ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার ১৬ প্রকার ইউনিক উপায়

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম যারা করতে চান তাদের জন্য আজকের এই ব্লগ আর্টিকেলটি গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে এমন কিছু টিপস এন্ড ট্রিকস শেয়ার করব যেখানে আপনি কোন ধরনের ভিডিও তৈরি করা ছাড়াই ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। 

ভিডিও-না-বানিয়ে-ইউটিউব-থেকে-ইনকাম-করার-১৬-প্রকার-ইউনিক-উপায়

পোস্ট সূচীপত্র:একটি ভিডিও তৈরি করা অনেক সময়ের ব্যাপার। এজন্য শুরুর দিকে ভিডিও শুট করতে হয়, এরপর এডিটিং করতে হয়, আরো অনেক বিষয় রয়েছে যা অনেকের পক্ষে করা সম্ভব নয়। 

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে কিছু শর্টকাট নিয়ম শেয়ার করব যা দ্বারা আপনি উপকৃত হবেন। বিভিন্ন ডাটা বা ইনফরমেশন এর লাইভ ভিডিও দেখতে মানুষ youtube এ অনুসন্ধান করে। আগেকার সময় মানুষ টিভি দেখতো। বর্তমানে মানুষ যে কোন কিছু জানার প্রয়োজন অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউবে সার্চ করে। আর ইউটিউব থেকে সরাসরি লাইভ ভিডিও 

দেখার ফ্রী এক্সেস থাকার কারণে গোটা বিশ্বজুড়ে ইউটিউব তুমুল জনপ্রিয়। অনলাইনে যতগুলো ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম রয়েছে তার মধ্যে youtube এক নম্বরে। পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ১ বিলিয়ন ঘন্টার উপর মানুষ youtube এ ভিডিও দেখছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এর জনপ্রিয়তা অনেক। অনেক মানুষ মনে করে ইউটিউব হচ্ছে বিনোদনের মাধ্যম কিন্তু অনেকের নিকট এটা জীবিকার মাধ্যমে 

হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ সকল প্লাটফর্ম গুলোতে ভিডিও শেয়ার করেও লাখ লাখ ডলার আয় করা যায়, অনেক সফল ইউটিউবার তা করে দেখিয়েছে।। আমরা সকলে জানি ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করতে হলে অবশ্যই ভিডিও নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু যারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে পারে না এবং ভিডিও এডিটিং স্কিল যাদের ভাল না, তারা ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম কিভাবে করবে সে বিষয়ে এই আর্টিকেল আমি আলোচনা করব। সেগুলো হলো:

  1. সাউন্ড ইফেক্ট তৈরি করে আয় 
  2. Youtube চ্যানেল ম্যানেজমেন্ট 
  3. লাইভ স্ট্রিমিং ভিডিও 
  4. স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ 
  5. থার্ড পার্টি কনটেন্ট পাবলিশ
  6. কপিরাইট ফ্রি স্টক ভিডিও 
  7. অ্যানিমেশন ভিডিও তৈরি
  8. প্রেজেন্টেশন শেয়ার করে আয় 
  9. রিভিউ রিলেটেড ভিডিও 
  10. Video editing করা 
  11. Data analytics for YouTube
  12. Promote videos ( ভিডিও প্রচার )
  13. Translate service provide
  14. thumbnail background design for YouTube 
  15. Video sponsored
  16. YouTube channel Sold

👉 সাউন্ড ইফেক্ট তৈরি করে আয় 

বর্তমানে অনলাইনে কপিরাইট ফ্রি সাউন্ড ইফেক্ট এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। মূলত সাউন্ড ইফেক্টগুলো ব্যবহার করে অনলাইনে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা হয়। মূলত যারা কনটেন্ট ক্রিয়েটর অথবা ফিল্ম তৈরি করে থাকে তারা সাউন্ড ইফেক্ট গুলো নিয়ে থাকে। সাউন্ড 

ইফেক্ট এই শব্দগুলো বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন: গাড়ির শব্দ, বাতাসের শব্দ, বন্য পশুর শব্দ, মেঘের আওয়াজ, কান্নার আওয়াজ ইত্যাদি। এই শব্দগুলো আপনাকে তৈরি করতে হবে এরপর সেগুলো নিজ ইউটিউব চ্যানেলে শেয়ার করতে হবে। অনেক ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটার এগুলো টাকা দিয়ে কিনে নিবে।

 👉Youtube চ্যানেল ম্যানেজমেন্ট 

এখানে আপনি বেতন ভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। আপনার কাজ হল ইউটিউব মালিকের চ্যানেল দেখভাল করা যেমন: থাম্বনেইল তৈরি, সঠিক সময়ে ভিডিও পাবলিশ, কাস্টমাইজেশন সংশ্লিষ্ট কাজগুলো। যারা বড় বড় ইউটিউবার তারা এই ছোট ছোট কাজগুলো করার জন্য একজন ম্যানেজার নিয়োগ দিয়ে থাকে। ওই ম্যানেজারের কাজ হল Youtube চ্যানেল ম্যানেজমেন্ট করা। এখানে আপনাকে ভিডিও 

নির্মাণ অথবা ক্যামেরার সামনে কথা বলা এই জাতীয় কাজগুলো করার দরকার নেই। মূল কাজগুলো যার ইউটিউব চ্যানেল সেই করবে। এই চ্যানেল ম্যানেজমেন্টের কাজ করে আপনি প্রতি মাসে 7/10/12/15 হাজার টাকার মত ইনকাম করতে পারেন। এখানে ইনকামের পুরো বিষয়টি ইউটিউব চ্যানেলের মালিকের উপর নির্ভর করবে। আপনি যদি এ 

কাজগুলো করতে চান তাহলে Youtube চ্যানেলের মালিকের সাথে যোগাযোগ করুন। ইউটিউবে যেকোনো বিষয়ে লিখে সার্চ দিলে অনেক youtube চ্যানেল পাবেন বা ইউটিউবে ঢুকলে হোম পেজে অনেক ভিডিও চলে আসে। ওই সকল ইউটিউব চ্যানেলের ডেসক্রিপশন বক্সে গেলে যোগাযোগের বিভিন্ন লিঙ্ক পাবেন। সেখান থেকে ইউটিউব চ্যানেলের মালিকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। 

👉লাইভ স্ট্রিমিং ভিডিও 

আমরা ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং করি, আপনি চাইলে ওই একই লাইভ স্ট্রিম নিজ youtube চ্যানেলেও করতে পারেন। এখন প্রশ্ন আসতে পারে আপনি কি বিষয়ের উপর লাইভ স্ট্রিমিং ভিডিও আপলোড করবেন ? মনে করুন, আপনার এলাকায় ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে অথবা একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আপনার এলাকায় এসেছে অথবা আপনি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থানে সফর করছেন 

অথবা আপনি কোন বিয়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন অথবা অনলাইনে লাইভ গেমিং ভিডিও ( PUBG ) ইত্যাদি যে কোন বিষয় উপর ভিডিও করে ইউটিউবে পাবলিশ করতে পারেন। আপনার এলাকায় যদি কোন ওয়াজ মাহফিল হয় সেখানেও কিন্তু ইউটিউবাররা লাইভ স্ট্রিমিং ভিডিও করে থাকে। 

👉স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ 

যে কোন ভিডিও নির্মাণের পূর্বে স্ক্রিপ্ট রাইটার এর প্রয়োজন পড়ে। আপনার লেখা স্ক্রিপ্ট যত ভাল হবে ভিডিও তত সুন্দরভাবে দর্শকদের সামনে ফুটে উঠবে। একটি ভিডিও যত বেশি দর্শকদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পাবে, সেই ভিডিও থেকে তত বেশি আয় করা সম্ভব। এজন্য ভিডিওগুলো অবশ্যই তথ্যবহুল, গোছানো এবং উপকারী হওয়া প্রয়োজন যেমন: ডকুমেন্টারি ভিডিও। বিভিন্ন বিষয়ের উপর ডকুমেন্টারি ভিডিও নির্মাণ করা 

যায় যেমন: প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, মুসলিম সাম্রাজ্যের ইতিহাস, বৈশ্বিক পরাশক্তিদের ইতিহাস, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন উত্থান ও পতন এর উপর ডকুমেন্টারি ভিডিওগুলো নির্মাণ করা যায়। এই ডকুমেন্টারি ভিডিও গুলো নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজন হয় একজন দক্ষ স্ক্রিপ্ট রাইটার। তবে যে কেউ স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করতে পারে না। এজন্য তাকে 

আরো পড়ুনঃ- ফরম পূরণ করে টাকা ইনকাম

পড়াশোনা ও গবেষণা করতে হয়। তাহলে আপনি তথ্য কালেক্ট করতে পারবেন। আপনি যত গভীরে গিয়ে তথ্য কালেক্ট করবেন তত আপনার ভিডিও গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। মানুষ সাধারনত ইতিহাসের অজানা অধ্যায় গুলো জানার জন্য এই ডকুমেন্টারি ভিডিও গুলো দেখে থাকে। এজন্য অনেক বড় বড় ইউটিউবাররা তাদের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য স্ক্রিপ্ট রাইটার নিয়োগ দিয়ে থাকে। আপনি চাইলে একজন ইউটিউব মালিকের অধীনে মাসিক বেতন চুক্তিতে স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করতে পারেন। 

👉থার্ড পার্টি কনটেন্ট পাবলিশ

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার অন্যতম পদ্ধতি হলো থার্ড পার্টি কনটেন্ট পাবলিশ করা।এক্ষেত্রে আপনাকে ইউটিউবের aggregation পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ youtube চ্যানেলে থার্ড পার্টি কনটেন্ট পাবলিশ করতে হবে। এই সুযোগ ইউটিউব আপনাকে দিয়ে থাকবে। এখানে আপনাকে নিজ হতে 

কনটেন্ট তৈরি করতে হবে না, ভিডিও এডিটিং এর কোন ঝামেলা নেই। আপনি অন্যের ভিডিও আপলোড করে আয় করতে পারবেন। এখানে তুলনামূলক সময় কম লাগবে। এরকম youtube চ্যানেল রয়েছে যারা থার্ড 

পার্টি কনটেন্ট পাবলিশ করে মাসে হাজার হাজার ডলার আয় করছে। আপনি চাইলে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে থার্ড পার্টি কন্টেন্ট পাবলিশ করে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার আয় করতে পারেন। 

👉কপিরাইট ফ্রি স্টক ভিডিও 

আপনি যদি ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে চান তাহলে আপনাকে কপিরাইট ফ্রি স্টক ভিডিও এবং কপিরাইট ফ্রি মিউজিক এর প্রয়োজন হবে। এখন প্রশ্ন হতে পারে আপনি এগুলো কোথা থেকে পাবেন ? এর উত্তর খুবই সোজা। অনলাইনে জনপ্রিয় কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে সেই ওয়েবসাইট গুলোতে ফ্রী ভিডিও ও মিউজিক পাওয়া যায়। যেগুলো সমন্বয়ে আপনি ভিডিও নির্মাণ করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। উক্ত ওয়েবসাইট গুলো হলো:

  • Adobe Stock
  • Pixabay
  • Videvo
  • Pexels

👉অ্যানিমেশন ভিডিও তৈরি

সাধারণত কার্টুন জাতীয় ভিডিও গুলোর প্রতি আমাদের আসক্তি থাকে। বর্তমানে যে ধরনের ঘটনাগুলো ঘটছে সেই ঘটনাগুলো আপনি কার্টুন এর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন যেমন: স্পোর্টস সংশ্লিষ্ট যেকোনো অ্যানিমেশন। তাছাড়া, আপনি শিক্ষামূলক কিছু অ্যানিমেশন ভিডিও আপলোড করতে পারেন যেমন: ঘুম থেকে ওঠার দোয়া বা ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে দোয়া ইত্যাদি। অ্যানিমেশন ভিডিও তৈরি করার কিছু 

সফটওয়্যার এর নাম: Blender, Poser, Cinema 4D, এরকম অ্যানিমেশন তৈরি করার আরো কিছু অ্যাপ যেমন: Flipaclip, Draw Cartoons, Puppet pulps HD ইত্যাদি। আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন আর এই সফটওয়্যার ও এপ্স গুলো কিভাবে ব্যবহার করবেন তা যদি না জেনে থাকেন তাহলে ইউটিউবে কোন একটি টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখে নিতে পারেন।

👉প্রেজেন্টেশন শেয়ার করে আয় 

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার আরো একটি পদ্ধতি হলো প্রেজেন্টেশন শেয়ার। এখানে কোন একটি বিষয়ের উপর আপনার দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। এরপর আপনাকে প্রেজেন্টেশন বা স্লাইড তৈরি করতে হবে। যেভাবে শ্রেণী কক্ষে শিক্ষকরা প্রেজেন্টেশন বা স্লাইড তৈরি করে ক্লাস নিয়ে থাকে। এই প্রেজেন্টেশন বা স্লাইড তৈরি করার জন্য PowerPoint বা Google Slides এর প্রয়োজন হয়। 

এ পুরো বিষয়টি আপনি স্ক্রিন ক্যাপচার করে, নিজ youtube চ্যানেলে আপলোড করবেন। বিভিন্ন বিষয়ের উপর আপনি প্রেজেন্টেশন বা স্লাইড তৈরি করতে পারেন যেমন: অনলাইন টিচিং, ড্রাইভিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, মোবাইল বা ল্যাপটপ সার্ভিসিং অর্থাৎ যে বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা আছে। 

👉রিভিউ রিলেটেড ভিডিও 

দেখুন, আমরা সকলে ফেসবুকে লাইভ ভিডিও করতে পারি। আর সেগুলো পাবলিশ ও করতে পারি। এ জাতীয় ভিডিও গুলো যেহেতু আমরা একটি নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে বা বসে করতে পারি, সেজন্য এগুলো আমাদের এডিটিং করার প্রয়োজন পড়ে না। যখন আপনি একাধিক স্থান থেকে ভিডিও শুট করে সেগুলো একত্রিত করে পাবলিশ করতে চান তখন আপনার এডিটিং করার প্রয়োজন হয়।

ধরুন, আপনি একজন খামারি, আপনার খামারে কোয়েল পাখির ডিম পাওয়া যায়, আপনি সেই ভিডিওগুলো করে নিজ youtube চ্যানেলে পাবলিশ করলে অথবা আপনার বাড়ির ছাদে সুন্দর সুন্দর ফুল - ফলের বাগান রয়েছে, সেগুলোর ভিডিও করে নিজ ইউটিউব চ্যানেলে পাবলিশ করলেন। এই কাজগুলো করতে আপনার বিশেষ কোন স্কিলের প্রয়োজন নেই। আপনাকে শুধু ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে একটু গুছিয়ে 

কথা বলতে হবে। এই শর্টস ভিডিও গুলো নিজ youtube চ্যানেলে আপলোড করে, গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করিয়ে শত শত ডলার আয় করতে পারেন।

👉 Video editing করা 

একটি ইউটিউব চ্যানেলে সুন্দরভাবে ভিডিও দর্শকদের সামনে তুলে ধরার জন্য এডিটিং এর কোন বিকল্প নেই। এডিটিং এর মাধ্যমে আমরা দর্শকদের নিকট ভিডিও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারি। বড় বড় ইউটিউব এর মালিকরা তাদের ভিডিওগুলো এডিটিং করার জন্য একজন দক্ষ ভিডিও এডিটর নিয়োগ দিয়ে থাকে। আপনি যদি ভিডিও এডিটিং এর কাজ জানেন তাহলে 

ইউটিউবে যে সকল ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, ওই চ্যানেলের মালিকদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাছাড়া বিভিন্ন স্যাটেলাইট মিডিয়ার ( jamuna TV, Somoy TV, NTV ) ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। এখানেও ভিডিও এডিটর নিয়োগ দেওয়া হয় মাসিক বেতনে। আপনি চাইলে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। 

👉 Data analytics for YouTube 

একটি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ডাটা এনালিটিক্স করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে কোন ইউটিউব ভিডিও থেকে কি পরিমান ইনকাম হচ্ছে, কেমন ভিউজ হচ্ছে, অতীতের তুলনায় বর্তমানে কেন ভিউজ বা ইনকাম কমছে, কোন কীওয়ার্ড দিয়ে বেশি সার্চ হচ্ছে ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো analytics করার প্রয়োজন হয়। ইউটিউবের জন্য Data analytics কাজ করে আপনি হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারেন। তাছাড়া, 

আরো পড়ুনঃ- ছোট ছোট কাজ করে টাকা ইনকাম করার কার্যকরী ১৮টি উপায়

আপনি নিজেও ফেসবুক পেজ ক্রিয়েট করে Data analytics সার্ভিস অর্থের বিনিময়ে প্রোভাইড করতে পারেন। অন্যের ইউটিউব চ্যানেলে মাসিক বেতনে ডাটা analytics জব করতে পারেন। প্রতিটি ইউটিউব চ্যানেলে Data analytics সার্ভিস 500 থেকে 1000 বা তার বেশি টাকা চার্জ করতে পারেন। এভাবে যত বেশি ক্লায়েন্ট হবে আপনার তত বেশি আয় হবে। 

👉 Promote videos ( ভিডিও প্রচার )

এক্ষেত্রে অনেক ইউটিউবাররা তাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিউজ বাড়ানোর জন্য ভিডিও প্রচার করার কাজ দিয়ে থাকে। আপনি তাদের সাথে মাসিক বেতনে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ কাজগুলো করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাদের ওই ভিডিওগুলো আপনাকে বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্ম 

গুলোতে শেয়ার করতে হবে। এজন্য আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর বেসিক নলেজ থাকা জরুরী। কোন ভিডিও কোথায় কিভাবে শেয়ার করলে বেশি থেকে বেশি ভিউজ পাওয়া যাবে সে বিষয়ে জানা দরকার। এভাবে একটি ভিডিও Promote করার জন্য 100 - 300 taka চার্জ করতে পারেন। 

👉 Translate service provide

এখানে আপনার ভাষাগত জ্ঞান থাকা আবশ্যক। আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে বলল যে, অমুক youtube চ্যানেলের অমুক ভিডিও টি আমাকে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ করে দাও ? আর আপনি ইংরেজি ভাষা খুব ভালো বুঝেন। এখন আপনি ওই ভিডিওটি দেখবেন এবং সেটার বাংলা অনুবাদ করে আপনার ক্লায়েন্ট কে 

দিবেন। ওই ভিডিওটি কতক্ষণ সময়ের এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে আপনি প্রতিটি ভিডিওর জন্য ইচ্ছামত চার্জ নির্ধারণ করতে পারেন। একটি ১০ মিনিটের ভিডিও যদি আপনাকে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ করে দিতে বলে তাহলে আপনি 300/400/500 টাকা চার্জ করতে পারেন। 

👉 thumbnail background design for YouTube 

একটি ইউটিউব এর ভিডিও দর্শকের সামনে চমকপ্রদ করে তুলতে পারে একটি আকর্ষণীয় থাম্বনেইল ব্যাকগ্রাউন্ড। থাম্বনেইল ব্যাকগ্রাউন্ড যত সুন্দর হবে এবং টাইটেল যত আকর্ষণীয় হবে তত বেশি ভিউজ এর পরিমাণ বাড়বে। এখন প্রশ্ন হতে পারে এই থাম্বনেইল ডিজাইন কাজগুলো আপনি কোথায় পাবেন ? অসংখ্য নিউজ চ্যানেল গুলো তাদের ইউটিউব এর জন্য থাম্বনেইল ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইনার নিয়োগ দিয়ে থাকে 

যেমন: NTV, jamuna TV, Somoy TV. আপনি তাদের ওয়েবসাইটের যোগাযোগ পেজ অথবা ইউটিউব চ্যানেলের ডেসক্রিপশন বক্সে গিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেমন: upwork, Fiverr থাম্বনেইল ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন এর কাজ পাওয়া যায়। এজন্য আপনাকে প্রথমে কাজ শিখতে হবে এরপর কাজ অনুসন্ধান করতে হবে। তাছাড়া, নিজেও ফেসবুক পেজ খুলে এই সার্ভিসগুলো 

প্রোভাইড করে ইচ্ছামত চার্জ ধার্য করতে পারেন। এই কাজগুলো করার সফটওয়্যার হল ফটোশপ অথবা ক্যানভা এ দুটি বেশি জনপ্রিয়। 

👉 Video sponsored

এটা নির্ভর করে আপনার নিজ youtube চ্যানেলের জনপ্রিয়তা কতটুকু সেটার উপর। আপনার ইউটিউব চ্যানেলের যদি সাবস্ক্রাইবার অনেক থাকে এবং যদি অনেক ভিউজ হয় তাহলে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে অন্যের Video sponsored করে আয় করতে পারবেন। অনেক কোম্পানি তাদের পণ্য বা সেবার ভিডিও প্রচার করার জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। তখন আপনি তাদের ভিডিও নিজ youtube চ্যানেলে প্রচার 

করার জন্য 5/10/15 হাজার টাকা পর্যন্ত চার্জ করতে পারবেন। এই কাজগুলো শুধু তারাই পাই যাদের প্রচুর ভিউজ হয়। শুরুর দিকে আপনি এ কাজগুলো পাওয়া খুবই কঠিন। sponsored নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই সে পণ্য বা সেবার মানগুলো যাচাই করে নিবেন। কারণ, দর্শকরা যদি আপনার প্রচারিত পণ্য বা সেবার ভিডিও দেখে তা ক্রয় করে প্রতারিত হয় তাহলে আপনার ইমেজ নষ্ট হবে। দর্শকরা আপনাকে খারাপ ভাববে। তাই বিষয়গুলো তে একটু সাবধান হবেন।

👉 YouTube channel Sold

আপনি পুরো একটি ইউটিউব চ্যানেল নগদ লাখ লাখ টাকায়  বিক্রি করতে পারেন। এজন্য শুরুর দেখে আপনাকে কপিরাইট ফ্রি স্টক ভিডিও গুলো আপলোড করুন। যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচুর ভিউজ হবে এবং সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বাড়বে, গুগল এডসেন্স এপ্রুভাল হবে তখন আপনি উচ্চমূল্যে পুরো চ্যানেলটি বিক্রি করতে পারবেন। এখন আপনি ইউটিউব চ্যানেলটি কিভাবে বিক্রি করবেন ? আপনার Facebook page 

অথবা YouTube channel এ শেয়ার করবেন যে " এই চ্যানেলটি বিক্রি হবে এত টাকা মূল্য " এখন আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে কি পরিমান ভিউজ হয়, কেমন ইনকাম হয়, যাবতীয় Data analytics শেয়ার করবেন, আগ্রহী ক্রেতারা যোগাযোগ ঠিকানায় গিয়ে তারা আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। 

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে বাস্তবে আয় করা সম্ভব ?

জি, বাস্তবে ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে আয় করা সম্ভব। ভিডিও বানানোর জন্য ইউটিউবে আপনার শরীর উপস্থাপন করতে হবে এটা বাধ্যতামূলক নয়। আমি আপনাকে এমন অনেক ইউটিউব চ্যানেলের নাম বলতে পারি যেগুলো তে মুখ না দেখিয়েও শুধুমাত্র ভয়েস দিয়ে ভিডিও নির্মাণ করে আয় করছে, তার মধ্যে একটি হলো: Faporbaz Fun. " Faporbaz Fun " নামে জনপ্রিয় একটি বাংলা ভাষার youtube চ্যানেল রয়েছে। 

এই ইউটিউব চ্যানেল কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ক্লিপ ভিডিও বা ছবি সংগ্রহ করে তাতে নিজেদের বাংলা ভয়েস যুক্ত করে নতুন করে " Faporbaz Fun " youtube চ্যানেলে পাবলিশ করে। এই ভিডিও গুলো দর্শকদের নিকট অনেক ইন্টারেস্টিং হয়ে থাকে। বিষয়টি যদি এরকম হতো যে,  " Faporbaz Fun " কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট থেকে ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করল এবং সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে 

আরো পড়ুনঃ- ইনভেস্ট ছাড়া টাকা ইনকাম করার সাইট এর তালিকা দেখুন

পাবলিশ করলো তাহলে কিন্তু এতটা জনপ্রিয়তা পেত না। এখন প্রশ্ন আসতে পারে এখানে তাদের নতুনত্ব কি ? উত্তর হলো: তারা যে ইন্টারনেট থেকে ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করেছে, ওই ভিডিও ক্লিপ গুলো কি বিষয়ে,  তার বিস্তারিত বিবরণ বাংলা ভাষায় বর্ণনা করে, যা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের নিকট ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। " Faporbaz Fun " এই ইউটিউব চ্যানেলে বর্তমানে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা 459k এবং ভিডিওর সংখ্যা 902. 

এরকম আরও একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যেমন: " মায়াজাল " এই একই পদ্ধতিতে ভিডিও আপলোড করে। বর্তমানে এই ইউটিউব চ্যানেলটি এতটাই জনপ্রিয় যে যার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা 11.4 million, এই ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওর সংখ্যা বর্তমানে 870. আপনি নিজে ইউটিউবে গিয়ে Faporbaz Fun অথবা মায়াজাল লিখে সার্চ করুন। তাদের ভিডিওগুলো দেখুন এবং আইডিয়া নিন। এখানে 

মূল আকর্ষণের বিষয় হচ্ছে তাদের নিজেদের দেওয়া ভয়েস। আপনি চাইলে তাদের পথ অনুসরণ করে তাদের মত করে এগিয়ে যেতে পারেন। 

ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার উপায় কি ?

একজন ইউটিউবার ইউটিউব থেকে কয়েকভাবে আয় করতে পারে। দর্শক মহলে জনপ্রিয়তা পাওয়ার অথবা সেলিব্রিটি হওয়ার একটি বিশাল অপরচুনিটি হল ইউটিউবিং। আপনার ইউটিউব চ্যানেলে যত বেশি ভিউজ হবে তত বেশি ইনকাম হবে। নিম্নোক্ত উপায়ে আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারেন যেমন যেমন:

গুগল এডসেন্স: ইউটিউব থেকে আয় করার সবথেকে নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হল গুগল এডসেন্স। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের ইউটিউবাররা গুগল এডসেন্স থেকে ইউটিউবিং করে হাজার হাজার ডলার আয় করে। যদি আপনি ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে পারেন তাহলে আপনিও তাদের মত আয় করতে পারবেন। তবে ইউটিউবে গুগল এডসেন্স approved হওয়ার জন্য ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম এবং ১০০০ সাবস্ক্রাইব হওয়া দরকার। ইউটিউবে ভিডিও চলাকালীন সময়ে যে বিজ্ঞাপন গুলো দেখায় ওই বিজ্ঞাপন গুলো থেকেই মূলত আয় হয়। 

অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামিং: বড় বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইটের হয়ে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামিং চালিয়ে আপনি আয় করতে পারেন। বিশ্বের সবথেকে বড় ই কমার্স প্রতিষ্ঠান হল amazon। অ্যামাজনের যে পণ্য রয়েছে সে পণ্যগুলোর উপর আপনি একটি ভিডিও তৈরি করবেন এবং বলবেন ডেসক্রিপশন বক্সে যে লিংক আছে ওই লিংকে ক্লিক করে আপনি পণ্যগুলো ক্রয় করতে পারেন। উক্ত লিংকে ক্লিক করে কেউ যদি পণ্য কিনে বিনিময়ে আপনি কমিশন আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। 

আরো পড়ুনঃ- ভিডিও দেখে টাকা ইনকাম করার অ্যাপ বাংলাদেশ

ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর: স্বাভাবিকভাবে যারা বড় বড় ইউটিউবার হয় তারা বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য মার্কেটিং করে থাকে। মূলত তারা উক্ত কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে কাজ করে। এভাবে আপনি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে চুক্তিতে উক্ত কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে কাজ করতে পারেন।

নিজস্ব পণ্য বিক্রি: আপনি নিজেও একজন ব্যবসায়ীর মতো করে পণ্য বিক্রি করতে পারেন। ধরুন, আপনার কাছে একটি কম্পিউটার আছে যেটা আপনি বিক্রি করতে চান। ওই কম্পিউটারের বিস্তারিত বিবরণ ও মূল্য উল্লেখ করে আপনি একটি ভিডিও তৈরি করবেন। এবং আপনি যোগাযোগের ঠিকানা গুলো দিয়ে রাখবেন। দেখবেন উক্ত পণ্য ক্রয় জন্য মানুষ আপনার সাথে যোগাযোগ করছে। 

শেষ মন্তব্য: লেখকের কথা 

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, আমি এই আর্টিকেলে ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করার ইউনিক উপায় গুলো তুলে ধরেছি। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি এতক্ষণে বুঝে গেছেন ভিডিও তৈরি করার জন্য ক্যামেরা সামনে দাঁড়ানো আবশ্যক নয়, কপিরাইট ফ্রি স্টক ভিডিও গুলো আপলোড করা যায়, ক্যামেরার পিছনে দাঁড়িয়ে নিজের ভয়েস দিয়েও ভিডিও নির্মাণ করা যায়। 

আমরা চাই অনলাইন ইনকাম সংশ্লিষ্ট এমন ব্লগ আর্টিকেল গুলো তৈরি করতে যেগুলো পড়ে পাঠকরা বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবে। ভবিষ্যতে এরকম আরো ইনফোরমেটিভ আর্টিকেল আপনাদের সামনে নিয়ে আনব। এতক্ষণ পুরো সময় জুড়ে আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। নিচের কমেন্ট বক্সে আপনাদের মূল্যবান মতামত গুলো শেয়ার করতে পারেন। আপনার মঙ্গল ও সুস্থতা কামনা করে আজ এখানেই শেষ করছি। 06.08.2026

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url