্য সার্ভিসিং এর কোন দোকান নেই সেই সকল এলাকাগুলো টার্গেট করুন। তাছাড়া বড় বড় মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ইলেকট্রনিক্স পণ্য সার্ভিসিং এর সেবা দিতে পারেন।
১৮) ইলেকট্রিক্যাল এর কাজ - ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া
বিভিন্ন কারণে আমাদের ইলেকট্রিক্যাল এর কাজ করানোর প্রয়োজন পড়ে। একজন ইলেকট্রিক্যাল টেকনিশিয়ানের দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বড় বড় আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বড় বড়
আরো পড়ুন: ২৪০ টাকা ফ্রী নগদ পেমেন্ট নিন সময়ের সেরা ১৫টি উপায়ে
ভবনে কারেন্টের সংযোগ স্থাপনের জন্য একজন দক্ষ ইলেকট্রিক্যাল টেকনিশিয়ান এর প্রয়োজন হয়। আপনি যদি একজন দক্ষ ইলেকট্রিক্যাল টেকনিশিয়ান হতে পারেন তাহলে আপনি প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন।
১৯) মোবাইল / কম্পিউটার/ ল্যাপটপ সার্ভিসিং এর ব্যবসা
বর্তমানে যুগে সবথেকে আধুনিক টেকনিশিয়ান এর কাজ হল: মোবাইল / কম্পিউটার/ ল্যাপটপ সার্ভিসিং করা। বর্তমানে এই কাজগুলো চাহিদা অনেক। ভবিষ্যতেও এই কাজের চাহিদা অব্যাহত থাকবে। মানুষ যতদিন মোবাইল / কম্পিউটার/ ল্যাপটপ ব্যবহার করবে ততদিন পর্যন্ত এগুলো সার্ভিসিং করার প্রয়োজন পড়বে।
এই ডিভাইস গুলো ছাড়া মানুষ এক মুহূর্ত চলতে পারে না বর্তমানে। যারা মোবাইল / কম্পিউটার/ ল্যাপটপ সার্ভিসিং করেন তারাই জানেন এগুলো সার্ভিসিং চার্জ কত টাকা। এই সেক্টরে দেশে দক্ষ জনবলের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অন্যান্য কারিগরি পেশায় যে পরিমাণ মানুষের উপস্থিতি রয়েছে সেই হিসেবে মোবাইল /
কম্পিউটার/ ল্যাপটপ সার্ভিসিং পেশায় দক্ষ জনগণের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এই কাজগুলো করে আপনি প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। যদি কাস্টমার আপনার সার্ভিসিং এর সন্তুষ্ট হয় তাহলে এর ডিমান্ড লক্ষ লক্ষ টাকা ছুঁয়ে যাবে। এজন্য আপনাকে প্রথমে একজন এক্সপার্ট টেকনিশিয়ান হতে হবে।
লোকেশন: বড় বড় মার্কেটে রুম ভাড়া নিয়ে আপনি এই টেকনিক্যাল সার্ভিস গুলো প্রদান করতে পারেন।
২০) মনিহারি /স্টেশনারি/লাইব্রেরির ব্যবসা এর ব্যবসা
আমরা যারা শিক্ষার্থী তাদের মনিহারি /স্টেশনারি দোকান থেকে যেমন: খাতা, কলম, রুল, রাবার, পেন্সিল, জ্যামিতি বক্স, কলম, গ্রাফ পেপার এগুলো ক্রয় করার প্রয়োজন পড়ে। লাইব্রেরি থেকে বই ক্রয় করার প্রয়োজন হয়। আপনি যদি ব্যবসা করার কথা ভাবেন ঢাকা শহরে
তাহলে মনিহারি /স্টেশনারি/লাইব্রেরির ব্যবসা শুরু করতে পারেন। যতদিন পৃথিবীতে শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকবে ততদিন শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য দ্রব্য গুলো ক্রয় করার প্রয়োজন হবে। এই ব্যবসা গুলো করে আপনি প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।
লোকেশন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা।
২১) কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র/ ফ্রিল্যান্সিং ইনস্টিটিউট এর ব্যবসা
এখন দৈনন্দিন জীবনে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। আপনি প্রফেশনাল যেকোনো কর্মস্থলে প্রবেশ করলে কম্পিউটার জানা আপনার জন্য আবশ্যক। আপনি যদি একজন দক্ষ কম্পিউটার trainer হয়ে থাকেন তাহলে সাধারণ মানের ৮/১০ টি কম্পিউটার দিয়ে আপনি কম্পিউটার
প্রশিক্ষণ একাডেমী খুলতে পারেন। সেখানে জনপ্রতি ২/৩/৪ হাজার টাকার বিনিময়ে আপনি কম্পিউটার শিখাতে পারেন। তাছাড়া, আপনি যদি একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নিজে ফ্রিল্যান্সিং ইনস্টিটিউট খুলে শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিং
এর কাজ শিখিয়ে ও কোর্স বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখবেন আপনার দেখানোর নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা কাজ করে যেন আয় করতে পারে। অন্যথায়, আপনার দ্বারা অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যাবে এবং তারা প্রতারণার শিকার হবে।
লেখকের মন্তব্য - ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের নিকট ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে ঢাকা শহরে কোন কোন ব্যবসা গুলো করা যায় সে বিষয়ে আপনি একটি আইডিয়া পেয়েছেন। মূল কথা, আপনি যে কাজে পারদর্শী সেই কাজ কে ব্যবসায় কনভার্ট করা
যায়।। এইজন্য আপনার কাজগুলো শতভাগ জনবান্ধব এবং হালাল হতে হবে। আমরা চেষ্টা করি পাঠকদের জন্য অনলাইন ইনকাম, ব্যবসার আইডিয়া সংশ্লিষ্ট পোস্ট পাবলিশ করার জন্য। " ঢাকা শহরে ব্যবসার আইডিয়া " এ ধরনের ব্যবসায়িক আইডিয়া সংশ্লিষ্ট তথ্য ভবিষ্যতে আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে আরও পাবলিশ
করব। আশা করি পুরো আর্টিকেল পড়ে আপনি খুশি হয়েছেন এবং নিত্য নতুন ব্যবসা সংশ্লিষ্ট আইডিয়া পেয়েছেন। আপনাদের সকলের সুস্থতা, কল্যাণ, বরকত কামনা করে, আজকে আমি এখানেই শেষ করছি, আসসালামু আলাইকুম। 09.01.2026

আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url