ইনভেস্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করার সাইট এর তালিকা দেখুন
ইনভেস্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করার সাইট গুলো আমরা প্রায় অনলাইনে তালাশ করে থাকি। অনলাইনে অর্থ বিনিয়োগ করে আয় করা এটা স্ক্যাম ও হতে পারে। তাই অনলাইন থেকে ইনকামের ঝুঁকিমুক্ত উপায় হল ফ্রী ইনকাম সাইট গুলোতে কাজ করা। আপনারা যারা কোন ধরনের বিনিয়োগ ছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করে
পোস্ট সূচীপত্র:আয় করার কথা ভাবছেন তারা সঠিক জায়গায় এসেছেন। আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাদের নিকট এমন প্ল্যাটফর্ম গুলো শেয়ার করার চেষ্টা করি যেখানে মানুষ কাজ করে আয় করতে পারবে।
ইনভেস্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করার সাইট
ইনভেস্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করার সাইট অনলাইনে সহজলভ্য। তবে শুধু সাইট নয়, অনেক অ্যাপ রয়েছে যেখানে কোন প্রকার ইনভেস্ট ছাড়া শুধু কাজ করে আয় করা যায়। এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমি আপনাদের এমন কয়েকটি ওয়েবসাইট বা অ্যাপ এর সাথে পরিচয় করে দিব যেখানে কাজ করতে কোন টাকার প্রয়োজন হয় না। তবে ওই সকল অ্যাপ বা সাইট গুলোতে কাজ করতে হলে আপনাকে সময় ইনভেস্ট করতে হবে।
বর্তমানে অনলাইন সেক্টর গুলো জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অনেক মানুষ ঘরে বসে ইনকাম করে হাজার হাজার ডলার বৈদেশিক রেমিটেন্স আয় করছে। আপনিও যদি তাদের মত বৈদেশিক রেমিটেন্স আয় করতে চান ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাহলে ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলো হতে পারে আপনার জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম। অনেকে বিদেশে গিয়ে লেবার খাটার চাইতে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করাকে
সবথেকে বেশি নিরাপদ মনে করে। এজন্য তারা গুগলে ইনভেস্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করার সাইট লিখে সার্চ করে। আমরা ইন্টারনেটের বিভিন্ন সোর্স থেকে রিসার্চ করে তারপর পাঠকদের জন্য বিশ্বস্ত সাইট গুলোর তালিকা নির্বাচন করে থাকি। যারা আজকে সফল ফ্রিল্যান্সার হয়েছে তাদের শুরুর দিকের সময় গুলো ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্তু তারা ধৈর্য ধরে কাজ করে গেছে যার কারণে আজকে তারা সফল হয়েছে।
এমনও অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে যারা শুধুমাত্র নিজের ওয়েবসাইটে বাংলা আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে ৪০/৫০ হাজার এমনকি এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করছে প্রতিমাসে। আপনি যদি এইরকম টাকা ঘরে বসে ইনকাম করতে পারেন তাহলে শুধু শুধু চাকরির পিছনে ছুটে বেড়ানোর চাইতে এই কাজ গুলো করা যুক্তিসংগত বিষয়। অনলাইনে কাজের গুরুত্ব কতটা সেটা আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি করোনা কালীন সময়ে। যখন
চারদিকে লকডাউন ছিল, মানুষ বেকার ঘরে বসে ছিল। তখন মানুষের অনলাইন থেকে কাজ শিখার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। এখন বর্তমানে আধুনিক যুগ। সকলে চাই অনলাইন থেকে অর্থ উপার্জন করার জন্য। অনলাইনে যদি আপনার একটি স্কিল শেখা থাকে, তাহলে এটি আপনার জীবিকার পথকে আরো সুপ্রশস্ত করবে। মনে রাখবেন অনলাইনে টাকা ইনভেস্ট করে আয় করাটা ঝুঁকিপূর্ণ যেমন: MTFE, এই অ্যাপে অনেক
বাংলাদেশীরা টাকা ইনভেস্ট করে ধোঁকা খেয়েছে। এজন্য অনলাইন থেকে ইনকাম করার পূর্বে আপনাকে বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট, বিশ্বস্ত অ্যাপ, ভুয়া অ্যাপ বা সাইট চেনার উপায় সম্পর্কে বেসিক ধারণা থাকা আবশ্যক। আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাবেন।
Blogger.com
ইনভেস্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করার সাইট গুলোর মধ্যে সবথেকে কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম হলো: Blogger.com. আপনি যদি কোন কথা সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারেন অথবা বলতে পারেন তাহলে Blogger.com এই ওয়েবসাইটটি আপনার জন্য সেরা হবে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে আপনি কোন ভাষায় লিখবেন ? আপনি যেকোন ভাষায় অনলাইনে লেখালেখি করতে পারবেন। যেহেতু আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি।
সুতরাং, বাংলায় লেখালেখি করাটা আমাদের জন্য অনেক সহজ। আগেকার সময়ে লেখালেখির কাজ করা হতো খাতা অথবা কলমে। কিন্তু এখন সময় পাল্টিয়েছে যুগ পাল্টিয়েছে। নতুন নতুন লেখালেখি করার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ( Blogger.com ) সামনে এসেছে। এখন মূল প্রশ্ন হল আপনি কি লিখবেন ? কোন বিষয়ে লিখবেন ? কিভাবে অর্থ উপার্জন করবেন সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখান থেকে জানতে পারবেন।
ধরুন, একজন ব্যক্তি ইন্টারনেটে সার্চ দিল " ব্যান্ডউইথ কি " লিখে। আপনার Blogger.com এ একটি ওয়েবসাইট খোলা আছে সেখানে আপনি " ব্যান্ডউইথ কি " এই বিষয়ের উপর বিস্তারিত তথ্য লিখলেন। মানুষ ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে আপনার লেখাটি পড়ল এবং উপকৃত হলো। আর এখান থেকেই আপনি ইনকাম করতে পারবেন।
আপনাকে একটি ওয়েবসাইট খোলার জন্য Blogger.com এ একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর আপনাকে ডোমেইন ( নিজ ওয়েবসাইটের নাম ), থিম ( ওয়েবসাইটের ডিজাইন ) ক্রয় করতে হবে। আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্পূর্ণ হলে আপনাকে প্রতিদিন একটি করে ব্লগ আর্টিকেল লিখতে হবে। আপনার ওয়েবসাইটে যখন 100+ ভিজিটর আশা শুরু করবে তখন আপনি গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারেন।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে আপনি কোন বিষয়ের উপর আর্টিকেল লিখবেন। আমি একজন পুরাতন ব্লগার ( চার বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ) হিসেবে বলছি: অনলাইন ইনকাম, প্রযুক্তি, প্রোডাক্ট বিষয়ক, ডিজিটাল মার্কেটিং, ধর্মীয় আর্টিকেল থেকে সব চাইতে বেশি ইনকাম হয়। ব্লগিংয়ে সফলতার মূল মন্ত্র হলো একটি সঠিক বিষয় নির্বাচন করা। উপরোক্ত বিষয়গুলোর উপর যদি আপনি আর্টিকেল লিখতে পারেন তাহলে নতুন অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত সফল হতে পারবেন।
আর যদি মনে করেন যে কোন বিষয়ের উপর ইচ্ছামত আর্টিকেল লিখবেন তাহলে ব্লগিং থেকে সফল হতে লম্বা সময় লেগে যাবে। নতুন ব্লগাররা শুরুর দিকে স্বাস্থ্য বিষয়ক, নামের অর্থ, চিকিৎসা বিষয়ক, শিক্ষা বিষয়ক, ভ্রমণ ইত্যাদি বিষয়ের উপর আর্টিকেল লিখে। ফলে হয় কি ব্লগিং থেকে সফল হতে তাদের লম্বা সময় লাগে, একপর্যায়ে তারা হতাশ হয়ে ব্লগিং করা ছেড়ে দেয়। এজন্য আপনাকে উপরোক্ত প্রতিটা বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।
আরো পড়ুনঃ- অভিজ্ঞতা ছাড়া মহিলাদের জন্য বাড়িতে কাজ থেকে কাজ
একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা, আর্টিকেল লেখা, গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রভাল করা এই সকল বিষয়গুলো আপনি নিজে নিজে করতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে ইউটিউবে টিউটোরিয়াল ভিডিও গুলো দেখতে হবে। ইউটিউবে কোন কোন টিউটোরিয়াল ভিডিও গুলো দেখবেন আমি তার লিস্ট ধারাবাহিকভাবে নিচে তুলে ধরছি:
- Blogger.com এ কিভাবে একাউন্ট খুলতে হয়
- ডোমেইন এবং থিম কিভাবে ক্রয় করতে হয়, কিভাবে সেটআপ করতে হয়
- Google search console, Google analytics কিভাবে ওয়েবসাইটের সাথে কানেক্ট করতে হয়
- কিভাবে SEO Friendly ব্লগ আর্টিকেল লিখতে হয় ( কিভাবে কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে হয়, কিভাবে কীওয়ার্ড ইমপ্লিমেন্ট করতে হয় আর্টিকেলের মধ্যে, কিভাবে ইমেজ বা ছবি অপটিমাইজেশন করতে হয় )
- কিভাবে ওয়েবসাইটে ইনকামের জন্য ( Google AdSense, Adsterra ) সেটআপ করতে হয় /
এই বিষয়গুলোর উপর টিউটোরিয়াল ভিডিও ইউটিউব থেকে দেখে নিন। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে 1. Google AdSense সেটআপ করুন ( সর্বনিম্ন 100 ডলার হলে পেমেন্ট উত্তোলন করা যাবে ব্যাংকের মাধ্যমে ) অথবা 2. Adsterra অ্যাকাউন্ট সেটআপ করুন ( সর্বনিম্ন ৫ ডলার হলে পেমেন্ট উত্তোলন করা যাবে, এখানে একটি প্রবলেম হলো ডলার ভাঙ্গাতে হয়, ডলার ভাঙ্গানোর নিয়ম বা ডলার বাংলা টাকায় কনভার্ট করার নিয়ম ইউটিউব থেকে দেখে নিন )।
উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে যদি আপনি কাজ করতে পারেন তাহলে আশা করি 6 - 10 মাস এর মধ্যে একটি পজিটিভ রেজাল্ট দেখতে পারবেন। নতুন ব্লগাররা শুরুর দেখে কিছু কিছু মারাত্মক লেভেলের ভুল করে থাকে যেমন: ডেইলি আর্টিকেল না লিখা, SEO Friendly ব্লগ আর্টিকেল তৈরি না করা, কীওয়ার্ড ঠিকমতো রিসার্চ না করা, অ - প্রয়োজনীয় বিষয়ের উপর ব্লগ আর্টিকেল লেখা, কপি করে লেখা ( ক্রেডিট ব্যবহার না করা ),
ব্লগার এবং গুগলের নীতিমালা না মানা ইত্যাদির কারণে নতুন ব্লগাররা শুরুর দিকে ব্লগিং থেকে ব্যর্থ হয়। তবে তারা হতাশ না হয়ে যদি নিয়মিত লেগে থাকতে পারে তাহলে এই ব্লগিং থেকে তারা লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবে। আমার দেখা অনেক ব্লগার শুধুমাত্র বাংলা ব্লগিং করে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করছে। ব্লগিং থেকে ইনকাম করতে যে আপনার ইন্টারমিডিয়েট, অনার্স, মাস্টার্স ডিগ্রী থাকতে হবে এমনটা নয়।
সেই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে বা মেয়েরা ব্লগিং করে সফল হতে পারবে। আপনি যদি লেখাপড়া জানেন, ইন্টারনেট ও কম্পিউটার সম্পর্কে যদি সামান্য ধারণা থাকে তাও এই সেক্টরে ব্লগিং করে আপনি সফল হতে পারবেন। আর যারা ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারে তারা তো ব্লগিং করে অল্প সময়ের মধ্যে আরও দ্রুত সফল হতে পারবে। কারণ, ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। বাংলা ভাষায় আর্টিকেল লেখার চাইতে ইংরেজি ভাষায় আর্টিকেল লেখা লাভজনক। ইংরেজি ভাষা যদি না জানেন কোন সমস্যা নেই, বাংলা ভাষায় আর্টিকেল লিখবেন।
Youtube.com
ওয়েবসাইটে শুধু লেখালেখি করতে হয় অন্যদিকে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করে আপলোড করতে হয়। Youtube.com ভিডিও তৈরি করে বাস্তবে টাকা ইনকাম করা যায়। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষ ইউটিউবে ভিডিও দেখে সময় কাটিয়ে দেয়। অন্যের ভিডিও দেখে সময় নষ্ট করার চাইতে নিজের তৈরি করা ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করে সেখান থেকে টাকা ইনকাম করা ভালো। এজন্য আপনাকে ভিডিও নির্মাণ করার
কাজ হলো জানতে হবে। ইউটিউব থেকে আপনি যে টাকা ইনকাম করবেন ওই টাকা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারবেন। ইউটিউবে যত ভিউজ তত ইনকাম। ইউটিউব থেকে ইনকামের পূর্বে আপনাকে জানতে হবে:
- কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হয়
- কিভাবে ভিডিও তৈরি করতে হয় ( ক্যামেরার কোয়ালিটি কেমন হওয়া প্রয়োজন )
- কিভাবে ইউটিউবের থাম্বনেইল ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন করতে হয়
- পাশাপাশি ভিডিও এডিটিং এর কাজগুলো আপনাকে শিখে রাখতে হবে।
- যেকোনো বিষয়ের উপর ভিডিও আপলোড করা যায় ( প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট বিষয়ক, ভ্রমণ, শিক্ষা বিষয়ক, নিউজ, ফানি ভিডিও, নার্সারি করা )
- ইউটিউব থেকে ইনকামের জন্য আপনাকে গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হবে। ( শর্ত হল: ওয়াচ টাইম ৪০০০ ঘন্টা, সাবস্ক্রাইবার 1000 হতে হবে, পাশাপাশি ইউটিউব এর অন্যান্য গাইডলাইন গুলো মানতে হবে )
- নিজস্ব একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
এই পুরো বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনি ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়াল ভিডিও গুলো দেখতে পারেন। যারা বড় বড় ইউটিউবার তারা youtube থেকে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করে। যদিও শুরুর দিকে ইউটিউব থেকে ইনকাম করাটা অনেক কঠিন। ধীরে ধীরে যত ভিউজ বাড়বে তত বেশি আপনার ইনকাম হবে। মাথায় রাখতে হবে, ব্যবহারকারীরা যেন আপনার ইউটিউব চ্যানেলকে বিশ্বাসের জায়গা মনে
আরো পড়ুনঃ- ২০ টাকা ডিপোজিট করে ইনকাম করার ১৯টি অ্যাপ ও সাইট
করে। তারা যেন আপনার কাছ থেকে সঠিক সমাধান পায়। আপনি ব্যবহারকারীর যত বেশি আস্থা অর্জন করবেন আপনার ইনকাম ততো বাড়বে। আপনার কাছে যদি একটি ভাল মোবাইল থাকে সে মোবাইল দিয়েও আপনি ইউটিউবিং করতে পারবেন। চেষ্টা করবেন ভালো ভালো কনটেন্ট নির্মাণ করার জন্য। ইন্টারনেট যতদিন থাকবে ততদিন youtube ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়বে এবং তত ভালো ভালো ইউটিউবারের সংখ্যাও বাড়বে।
এখন অনেকে প্রশ্ন করে নতুন অবস্থায় কিভাবে ভিডিও তৈরি করবে ? ভিডিও তৈরির আইডিয়া:
- ধরুন, আপনার বাড়ির ছাদে একটি ছাদ বাগান আছে। ছাদ বাগান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যমূলক ভিডিও আপলোড করুন। আপনার গাছে কি পরিমান ফুল - ফল এসেছে, গাছের কি পরিমান যত্ন নিচ্ছেন, কিভাবে যত্ন নিচ্ছেন ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট ভিডিও তৈরি করুন।
- ধরুন, আপনি যে শহরে বা গ্রামে বা যে জেলাতে থাকেন সেই খানকার ঐতিহাসিক স্থান গুলো, বিনোদন স্পট গুলোর ভিডিও তৈরি করে আপনি আপলোড করুন। এতে মানুষ আপনার মাধ্যমে আপনার জেলা বা শহরকে চিনবে।
- ধরুন, আপনি মোবাইল সার্ভিসিং বা ল্যাপটপ সার্ভিসিং এর কাজ জানেন। আপনি মোবাইল বা ল্যাপটপের সমস্যা গুলো সংশ্লিষ্ট ভিডিও তৈরি করুন, একজন ব্যবহারকারী মোবাইল বা ল্যাপটপের কিভাবে যত্ন নিবে সেই সংশ্লিষ্ট ভিডিও তৈরি করুন, মোবাইল বা কম্পিউটারের পার্টস সংশ্লিষ্ট ভিডিও তৈরি করুন। এ সকল ভিডিওর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
- ধরুন, আপনি একাউন্টিং খুব ভালো বুঝেন। একাউন্টিং সাবজেক্ট গুলোর উপর তথ্যমূলক ভিডিও তৈরি করুন। যাতে কোন শিক্ষার্থী ইউটিউবে সার্চ করে একাউন্টিং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর গুলো যেন পেয়ে যায়। এ সকল ভিডিও ইন্টারনেটে খুবই কম আছে। শুধু একাউন্টিং নয় আরো অন্যান্য বিষয় যেমন: বিজ্ঞান, গণিত, আইসিটি ইত্যাদি বিষয়বস্তুর উপর ভিডিও আপলোড করুন।
- ধরুন, আপনি কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মাইক্রোসফট অফিস অর্থাৎ আপনার প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞান রয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী ইউটিউবে সার্চ করে জানতে চাই " জিমেইল একাউন্ট কিভাবে খুলতে হয় " আপনি সেই জিমেইল অ্যাকাউন্ট সংশ্লিষ্ট ভিডিও তৈরি করুন। যাতে মানুষ উপকৃত হয়।
- ধরুন, আপনি ভ্রমণ করতে খুব পছন্দ করেন। যাত্রা পথে বিভিন্ন বিষয়বস্তু গুলো আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে দর্শকের সাথে শেয়ার করবেন। মানুষ ভ্রমণ করতে এবং ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে ইন্টারনেটের সার্চ করে।
Freelancing website list
ইনভেস্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করার সাইট গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো Freelancing website. যারা বড় বড় ফ্রিল্যান্সার তারা এই সকল মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করে থাকে। এই সকল মার্কেটপ্লেসে কাজের অনেক ডিমান্ড রয়েছে। ছোট হোক অথবা বড় হোক সব ধরনের কাজ এই মার্কেটপ্লেসগুলোতে পাওয়া যায়। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং এর কোন একটি স্কিল জানেন তাহলে এই মার্কেটপ্লেস গুলো থেকে আপনি টাকা
উপার্জন করতে পারবেন। অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সাররা এ সকল মার্কেটপ্লেস থেকে যে কাজগুলো করে থাকে সেগুলো হল: ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ডাটা এন্ট্রি, SEO, ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ইংলিশ আর্টিকেল রাইটিং সহ আরো অন্যান্য কাজ। যে কাজগুলো বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী খুবই ডিমান্ডেবল। আমি নিম্নোক্ত কিছু ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটের তালিকা গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরছি সেগুলো হল:
- We Work Remotely
- Fiverr
- Freelancer.com
- Upwork
- Outsourcely
- Toptal
- PeoplePerHour
- 99Designs
এই সকল ওয়েবসাইটে কাজ করতে কোন প্রকার টাকা ইনভেস্ট করতে হয় না। এখানে শুধু আপনাকে স্কিল শিখে কাজ করতে হবে। এবং ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে কাজ নিতে হবে। এখন প্রশ্ন হল এই সকল ওয়েবসাইটে কিভাবে অ্যাকাউন্ট খুলবেন, কিভাবে ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে কাজ নিবেন, কিভাবে কাজ জমা দিবেন, কিভাবে পেমেন্ট নিবেন ইত্যাদি এই সকল বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে youtube থেকে
টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখে নিন। আপনার জমা দেওয়া কাজ যদি ক্লায়েন্ট এর পছন্দ হয় তাহলে আপনি ভালো রেটিং স্কোর পাবেন যা পরবর্তীতে আপনাকে আরো কাজ পেতে সাহায্য করবে। বড় বড় সফল ফ্রিল্যান্সাররা এই সকল ওয়েবসাইটে কাজ করে হাজার হাজার ডলার আয় করছে।
Image sale website list
ক্যামেরা দিয়ে অথবা নিজের মোবাইল দিয়ে ফটো তুলে তা ওয়েব সাইটে আপলোড করে অন্যদের কাছে বিক্রি করা হয়। অনলাইনে ছবি বিক্রি করার কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে আপনি কোন ছবি তুলবেন ? ছবি কেমন হওয়া উচিত ? এখানে আপনার ছবিগুলো অবশ্যই সুন্দর দৃষ্টিনন্দন হতে হবে। যাতে তা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে। কেননা, ওয়েবসাইটে আপলোড
আরো পড়ুনঃ- ফরম পূরণ করে টাকা ইনকাম
করা ছবি যাতে গ্রাহক ক্রয় করে সেভাবে তুলতে হবে। যেকোনো বিষয়ের উপর ছবি তুলে আপলোড করা যায় যেমন: চিড়িয়াখানার অপরূপ সৌন্দর্যের ছবিগুলো, শিশুরা মাঠে দৌড়াদৌড়ি করছে এরকম সুন্দর মুহূর্তের ছবি, নদীতে সাঁতার কাটছে এমন মুহূর্তের ছবি, বিশেষ কোনো ট্যুরিস্ট স্পটের ছবি ক্যামেরা বন্দি করলেন, সেটি পুনরায় ফটো সেল ওয়েবসাইট গুলোতে আপলোড করলেন। আপনার
তোলা ছবিগুলো যত সুন্দর হবে তত বেশি উচ্চ মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন। ছবি বিক্রি করার মাধ্যমে ইনভেস্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করার সাইট গুলো হলো:
- Adobe Stock
- Freepik
- Pixieset
- Stocksy
এরকম আরো অনেক অনলাইনে ফটো সেল ওয়েবসাইট রয়েছে। আমি এই ওয়েবসাইটের অন্য একটি আর্টিকেলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফটো বিক্রির নিয়ম, পেমেন্ট পাওয়ার উপায় ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এই লিংকে ক্লিক করে ওই আর্টিকেলটি করে নিলে আশা করি আপনার মনে আর কোন সন্দেহ থাকবে না।
Drop shipping website list
ড্রপ শিপিং বিজনেস দাঁড় করাতে নিজের কাছে পণ্য থাকা জরুরি নয়। অনলাইনে অনেক বড় বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে। যেগুলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাস্টমারদের নিকট প্রোডাক্ট সাপ্লাই করবে। অনেকে ড্রপ শিপিং বিজনেস কি তা বোঝে না। আমি আপনাকে সরাসরি প্র্যাকটিক্যাল তথ্য দিয়ে বুঝাবো। ফলে ড্রপ শিপিং সম্পর্কে আপনার মনে আর কোন প্রশ্ন থাকবে না।
👉ধরুন, ABC একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে এবং গ্রাহকদের কাছে গিয়ে পণ্য ডেলিভারি করে। এখানে, ABC ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কে পাইকারি বা পণ্য সরবরাহকারী ( সাপ্লায়ার ) প্রতিষ্ঠান বলা যায়।
👉এখন আপনি চাচ্ছেন, নিজে একটি অনলাইনে বিজনেস দাঁড় করাতে। কিন্তু সমস্যা হল আপনার কাছে কোন পণ্য নাই। আবার নিজের কাছে পণ্য মজুদ করে ব্যবসা করতে হলে অনেক অর্থের প্রয়োজন হয় যা আপনার কাছে নেই। এই মুহূর্তে সবথেকে জনপ্রিয় এবং লাভজনক বিজনেস হল ড্রপ শিপিং।
👉এখন আপনাকে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করতে হয় তা জানতে হলে ইউটিউবে সার্চ করুন।
👉ড্রপ শিপিং ব্যবসায় সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি হল সঠিক পণ্য নির্বাচন। আপনাকে অনলাইনে রিসার্চ করে বের করতে হবে যে কোন পণ্যটি বেশি ক্রয় হচ্ছে।
👉এখন আপনি প্রোডাক্ট রিসার্চ করে পেলেন কীবোর্ড বা মাউস অনলাইনে থেকে বেশি মানুষ ক্রয় করছে। এখন আপনার কাজ হল: ABC ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কীবোর্ড বা মাউস এই পণ্যগুলো আছে কিনা তা দেখা।
👉যদি থাকে তাহলে আপনার তৈরি ই-কমার্স ওয়েবসাইটে উক্ত পণ্যগুলো লিস্টিং করবেন। এখন প্রশ্ন হল দাম কিভাবে নির্ধারণ করবেন ? ধরুণ, ABC ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কীবোর্ড বা মাউস এর দাম 300 টাকা। আপনি নিজের ই-কমার্স ওয়েবসাইটে দাম নির্ধারণ বা লিস্টিং করলেন 400 টাকা।
👉এরপর আপনার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে যে পণ্যগুলো লিস্টিং করা আছে সেগুলোর মার্কেটিং করা শুরু করবেন - ফেসবুক, ইউটিউব, ইমেইল, ওয়েবসাইট এসইও করার মাধ্যমে।
আরো পড়ুনঃ- ফ্রিতে 500 টাকা ইনকাম নগদ পেমেন্ট ( আপডেট তথ্য ) জানুন
👉এখন কোন কাস্টমার যদি আপনার কাছে কীবোর্ড বা মাউস অর্ডার করে, তখন আপনি ওই পণ্যটি ABC ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে অর্ডার করবেন, ABC ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারি ম্যান ওই পণ্যটি গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে দিবে।
👉মাঝখান থেকে ( 400 - 300 ) = 100 টাকা আপনার লাভ। এখানে আপনাকে সাপ্লায়ার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ( ABC ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ) এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া লাগবে। আপনি যদি ড্রপ শিপিং বিজনেস সম্পর্কে লাইভ ভিডিও দেখতে চান তাহলে ইউটিউবে সার্চ করুন। জনপ্রিয় কয়েকটি Drop shipping website এর তালিকা নিম্নরূপ:
- Amazon ( America )
- Alibaba ( china )
- Aliexpress ( china )
- Daraz ( Bangladeshi )
আপনি বাংলাদেশে বসেও বিভিন্ন দেশের হয়ে ড্রপ শিপিং এর বিজনেস গুলো করতে পারবেন। COVID-19 এর সময় ড্রপ শিপিং বিজনেস এর ব্যাপক চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল। উন্নত বিশ্বে অনলাইন থেকে পণ্য কেনাকাটা এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
শেষ মন্তব্যঃ লেখকের কথা
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ এই আর্টিকেলে আমি ইনভেস্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করার সাইট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখন অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন নতুন অবস্থায় একজন ব্যক্তি কোন কাজ করবে ? নতুনরা যদি কোন প্রকার বিনিয়োগ ছাড়া অর্থ উপার্জন করতে চান তাহলে আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো: Blogger.com অ্যাকাউন্ট খুলে ব্লগিং করা শুরু করে দিন অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফটো সেল
করুন। এই দুটি কাজ শুরু করা নতুনদের জন্য খুবই সহজ। এবং এখান থেকে ইনকাম অল্প সময়ের মধ্যে শুরু করা সম্ভব। আর অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সিং করা, ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করা, ড্রপশিপিং করা ইত্যাদি এই সকল কাজগুলো করা একটু কঠিন এবং ইনকাম করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই আপনারা যদি দ্রুত অল্প সময়ের মধ্যে ইনকাম শুরু করে দিতে চান তাহলে ব্লগিং করুন অথবা ছবি
বিক্রি করার এই কাজ গুলো করুন। আমি আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হয়েছেন। এই ধরনের অনলাইন ইনকাম সংশ্লিষ্ট আর্টিকেলগুলো আমি আমার ওয়েবসাইটে পাঠকদের জন্য তৈরি করে থাকি। আমি চেষ্টা করি অনলাইন থেকে ইনকামের বাস্তব উপায় গুলো শেয়ার করার, যাতে করে সহজে ইনকাম শুরু করা যায়। এই ধরনের সুন্দর সুন্দর ব্লগ আর্টিকেলগুলো আরো পেতে
আমাদের ওয়েবসাইট প্রতিদিন ভিজিট করুন। যেকোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট বক্সে করে রাখতে পারেন। সকলের মঙ্গল কামনা করে আজ এখানেই শেষ করছি। 27.07.2026

আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url