কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা
কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা নিয়ে এই আর্টিকেলে আমি আলোচনা করব। কম্পিউটার ভাইরাস কম্পিউটারের জন্য কতটা বিপদজনক যারা প্রযুক্তি সচেতন ব্যক্তি তারা এর ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত।
পোস্ট সূচিপত্র:মূলত কম্পিউটার ভাইরাস গুলো প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিভাইরাস গুলো তৈরি করা হয়। চলুন তাহলে আর দেরি না করে কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা গুলো জেনে নেওয়া যাক।কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা
কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা জানতে হবে যদি একজন কম্পিউটার ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন। বর্তমানে নিত্যনতুন কম্পিউটার ভাইরাসের আবিষ্কার হচ্ছে। যে বিষয়গুলো সম্পর্কে একজন কম্পিউটার ব্যবহারকারী অবগত না। এ কম্পিউটার ভাইরাসগুলো তৈরি করা হয় কম্পিউটারের মধ্যে থাকা ডাটা বা তথ্য গুলো ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য অথবা চিরস্থায়ীভাবে রিমুভ করার
জন্য। আর অ্যান্টিভাইরাস গুলো তৈরি করা হয়েছে কম্পিউটার ভাইরাসগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কম্পিউটার থেকে রিমুভ করার জন্য। কম্পিউটার ভাইরাস যা কম্পিউটার জন্য বিপদজনক। অ্যান্টিভাইরাস যা কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখে, ভাইরাস থেকে। গোটা বিশ্বের মধ্যে কতগুলো পরিচিত কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস রয়েছে।
কম্পিউটার ভাইরাস এর তালিকা:
- SQL Slammer
- Storm Worm
- Code Red
- Anna Kournikova virus
- Tinba
- Sasser and Netsky
- Morris Worm
- CryptoLocker
- MyDoom
- Nimda
- Welchia
- Shlayer
- Stuxnet
- Conficker
এন্টিভাইরাস এর তালিকা:
- McAfee
- G-Data Antivirus
- Kaspersky Premium
- Norton 360
- Bitdefender Antivirus Plus
- Avira Prime
- Webroot SecureAnywhere AntiVirus
- Trend Micro Antivirus+ Security
- TotalAV
- F-Secure Antivirus SAFE
এন্টিভাইরাস কি
কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা জানার পর এন্টিভাইরাস কি এই বিষয়ে আমাদের জানা প্রয়োজন। এন্টিভাইরাস হলো: এমন একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারকে ভাইরাস এর সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে। এটা যে শুধু কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখে এমনটা নয়, এটা কম্পিউটারে থাকা ভাইরাস সনাক্ত করে এবং তার চিরস্থায়ীভাবে রিমুভ করে দেয়। অ্যান্টিভাইরাস
গুলো থাকার কারণে আমরা আমাদের কম্পিউটারে বিভিন্ন ডাটা, তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো সংরক্ষণ করা সহজ হয়। সাইবার অপরাধীরা আমাদের গোপনীয়তা ট্র্যাক করতে পারে না। বড় বড় টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলো এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার টুল গুলো তৈরি করে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য। পুরো আলোচনা থেকে আশা করি অ্যান্টিভাইরাস কি তার সংজ্ঞা জেনেছেন।
এন্টিভাইরাস কিভাবে কাজ করে
কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা এই আর্টিকেলে আমরা এখন জানবো এন্টিভাইরাস কিভাবে কাজ করে ? অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করার সঠিক কিনা ? অ্যান্টিভাইরাস এই সফটওয়্যার টুল গুলোর মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারে যত ধরনের ভাইরাস রয়েছে সবগুলো ধরা পড়বে। এই সফটওয়্যার গুলো এতটাই শক্তিশালী যে তারা একবার কম্পিউটার স্ক্যান করে বলে দিতে পারবে
আরো পড়ুনঃ- কম্পিউটার ভাইরাস কি - ১০ টি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম
আপনার কম্পিউটার কোন কোন জায়গায় ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। যেহেতু কম্পিউটার ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই, সাইবার অপরাধীরা এই কম্পিউটার ভাইরাসগুলো প্রতিনিয়ত তৈরি করছে। এর বিপরীতে উক্ত কম্পিউটার ভাইরাস গুলোকে প্রতিহত করার জন্য অ্যান্টিভাইরাস গুলো প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। এজন্য আপনি যখন অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করবেন তার সর্বশেষ
আপডেট ভার্সন টি ব্যবহার করবেন। অ্যান্টিভাইরাস গুলো এতটাই শক্তিশালী যে, যদি আপনার পিসিতে malware থাকে তাহলে সেটি আজীবনের জন্য রিমুভ করে দেয়। এবং সেটি যেন পুনরায় চালু হতে না পারে সেজন্য ব্লক করে দেয়। এজন্য বর্তমানে কম্পিউটারের সিকিউরিটি ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার জন্য অ্যান্টিভাইরাস হতে পারে সর্বোত্তম অপশন।
এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার এর কাজ কি
কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা এই আর্টিকেলে আমরা এন্টিভাইরাস কি ? এন্টিভাইরাস কিভাবে কাজ করে ? আমরা জেনেছি। এখন আমরা জানবো এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার এর কাজ কি বা অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার এর সুবিধা গুলো কি কি সে সকল বিষয়ে।
হ্যাকিং থেকে সুরক্ষা: বর্তমানে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডাটা বা তথ্য মনের অজান্তে চলে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয় যাকে আমরা হ্যাকিং বলে চিনে থাকি। সাইবার সন্ত্রাসীদের নিকট থেকে নিজের ডিভাইসকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে আপনি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করতে পারেন। তবে বলে রাখা ভালো ফ্রী এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার টুল গুলোর চাইতে প্রিমিয়াম এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার টুল গুলো অনেকটা নিরাপদ।
ইমেইল কে সুরক্ষা প্রদান: এটা বর্তমানে শুধু যোগাযোগের বাহন এমনটা নয়, প্রফেশনাল ডকুমেন্ট শেয়ার করা হয় এই ইমেইলের মাধ্যমে। বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য, এসএমএস, ব্যাংকিং ইনফরমেশন সহ আরো অন্যান্য তথ্য এই ইমেইলের মাধ্যমে শেয়ার করা হয়। কম্পিউটার ভাইরাস এতটাই শক্তিশালী যে এর মাধ্যমে আপনার ইমেইল ও আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যার গুলো ইন্সটল করা থাকলে এগুলো আপনার ইমেইলে থাকা তথ্যগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
র্যানসমওয়ার ঝুকি থেকে রক্ষা: র্যানসমওয়ার এটি একটি malware, যা কম্পিউটার ঢুকে ব্যবহারকারীর কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমকে অচল করে দিতে পারে। কম্পিউটার স্লো চলে, কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা গুলো লক্ষ্য করা যায়। তাই এ ধরনের ঝুঁকি থেকে কম্পিউটার কে রক্ষা করতে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডেটা নিরাপত্তা: আমাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় ডেটা সেভ করে রাখি। কিন্তু প্রশ্ন হল আমরা যে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে সেভ করা ডেটা বা তথ্য কে শতভাগ নিরাপদ মনে করি, এটা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য ? আমরা আমাদের কম্পিউটার বা মোবাইলে আর্থিক লেনদেনের তথ্য, ব্যাংকিং ইনফরমেশন, বিশেষ কোড নাম্বার, পাসওয়ার্ড কত
কিছুই না সেভ করে রাখি। কিন্তু কম্পিউটার ভাইরাস কম্পিউটারে ঢুকে এ সকল ডাটা বা তথ্যগুলো রিমুভ করে দেয় নতুবা এগুলো হ্যাকারদের কাছে চলে যায়। এজন্য আমাদের কম্পিউটারে থাকা সেন্সিটিভ তথ্যগুলোকে শতভাগ নিরাপদ রাখতে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো ইনস্টল করার প্রয়োজন হয়। এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো কম্পিউটারে থাকা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা প্রদান করে।
নিরাপদ ইন্টারনেট ব্রাউজিং: ইন্টারনেট ব্যবহার করে না এমন কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর বেশিরভাগ কম্পিউটার ভাইরাস প্রবেশ করে অ-নিরাপদ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার কারণে। অর্থাৎ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং করার কারণে। আর আমরা এটাও বুঝতে পারছি না দূর থেকে কেউ আমাদের কম্পিউটারকে ট্র্যাক করছে কিনা। আপনি যদি একটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার টুল ইনস্টল করে রাখেন তাহলে আপনি নিরাপদে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতে পারবেন।
আরো পড়ুনঃ- জিপিএস কাকে বলে - জিপিএস এর কাজ কি
সার্ভারে নিরাপত্তা প্রদান: আপনারা যারা ওয়েবসাইটে কাজ করেন তারা জানেন malware দ্বারা কি পরিমান আক্রান্ত হচ্ছে। এজন্য ওয়েবসাইটে থাকা আপনার তথ্যগুলোকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে এবং নির্বিঘ্নে যেন ওয়েবসাইট চালানো যায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি ইন্সটল করা খুবই প্রয়োজন। আমি আশা করি আপনি এতক্ষণে এন্টিভাইরাস এর কাজ কি ? তা জেনে গেছেন।
১০ টি এন্টিভাইরাসের নাম
আমি এখন আপনাদের সামনে গোটা বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত ১০ টি এন্টিভাইরাসের নাম ও এর ব্যবহার তুলে ধরব। আশা করি ঐ সকল এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার এর মাধ্যমে আপনি উপকৃত হতে পারবেন।
সোফোস হোম প্রিমিয়াম:
ফোন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ, র্যানসামওয়্যার, দূরবর্তী স্থান থেকে কম্পিউটার ট্র্যাক, ক্ষতিকর URL শনাক্ত করে নিখুঁতভাবে কাজ করতে সক্ষম। ব্যবহারকারীদের নিকট এই অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাস এর মত অধিক জনপ্রিয়।
ওয়েবরুট সিকিউর অ্যানিহয়ার:
এই এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার এর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এটা ব্যবহারকারীদের নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় যেমন: দ্রুত স্ক্যান করতে পারে, র্যানসমওয়ার ঝুকি সনাক্ত করতে পারে। যদি কেউ কম্পিউটার ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতি সাধন করার চেষ্টা করে তাহলে ওয়েবরুট সিকিউর অ্যানিহয়ার অ্যান্টিভাইরাসটি তার শনাক্ত করে বিপরীত দিকে তার ক্রিয়া গুলো ধাবিত করতে পারে।
জি-ড্যাটা অ্যান্টিভাইরাস:
এক্সপ্লেইট, ব্যাংকিং ট্রোজান, স্প্যাম ফিল্টারে জি-ড্যাটা অ্যান্টিভাইরাস এই সফটওয়্যারটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে এ সফটওয়্যার এর ব্যবহার তুলনামূলক অনেক বেশি।
ম্যালওয়্যারবাইটস প্রিমিয়াম:
এই এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি বিভিন্নভাবে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিয়ে আসছে যেমন: ইউআরএল ব্লকিং, র্যানসামওয়্যার সুরক্ষা। এটি ভাইরাসের আচরণবিধির লক্ষ্য করে সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
ম্যাকাফি অ্যান্টিভাইরাস প্লাস:
- এটা ইনটেল কোম্পানির প্রোডাক্ট
- একাধিক ডিভাইসে এই সফটওয়্যার টুল ব্যবহার করা যায়।
- এটা শক্তিশালী ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
- ডিভাইসে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় ফিচার।
- অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ব্যবহারকারীরাও এর সুবিধা ভোগ করতে পারে।
ক্যাসপারস্কি অ্যান্টিভাইরাস:
- এটা গোপনীয়তা রক্ষা করতে শতভাগ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- দ্রুত ভাইরাস সনাক্ত করতে পারে ক্যাসপারস্কি অ্যান্টিভাইরাস।
- এটা বিনামূল্যে অথবা প্রিমিয়াম ( টাকা খরচ করে ) ব্যবহার করা যায়।
নরটন অ্যান্টিভাইরাস প্লাস:
এই অ্যান্টিভাইরাস টুল এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক আকর্ষণীয় ফিচার যেমন: পাসওয়ার্ড সুরক্ষা, ফায়ারওয়াল ইত্যাদি। যা আপনার কম্পিউটার কে শক্তিশালী ভাইরাস থেকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।
বিটডিফেন্ডার টোটাল সিকিউরিটি:
- ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস টুল এটি।
- এটি ফিশিং সাইট এবং ক্ষতিকর ইউআরএল থেকে কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখে।
- এটি ভিপিএন এর সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
এসেট এনওডি৩২:
এই এন্টিভাইরাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: কম্পিউটার থেকে malware গুলো সম্পূর্ণ রিমুভ করা এবং ভাইরাসের যেকোনো ধরনের পাল্টা আক্রমণ প্রতিরোধ করা। এই ভাইরাস টি পুরো ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
টেন্ড মাইক্রো অ্যান্টিভাইরাস+সিকিউরিটি:
এটি কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি যে কোন ধরনের আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারদর্শী। আপনি যদি এই অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার টুলটি ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনাকে প্রতিমাসে ৩০ মার্কিন ডলার পেইড করতে হবে।
দুটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার এর নাম লেখ
প্রায় বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষায় দুটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার এর নাম লেখ এরকম প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। সেই অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো হলো:
- এফ-সিকিউর অ্যান্টিভাইরাস,
- এমসিসফট অ্যান্টিম্যালওয়্যার
- সাইল্যান্স স্মার্ট অ্যান্টিভাইরাস
এন্টিভাইরাস নিয়মিত কি করা উচিত
আপনারা অনেকে প্রশ্ন করেছেন যে, এন্টিভাইরাস নিয়মিত কি করা উচিত ? শুধু আপনার কম্পিউটারে এন্টিভাইরাস ইন্সটল করে রেখে দিলেই হবে না, এটা সময়ের সাথে আপডেট করা প্রয়োজন। কারণ, এখন নতুন নতুন ভাইরাসের আর্বিভাব হচ্ছে যা কম্পিউটার ডিভাইসের ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্ট্রং পাস-ওয়ার্ডঃ- আপনার কম্পিউটার অথবা অন্যান্য ফাইলে তথ্য গুলো সুরক্ষার জন্য একটি স্ট্রং পাসওয়ার্ড এর প্রয়োজন হবে। এতে করে হ্যাঁকারা আপনার আপনার গোপন তথ্য ছিনিয়ে নিতে পারে না। সাথে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করে রাখবেন। পাসওয়ার্ড হতে হবে যেমনঃ- khf7#!rD এর রকম সব ধরণের ক্যারেক্টার যেন আপনার পাসওয়ার্ড এর মধ্যে থাকে।
Firewaleঃ- এটা অদৃশ্য সুরক্ষার দেয়াল বলা চলে। যেখানে সন্দেহজনক ট্রাফিক ব্লক করে দেওয়া হয়। এর ফলে আপনার ডিভাইস সাইবার হুমকি, হ্যাঁকারদের থেকে সুরক্ষিত থাকবে। এর সুবিধা হলোঃ- নিরাপদে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা যায়, তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, হ্যাঁকারদের থেকে রক্ষা করে।
Scane করাঃ- শরীরে কোন রোগ হলে ডাক্তার যেমন পুরো দেহ চেক আপ করে। অনুরুপভাবে, আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে লুকিয়ে থাকা ভাইরাস গুলো শনাক্ত করার জন্য Scane করার প্রয়োজন পড়ে। অন্তত, সপ্তাহে ১ বার Full Scan করবেন, সময় ৩/৪ ঘন্টা লাগতে পারে, এজন্য রাতে ঘুমানোর সময় Full Scan করলে ভালো হয়। সময় হলে ১/২ দিন পর পর Quick Scan করবেন, কমপক্ষে ৫ - ১০ মিনিট সময়ে লাগতে পারে। Pendrive, USB Devices, Memory Card এগুলো ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই স্ক্যান করে নিবেন।
Quarantineঃ- করোনা ভাইরাস চলাকালীন সময়ে Quarantine শব্দটির সঙ্গে আমরা সকলে পরিচিত ছিলাম। যার বাংলা অর্থ হলো আইসোলেশন। এখানে সন্দেহ জনক ভাইরাস শনাক্ত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে Quarantine করে দেওয়া হয়, যাতে তা অন্যান্য ফাইলের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে। যেভাবে একজন করোনা রোগীকে Quarantine এ আলাদা ভাবে রাখা হতো, যেন করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে।
অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ডিলিটঃ- আমাদের মোবাইল বা কম্পিউটারে এমন অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো আমাদের ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। হ্যাঁকাররা এই সুযোগটি গ্রহণ করে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়। অনেক সময় আমরা ফ্রি স্ক্যানার, ফ্রি গেম এগুলো ব্যবহার করে থাকি যার মধ্যে লুকানো থাকে অ্যাডওয়্যার, যা আপনার মনের অজান্তে বিভিন্ন ডাটা বা তথ্য ট্র্যাক করতে পারে।
Real-Time Protectionঃ- এটা নিরাপত্তা প্রহরীর মতো কাজ করে। ধরুণ, আপনি কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেন সেখানে যদি কোন ধরণের ভাইরাস থাকে তাহলে এটি সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে সিগন্যাল পাঠাবে এবং নিজ হতে তা ব্লক করে দিবে। এতে করে আপনার ডিভাইস সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। এর সুবিধা হলোঃ- কোন ভাইরাস প্রবেশের আগেই সঙ্গে সঙ্গে তা ব্লক করে দেওয়া হয়, Freely ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা যায়, গোপনীয়তা রক্ষা হয়।
আরো পড়ুনঃ- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কাকে বলে - প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব
তথ্য ব্যাক আপ করে রাখাঃ- কোন কারণে আপনার কম্পিউটার থেকে তথ্য হারিয়ে গেলে তা ব্যাক-আপ করে রাখা হলে তা পুনরায় ফিরে পাওয়া যায়। এখন কিভাবে ব্যাক-আপ করে রাখবেন এই বিষয়ে ইউটিউবে একটি টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখে নিতে পারেন।
অ্যান্টিভাইরাস আপডেটঃ- এখন নতুন নতুন ভাইরাসের জন্ম হচ্ছে। আপনি যদি পুরাতন ভার্সনের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার টুল ব্যবহার করেন তাহলে সেটি নতুন নতুন ভাইরাস গুলো চিনতে পারবেন না। এজন্য এন্টিভাইরাস টুলের আপডেট ভার্সন ব্যবহার করা উচিত। আপনার কম্পিউটারেঃ- এন্টিভাইরাস সেটিংস অপশনে যান - Automatic Updates অপশন অন করে রাখুন। তাহলে যখনই আপডেট আসবে তখন অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার টুল আপডেট হয়ে যাবে।
অটো ভাইরাস কাটার সফটওয়্যার
অটো ভাইরাস কাটার সফটওয়্যার তালিকা গুলো আমরা এখন জানবঃ-
- Microsoft Defender (Windows Defender)
- AVG Internet Security
- McAfee Total Protection
অটো ভাইরাস কাটার সফটওয়্যার ডাউনলোড
- Sophos Home Premium
- ESET NOD32 Antivirus
- Avast Premium Security
- Malwarebytes Premium
কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা ( FAQ )
১) এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো কোথায় হালনাগাদ করা যায় ?
উত্তরঃ- এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো ইন্টারনেটে হালনাগাদ করা যায়।
২) এন্টিভাইরাস এক ধরনের কি ?
উত্তরঃ- এন্টিভাইরাস হচ্ছে এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম।
৩) এন্টিভাইরাস কি ধরনের সফটওয়্যার ?
উত্তরঃ- এটা কম্পিউটার ভাইরাস রিমুভ করার সফটওয়্যার।
৪) এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার কি ?
উত্তরঃ- এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার হচ্ছে একটা প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে কম্পিউটার ভাইরাস নির্মূল করা হয়।
৫) ভাইরাস ক্লিনার অ্যাপ ?
উত্তরঃ- নর্টন ক্লিন, SD Maid, সিক্লিনার, Droid Optimizer ইত্যাদি
লেখকের মন্তব্য
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ এই আর্টিকেলে আমি কম্পিউটার ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস এর তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি আপনার কাক্ষিত উত্তরটি পেয়েছেন। কম্পিউটার ভাইরাস থেকে নিজের ডিভাইস কে নিরাপদ রাখতে হলে এন্টিভাইরাসের কোন বিকল্প নেই। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি এন্টিভাইরাসের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবণ করতে পেরেছেন।
প্রযুক্তি রিলেটেড এই ধরণের আর্টিকেল আরো পেতে আামদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। প্রযুক্তি রিলেটেড প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমি আরো আর্টিকেল পাবলিশ করব। সকলের মঙ্গল কামনা করে এখানে শেষ করছি। 01.04.2026



আপনি পদ্মা মেইলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url