কম্পিউটার ভাইরাস কি - ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
কম্পিউটার ভাইরাস কি - ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম জানতে হলে আপনাকে আর্টিকেলটি শেষ অব্দি পড়তে হবে। বিভিন্ন কারণে আমাদের কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যায়।
পোস্ট সূচীপত্র:কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা কম্পিউটার ভাইরাস এই শব্দের সাথে পরিচিত। এই আর্টিকেলে আমি কম্পিউটার ভাইরাস কি - ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।
কম্পিউটার ভাইরাস কি
কম্পিউটার ভাইরাস কি ? ইহা হলো এমন এক ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার/ম্যালওয়্যার/প্রোগ্রাম যা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অজান্তে, কম্পিউটারের মধ্যে প্রবেশ করে, কম্পিউটার মধ্যে থাকা ডাটা, তথ্য, উপাত্ত, ফাইল, সফটওয়্যার এর ক্ষতিসাধন করে একে কম্পিউটার ভাইরাস বলে। সাধারণত, এই ভাইরাসগুলো এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ইন্টারনেট, পেনড্রাইভ, সিডি এর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মানব দেহ যেমন ভাইরাস
দ্বারা আক্রান্ত হয় অনুরূপভাবে কম্পিউটারও ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। কম্পিউটার ভাইরাস সম্পর্কের সর্বপ্রথম ধারণা দেন ফ্রেড কোহেন, ১৯৮৩ সালে। এটা কম্পিউটারের মধ্যে থাকা যেকোনো ধরনের ফাইল বা ডিক্সের ক্ষতি সাধন করে। এই কম্পিউটার ভাইরাস পুরো কম্পিউটার সিস্টেমের মধ্যে প্রবেশ করে, কম্পিউটার সিস্টেম কে মডিফাই করে ফেলে। কম্পিউটার অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং
কম্পিউটারের মধ্যে ক্ষতিকর প্রোগ্রাম সেট আপ করে ফেলে। ধীরে ধীরে কম্পিউটারের মধ্যে সেভ করে থাকা সমস্ত ফাইল এলোমেলো করে দেয়। এক পর্যায়ে কম্পিউটার থেকে ফাইল গুলো আপনা-আপনি ডিলেট হয়ে যায়।
কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাসঃ-
যখন ফ্রেড কোহেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন তখন তিনি কম্পিউটার ভাইরাস সম্পর্কে একটি সেমিনারে সবার সামনে উপস্থাপন করেন। এবং তিনি সেখানে দেখান কিভাবে তার তৈরিকৃত একটি প্রোগ্রাম অন্য কম্পিউটারের মধ্যে প্রবেশ করে পুরো কম্পিউটার কে নিয়ন্ত্রণ করছে। মানবদেহের মধ্যে ভাইরাস প্রবেশ করে যেভাবে দেহকে আক্রান্ত করে অনুরুপভাবে কম্পিউটারের মধ্যে ভাইরাস প্রবেশ করে পুরো কম্পিউটার সিস্টেম কে নিয়ন্ত্রণ করে।
সে অনুযায়ী এর নামকরণ করা হয় ভাইরাস। কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। কেউ বলেছে ফ্রেড কোহেন এর পূর্বে রিচ স্ক্রেনটা নামক এক যুবক ১৯৮২ সালে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করে যা ফ্লপি ডিক্সের মাধ্যমে পুরো কম্পিউটার কে নিয়ন্ত্রণ করতো। আবার কেউ বলেছে, রবার্ট থমাস নামক এক ব্যাক্তি ক্রিপার নামক ভাইরাস আবিষ্কার করে ১৯৭০ সালে যা পুরো কম্পিউটার সিস্টেম কে কপি করে ফেলত।
১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
কম্পিউটারের ভাইরাস এক ধরণের না, কম্পিউটারে বহু ভাইরাস রয়েছে। এই ভাইরাস গুলো প্রতিনিয়ত তৈরি করা হয়। বিভিন্ন দেশের সাইবার সন্ত্রাসীরা এই ভাইরাস গুলো নানান উদ্দেশ্যে তৈরি করে থাকে। ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নামঃ-
- Zeus
- Mydoom
- Nimda
- মাল্টিপার্টাইট ভাইরাস
- ট্রোজান হর্স ভাইরাস
- ম্যাক্রো ভাইরাস
- ওভাররাইট ভাইরাস
- ওভার রাইটিং ভাইরাস
- নেটওয়ার্ক ভাইরাস
৫ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
- ILOVEYOU
- Slammer
- Melissa
- CryptoLocker
- Conficker
- Stuxnet
- প্রোগ্রাম ভাইরাস
- পলিমরফিক ভাইরাস
- বুট সেক্টর ভাইরাস
- জেনারাল পারপাস ভাইরাস
১০ টি ভাইরাসের নাম
- রেসিডেন্ট ভাইরাস
- পার্টিশন সেক্টর ভাইরাস
- ডিরেক্ট অ্যাকশন ভাইরাস
- ব্রাউজার হাইজ্যাকার
- ফাইল ভাইরাস
- ওয়েব স্ক্রিপ্টিং ভাইরাস
- ফাইল ইনফেক্টর
- কমান্ড পারপাস ভাইরাস
কম্পিউটার ভাইরাস কত প্রকার ও কি কি
কম্পিউটার ভাইরাস কত প্রকার ও কি কি ? আপনারা এমন প্রশ্ন প্রায় করে থাকেন। কম্পিউটার ভাইরাসের সুনিদিৃষ্ট কোন সংখ্যা নেই। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করছে সাইবার সন্ত্রাসীরা। যার ফলে মনের অজান্তে কম্পিউটার থাকা গুরুত্বপূর্ণ ডাটা বা তথ্য গুলো মডিফাই হয়ে যাচ্ছে আবার রিমুভ হয়ে যাচ্ছে। পুরো কম্পিউটার সাইবার সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণ করছে। কিছু কিছু পরিচিত কম্পিউটারভাইরাসের নাম হলোঃ-
আরো পড়ুনঃ- ই লার্নিং কি - ই লার্নিং এর সুবিধা ও অসুবিধা
- Spyware
- Browser Hijackers
- Malware
- Worms
- Trojans
- Overwrite Viruses
- Adware Virus
কম্পিউটারে ভাইরাস যেভাবে প্রবেশ করে
কম্পিউটার ভাইরাস জনিত প্রবলেম সমাধানের পূর্বে কম্পিউটারে ভাইরাস কিভাবে প্রবেশ করে তা আমাদের জানতে হবে। একটি কম্পিউটারে বিভিন্ন ভাবে ভাইরাস প্রবেশ করে কম্পিউটারের ক্ষতিসাধন করতে পারে। যেমনঃ-
- কম্পিউটারে ব্যবহৃত ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করে।
- কোন অ-নিরাপদ বা অবৈধ সোর্স থেকে কোন কিছু ইন্সটল বা ডাউনলোড করলে ভাইরাস প্রবেশ করে।
- ভাইরাসে আক্রান্ত এমন কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে
- বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা অন্যের USB ডিভাইস ব্যবহার করি, ফাইল/সফটওয়্যার ডাউনলোড করি, এখন যদি USB ডিভাইসে ভাইরাস থাকে তাহলে পুরো কম্পিউটার আক্রান্ত হবে।
- কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের কাছে ই-মেইল আসে, এখন যদি ঐ ই-মেইলে ভাইরাস যুক্ত কোন ফাইল সংযুক্ত করা থাকে তাহলে কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করবে।
কম্পিউটার ভাইরাস কি কি ক্ষতি করে
কম্পিউটার ভাইরাস কি কি ক্ষতি করে ? তা জানার পূর্বে কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ গুলো জানলে উপকৃত হবেন। বস্তুত, কম্পিউটার ভাইরাসের সুনিদিৃষ্ট কোন লক্ষণ নেই। কারণ, একেক ভাইরাস একেক ধরণের কাজের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। যেগুলোর লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। তবে কিছু সুনিদিৃষ্ট লক্ষণ আছে যে গুলোর মাধ্যমে আপনি আন্দাজ করতে পারবেন, আপনার কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেগুলো হলোঃ-
- প্রয়োজনীয় ফাইল গুলো হঠাৎ রিমুভ হয়ে যাওয়া
- অ-প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার গুলো আপনা-আপনি ইন্সটল হতে থাকা।
- ব্রাউজার ঠিক মতো কাজ না করা, আপনা-আপনি বিজ্ঞাপনের পেজ চালু হওয়া।
- ব্রাউজার ওপেন করলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া।
- পুরো কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম করে দুর্বল করে ফেলা।
- কম্পিউটার অন হতে বাড়তি সময় নেয়, বিভিন্ন সিস্টেম Error দেখায়।
- কম্পিউটার হ্যাং করা, আপনা-আপনি কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যাওয়া।
- কম্পিউটারের হার্ড-ওয়্যার, সফট-ওয়্যার গুলো ঠিক মতো কাজ করে না।
- ইন্টারনেট এবং কম্পিউটার স্লো চলে।
কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়
যদি কোন কারণে আপনার কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন আপনি তাৎক্ষণিক কি ব্যবস্থা নিবেন ? কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধের উপায় কি ? এই বিষয়ে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে। এই ভাইরাস কম্পিউটার কে মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে, যে বিষয়ে আমি ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। এজন্য আপনার উচিত হবে প্রতিরোধমূলক এবং সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কম্পিউটার ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে হলেঃ-
- প্রথম কাজ হবে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইন্সটল করা, যা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে আপনার কম্পিউটারকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখবে।
- আপনি যে সফটওয়্যার এবং অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছেন এগুলো আপডেট ভার্সন হতে হবে। অনেকে অলসতার কারণে আপডেট করে না, যা পুরো কম্পিউটার কে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।
- ইন্টারনেট থেকে কোন কিছু ডাউনলোড করার পূর্বে নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে ডাউনলোড করবেন এবং স্ক্যান করে নিবেন।
- USB ডিভাইস থেকে কোন কিছু আদান-প্রদান করার পূর্বে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার দিয়ে স্ক্যান করে নিবেন।
- অ-পরিচিত কোন ই-মেইল থেকে কোন ফাইল ওপেন করতে বললে বা কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করতে বললে তা থেকে বিরত থাকুন এবং ই-মেইল ডিলিট করে দিন।
- পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন না, এগুলোর মাধ্যমে কম্পিউটারে খুব সহজে ভাইরাস প্রবেশ করে।
- যদি আপনার কম্পিউটারের সাথে অন্য কারো কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং করার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে উক্ত কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত কিনা যাচাই করুন।
- অন্যের Wifi যখন আমরা নিজের কম্পিউটারে কানেক্ট করি, এর মাধ্যমে ভাইরাস প্রবেশের ঝুঁকি বেশি থাকে।
- আপনার কম্পিউটারে যত ধরণের ফাইল রয়েছে তা এন্টি-ভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করুন। অপ্রয়োজনীয় ফাইল গুলো রিমুভ করুন।
- এন্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার দিয়ে যেহেতু কম্পিউটারের প্রতিটি ভাইরাসজনিত প্রবলেম সলভ করা যায় না, তাই যখনই প্রয়োজন অনুভব হবে তখনই কম্পিউটার সিস্টেম রিস্টোর করবেন।
- সব থেকে বুদ্ধিমানের কাজ হবে আপনার মূল্যবান ফাইল গুলো ব্যাক-আপ করে রাখা।
- যদি প্রবলেম থেকেই যায় তাহলে আপডেট উইন্ডোজটি আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করুন।
কম্পিউটার ভাইরাস কি - ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম ( FAQ )
১) কম্পিউটার ভাইরাস সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন কে ?
উত্তরঃ- ফ্রেড কোহেনই.
২) কম্পিউটার ভাইরাসের জনক কে ?
উত্তরঃ- ফ্রেড কোহেনই.
৩) আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে ?
উত্তরঃ- চার্লস ব্যাবেজ.
৪) পৃথিবীর প্রথম আধুনিক কম্পিউটার কোনটি ?
উত্তরঃ- এনিয়াক (ENIAC)
৫) ABC কম্পিউটার কে আবিষ্কার করেন ?
উত্তরঃ- জন ভিনসেন্ট আতানাসফ.
লেখকের মন্তব্য - কম্পিউটার ভাইরাস কি - ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ এই আর্টিকেলে আমি কম্পিউটার ভাইরাস কি - ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো ইতিমধ্যে পেয়েছেন। কম্পিউটার ভাইরাস কতটা বিপদজ্জনক আশা করি আপনি এতক্ষণে তা জেনে গেছেন। তাছাড়া, কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায় গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।
যে গুলো আপনার উপকারে দিবে। এই রকম প্রযুক্তি রিলেটেড সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পেতে আমাদের সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। আমরা প্রতিনিয়ত পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রযুক্তি রিলেটেড আর্টিকেল গুলো আমরা প্রতিনিয়ত এই ওয়েবসাইটে পাবলিশ করে থাকি। সকলের মঙ্গল কামনা করে এখানে শেষ করছি। 25.03.2026



আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url